Hill stations with sea beach

সাগর-পাহাড় মিলছে যেখানে, গন্তব্য হোক এমনই স্থান, তালিকায় থাক দেশের তিন সেরা ঠিকানা

ভারতের নানা প্রান্তে নানা রাজ্যে এমন অনেক ঠিকানা রয়েছে, যেখানে পাহাড়ের গায়ে আছড়ে পড়ে সাগরের উত্তাল জলরাশি। আগামী দিনে বেছে নিতে পারেন এমনই ঠিকানা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ মে ২০২৬ ১৯:৫৭
Share:

সাগর-পাহাড় যেন মিলেমিশে যায়। গোয়ার ভাগাতোর সৈকত। ছবি:সংগৃহীত।

সমুদ্রের এক নিজস্বতা আছে, আছে সৌন্দর্য। অনবরত সেখানে ঢেউ ওঠে, আবার সেই ঢেউ তটে এসে মিলিয়ে যায়। আবার পাহাড়, পাহাড়ের মতো সুন্দর। সেই রূপে আছে স্নিগ্ধতা, আছে গাম্ভীর্য।

Advertisement

তবে যখন সাগর-পাহাড় মিলে যায়, তৈরি হয় আর এক রূপ। ভারতের নানা প্রান্তে নানা রাজ্যে এমন অনেক ঠিকানা রয়েছে, যেখানে পাহাড়ের গায়ে আছড়ে পড়ে সাগরের উত্তাল জলরাশি। আগামী দিনে বেছে নিতে পারেন এমনই ঠিকানা।

ভারকালা

Advertisement

খাড়াই পাহাড় সাগরের অপূর্ব মেলবন্ধন দেখা যায় কেরলের ভারকালা সৈকতে।

এক সময় এই সৈকতের তেমন পরিচিতি না থাকলেও, ভ্রমণপিপাসুদের কাছে জনপ্রিয় কেরলের সৈকতটি। নিরিবিলি পরিবেশ বিদেশি পর্যটকদের মনে জায়গা করে নিয়েছে এই স্থান।

কথিত আছে, দেবর্ষি নারদ এখানে বল্কল ত্যাগ করেছিলেন। ভল্লকলম থেকেই এ স্থানের নামকরণ হয়েছে ভারকালা। মালয়ালম ভাষায় 'ভল্লকলম' শব্দের অর্থ বল্কল। পাহাড়, নীলচে সবুজ সাগর, সবুজ নারকেল সারি এই সৈকতকে অচিরেই জনপ্রিয় করে তুলেছে। ক্লিফ, অর্থাৎ পাহাড়ের খাড়া অংশ সমুদ্রতটের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে। পাহাড়ের উপর থেকে দেখা বেলাভূমি যেন ক্যালেন্ডারের ছবি।

কোথায় থাকবেন?

সৈকতের ধারেই নানা মানের হোটেল এবং রিসর্ট রয়েছে। সেখানে মিলবে অত্যাধুনিক পরিষেবা।

কী ভাবে যাবেন?

কেরলের বড় শহর তিরুঅনন্তপুরম। কলকাতা-সহ দেশের যে কোনও বিমানবন্দর থেকে সেখানে পৌঁছনোর বিমান মিলবে। তিরুঅনন্তপুরম থেকে ভারকালা ৪২ কিলোমিটার সড়কপথে। যাওয়ার জন্য গাড়ি ভাড়া পাওয়া যাবে। ট্রেনে তিরুঅনন্তপুরম বা এর্নাকুলাম গিয়ে সেখান থেকেও গাড়িতে পৌঁছনো যায়।

রাধানগর

আন্দামানের হ্যাভলক দ্বীপের রাধানগর সৈকত ছবির মতোই সুন্দর। ছবি:সংগৃহীত।

সবুজ পাহাড় আর নীল জলরাশি— মিহি বালুতটকে ঘিরে রেখেছে ছোট বড় ম্যানগ্রোভ। সৌন্দর্যের বিচারে রাধানগর এগিয়ে অন্য অনেক সৈকতের থেকে। ভারতের অন্যতম সুন্দর সমুদ্রসৈকত আন্দামানের হ্যাভলক দ্বীপের রাধানগর বিচ। সেখানেই পড়ন্ত বিকেলের রূপ উপভোগে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন পর্যটকেরা। সমুদ্রসৈকতে দৃশ্যমান ঢেউখেলানো পাহাড়-সারি। আকাশে হরেক রং ছড়িয়ে সেই পাহাড়ের আড়ালে ডুবে যায় সূর্য। হ্যাভলক থেকে ঘুরে নেওয়া যায় কালাপাথর বিচ, এলিফ্যান্টা বিচ। এখানে স্কুবা ডাইভিংয়ের মতো জলক্রীড়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

কোথায় থাকবেন?

হ্যাভলক একটি ছোট দ্বীপ। সেখানে একাধিক মানের হোটেল এবং রিসর্ট রয়েছে।

কী ভাবে যাবেন?

বিমানে পোর্টব্লেয়ার বিমানবন্দর। সেখান থেকে জলপথে আসতে হয় হ্যাভলকে।

ভাগাতোর

উত্তর গোয়ার ভাগাতোর সৈকতটিও জুড়তে পারেন ভ্রমণ তালিকায়। ছবি:সংগৃহীত।

পাহাড়ের ধারে নারকেল সারি। সৈকতে এসেছে সাগরের ঢেউ ভাঙছে অনবরত। ভাগাতোর সৈকতের আকর্ষণ চিরকালীন। উত্তর গোয়ার ভাগাতোর নামক জনপদে রয়েছে সৈকতটি। পরিচ্ছন্ন, ক্যানভাসে আঁকা ছবির মতোই সুন্দর। সৈকতটি দু’ভাগে বিভক্ত, বড় এবং ছোট ভাগাতোর। ছোট ভাগাতোরে রয়েছে পাহাড়ি ক্লিফ বা খাড়াই অংশ। এই স্থানটিতে পর্যটকেরা হইহল্লা, খাওয়াদাওয়া করতে পছন্দ করেন। সৈকত জুড়ে রয়েছে একাধিক রেস্তরাঁ, যেখানে গোয়ান খাবার চেখে দেখা যায়। রয়েছে একাধিক দোকানও।

কোথায় থাকবেন?

সৈকতকে কেন্দ্র করে একাধিক হোটেল, রিসর্ট তৈরি হয়েছে। রয়েছে হোম স্টেও। ফলে থাকার অসুবিধা নেই।

কী ভাবে যাবেন?

সবচেয়ে সুবিধাজনক উপায় হল বিমান। গোয়ায় দু’টি বিমানবন্দর রয়েছে মনোহর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ডাবোলিম বিমানবন্দর। এই সৈকতটি মনোহর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কাছে হবে। ট্রেনে এলে নামতে হবে মডগাঁও স্টেশনে। সেখান থেকে দূরত্ব ৫০ কিলোমিটারের মতো।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement