Summer Hiking Destination

হাঁটা পথেই প্রকৃতি চিনুক খুদে, গরমের মরসুমে সন্তানকে নিয়ে কোথায় যেতে পারেন?

হাঁটা পথেই প্রকৃতি চিনুক খুদে, গরমের মরসুমে সন্তানকে নিয়ে কোথায় যেতে পারেন? প্রকৃতিতে এমন অনেক সুন্দর স্থান আছে, যে রূপ উপভোগের জন্য হাঁটা ছাড়া অন্য উপায় নেই। সেখান থেকেই এসেছে হাইকিং, ট্রেকিং-এর ভাবনা। এমন কোথায় সন্তানকে নিয়ে যেতে পারেন এই গরমে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ মে ২০২৬ ০৯:০২
Share:

ঘুরে বেড়ানো যায় হেঁটেই। শুরুটা হোক সংক্ষিপ্ত এবং সহজ পথে। ছবি: সংগৃহীত।

কারও আনন্দ প্রকৃতি দর্শনে, কারও খুশি পথ চলাতে। ভ্রমণপিপাসুদের অনেকেই মনে করেন, প্রকৃতির কোলে না হাঁটলে, সেই রূপ তেমন ভাবে উপভোগ করা যায় না। প্রকৃতিতে এমন অনেক সুন্দর স্থান আছে, যে রূপ উপলব্ধির জন্য হাঁটা ছাড়া গতি নেই। সেখান থেকেই এসেছে হাইকিং, ট্রেকিং-এর ভাবনা।

Advertisement

হাইকিং হয় পথ ধরে। সেই পথ বাঁধানো হতেও পারে না-ও পারে। তাতে চড়াই-উৎরাই থাকলেও বিপদ সংকুল হয় না সাধারণত। তবে ট্রেকিংয়ে যে শুধু পথ থাকবে, এমনটা নয়। সেখানে ছোটখাটো পাহাড় পেরিয়ে যেতে হতে পারে, বিপদসংকুল নদী, গিরিখাত সবটাই পড়তে পারে পথে।

খুদেকে নিয়ে শুরুটা করতে চাইলে ট্রেকিংয়ের বদলে বেছে নিতে পারে সহজ হাইকিংও। সেই তালিকায় কী কী রাখতে পারেন?

Advertisement

জয়ন্তী, পুকুরি

জয়ন্তী থেকে অরণ্য পথে হেঁটে পুকুরি পর্যন্ত যেতে পারেন। ছোটরাও এই পথে হাঁটতে পারবে সহজেই। —নিজস্ব চিত্র।

কেউ বলেন পুখরি, কেউ আবার পুকুরি। ডুয়ার্সের জঙ্গল পথে হেঁটে পৌঁছোনো যায় সেখানে। গাছগাছালি ঘেরা স্থানে রয়েছে ছোট্ট জলাশয়। পুকুরে রয়েছে অসংখ্য মাগুর মাছ। আলিপুরদুয়ারে ভুটান পাহাড়ের কোল ঘেঁষে বয়ে গিয়েছে জয়ন্তী নদী। পাশেই অরণ্য। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য জয়ন্তীর খ্যাতি। জয়ন্তী থেকে পুকুরি যেতে হলে মোটামুটি ২-৩ কিলোমিটারের মতো। জয়ন্তী গ্রাম থেকে স্থানটির দূরত্ব ৪ কিলোমিটার। কিছুটা পর্যন্ত গাড়ি যায়। তার পরে শুরু হয়েছে চড়াই। ছোটদের নিয়েও এই পথে দিব্যি হাঁটা যায়। হাঁটতে হাঁটতেই চেনানো যায় গাছগাছালি, প্রজাপতি, পাখি। আরণ্যক পরিবেশের সঙ্গে খুদেকে পরিচিত করার জন্য এই জায়গা হতে পারে আদর্শ। কারণ, এই পথে হাঁটা বিশেষ কঠিন নয়। ছোটরাও পারবে। তা ছাড়া, প্রচুর মাছ দেখে তারা আনন্দও পাবে। ছোট্ট হাইকিংয়ে পরখ করে নিতে পারেন খুদের হাঁটাহাটির ক্ষমতা কতটা। যদি সে সহজেই পথ পার করতে পারে, তা হলে ছোট মহাকাল ট্রেকিংয়ের কথাও ভাবতে পারেন। জয়ন্তী থেকেই যাওয়া যায়।

জয়ন্তী গ্রামটি সুন্দর এবং শান্ত। এখান থেকে আশপাশের অরণ্যে সাফারি করা যায়। কাছেই রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার। ভাগ্য ভাল থাকলে, সেখান থেকে হাতি, বাইসন দেখার সুযোগ মেলে।

রাবডানৎসে রুইনস

এক সময়ে সিকিমের চোগিয়াল রাজাদের রাজধানী ছিল রাবডানৎসে। নিরাপত্তার খাতিরে ইয়কসম থেকে রাবডানৎসেতে রাজধানী স্থানান্তরিত করেছিলেন তেনসুং নামগিয়াল। ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে আজও পাহাড়ের মাথায় স্বমহিমায় বিরাজ করছে সেই স্থান। পাহাড়ের উপরে রয়েছে কিছু ধ্বংসাবশেষ। সযত্নে সাজানো সেই স্থান। কেয়ারি করা ফুলের বাগিচা, ঘন সবুজ ঘাসের গালিচা বড় মনোরম লাগে। মেঘমুক্ত দিনে এখান থেকেই দৃশ্যমান হয় কাঞ্চনজঙ্ঘা।

ঘুরে আসুন রাবডানৎসে রুইনস থেকে। ছবি:সংগৃহীত।

পেলিং বেড়াতে গেলে যাওয়া যায় রাবডানৎসের ধ্বংসাবশেষ দেখতে। আর সেখানে পৌঁছোতে গেলে হাঁটা পথই ভরসা। গাছগাছালি ঘেরা চড়াই পথ উঠে গিয়েছে ধ্বংসাবশেষ পর্যন্ত। পেলিংয়ের সাইট সিইংয়ে যেমন একাধিক ঝর্না আছে, রয়েছে স্কাইওয়াক, তেমনই ঘুরে নিতে পারেন রাবডানৎসে রুইনসও। পথ চড়াই, তবে ধীরে সুস্থে গেলে কঠিন মনে হবে না। ছোটদের নিয়ে এই পাহাড়ি পথে হাঁটতে পারেন। ধীরে সুস্থে ঘোরার জন্য হাতে ২-৩ ঘণ্টা রাখা ভাল। অবশ্যই সঙ্গে রাখুন শুকনো খাবার এবং জল।

ট্রিউন্ড ট্রেক, ম্যাকলয়েডগ়ঞ্জ

ট্রিউন্ড ট্রেকও গরমের জন্য ভাল। ছবি:সংগৃহীত।

হিমাচল প্রদেশের ট্রিউন্ড ট্রেকটি খুব জনপ্রিয়। পাহাড়ের মাথায় ক্যাম্পিংয়ের সুযোগ রয়েছে। একদিনে গিয়ে নেমে আসা কঠিন, তাই ক্যাম্পিং করাটাই বিশ্রামের জন্য ভাল। ম্যাকলয়েডগঞ্জ থেকে ২ কিলোমিটার দূরে ধরমকোট থেকে যাত্রা শুরু হয়। ১৩ কিলোমিটার পথের বেশ কিছু জায়গা বেশ খাড়াই। তবে ট্রেকিংয়ের অভ্যাস থাকলে ৫-৬ ঘণ্টাতেই পৌঁছোনো যেতে পারে। ট্রিউন্ডের চূড়ার সুবিস্তৃত তৃণভূমি এবং সেখান থেকে তুষারাবৃত পাহাড়শৃঙ্গ দেখার অভিজ্ঞতা আজীবনের সঙ্গী হতে পারে। আগে যদি ট্রেকিং-এর অভিজ্ঞতা থাকে, তা হলে ছোটদেরও নিয়ে যাওয়া যেতে পারে এই পথে। অনেক কম-বয়সি ছেলেমেয়েরাও এই ট্রেকে অংশ নেয়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement