Monsoon Travel Destinations

বর্ষায় আরও মায়াবী হয়ে ওঠে দেশের ৭টি জায়গা, বেড়ানোর পরিকল্পনা করে ফেলবেন নাকি?

কোথাও পাহাড়ের ঢালে মেঘের আনাগোনা, কোথাও সতেজ সবুজ অরণ্য আর প্রাণবন্ত জলপ্রপাত—সব মিলিয়ে বর্ষাতেও স্বর্গীয় রূপ ধারণ করে কিছু চেনা বেড়ানোর জায়গা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬ ১৯:২৬
Share:

বর্ষায় কোথায় বেড়াতে যাবেন? ছবি: শাটারস্টক।

বর্ষাকাল কারও কারও কাছে একঘেয়ে বৃষ্টি ঝরার সময় বলে মনে হতে পারে। তবে কেউ কেউ বর্ষাতেই প্রকৃতির আসল রূপ দেখতে বেড়িয়ে পড়েন ব্যাগ কাঁধে। কোথাও পাহাড়ের ঢালে মেঘের আনাগোনা, কোথাও সতেজ সবুজ অরণ্য আর প্রাণবন্ত জলপ্রপাত—সব মিলিয়ে বর্ষাতে স্বর্গীয় রূপ ধারণ করে কয়েকটি চেনা বেড়ানোর জায়গা। দেশের তেমনই ৭টি পর্যটন ক্ষেত্রের নাম জেনে নিন।

Advertisement

প্রায় ৩০০-রও বেশি প্রজাতির বুনো ফুল ফোটায় পুরো উপত্যকাকে দেখলে লাগে রঙিন কার্পেটের মতো। — ফাইল চিত্র।

১. ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স

উত্তরাখণ্ডে হিমালয়ের কোলে অবস্থিত এই ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটটি বছরের অন্য সময়ে বরফে ঢাকা থাকলেও, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—অর্থাৎ বর্ষাকালে জীবন্ত হয়ে ওঠে। এই সময়ে তিন শতাধিক প্রজাতির বুনো ফুল ফুটে থাকায় উপত্যকাটিকে দেখতে লাগে রঙিন কার্পেটের মতো।

Advertisement

২. লোনাভালা ও খাণ্ডালা

মহারাষ্ট্রে পশ্চিমঘাট পর্বতমালার কোলে যমজ হিল স্টেশনটি বর্ষার দিনে মুম্বই এবং পুনের বাসিন্দাদের প্রিয় ঠিকানা। বর্ষা নামলেই এখানকার পাহাড়গুলো ঘন কুয়াশা আর মেঘে ঢেকে যায়। চারপাশের সবুজ উপত্যকা, উপচে পড়া জলপ্রপাত আর ‘ভুষি ড্যাম’-এর মতো জায়গাগুলি এই সময়ে মনোরম দৃশ্যপট তৈরি করে।

মাইলের পর মাইল বিস্তৃত চা বাগানবৃষ্টির জলে ধুয়ে এক অদ্ভুত সতেজ সবুজ রঙ নেয় মুন্নারে। — ফাইল চিত্র।

৩. মুন্নার

‘ঈশ্বরের নিজের দেশ’ কেরলের মুন্নার এমনিতেই সুন্দর, কিন্তু বর্ষায় সেই সৌন্দর্য দ্বিগুণ বেড়ে যায়। মাইলের পর মাইল বিস্তৃত চা-বাগান বৃষ্টির জলে ধুয়ে এক অদ্ভুত সতেজ সবুজ রঙ নেয়। এই সময়ে কুয়াশায় মোড়া পাহাড় আর শান্ত পরিবেশের মুন্নার এক রোম্যান্টিক রূপ দেয়।

৪. চেরাপুঞ্জি ও মৌসিনরাম

পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয় চেরাপুঞ্জি এবং মৌসিনরামে। আর তাই এখানে বেড়াতে এলে বর্ষাতেই আসা উচিত। চারপাশ ঘন সবুজ চাদরে ঢেকে যায় এই সময়ে। পাহাড়ের দিকে তাকালে পর পর চোখে পড়ে অসংখ্য নাম না জানা ঝরনা আর জলপ্রপাত, যারা বর্ষার জলে নবযৌবন ফিরে পায়।

চেরাপুঞ্জিতে গেলে লিভিং রুট ব্রিজ দেখতে ভুলবেন না। — ফাইল চিত্র।

৫. উদয়পুর

রাজস্থান মরুভূমির রাজ্য হতে পারে। কিন্তু সে রাজ্যে ‘হ্রদের শহর’ বলে পরিচিত উদয়পুরের রূপ খোলে বর্ষাকালেই। বৃষ্টির জলে এখানকার পিচোলা হ্রদ, ফতেহ সাগর হ্রদ প্রাণ ফিরে পায়। রাজপ্রাসাদগুলোর উপর মেঘের ছায়া পড়ে। চারপাশের অরাবলী পর্বত আরও সবুজ হয়। সব মিলিয়ে উদয়পুর রাজস্থানের সবচেয়ে রোমান্টিক গন্তব্যে পরিণত হয় বর্ষাকালে।

৬. কুর্গ

দক্ষিণ ভারতের ‘স্কটল্যান্ড’ বলা হয় কর্নাটকের কুর্গকে। বর্ষাকালে কফি বাগান, মশলার বাগিচা আর অরণ্য আরও ঘন হয়ে ওঠে। অবিরাম বৃষ্টি, চারপাশের জলপ্রপাতের গর্জন আর কুয়াশাচ্ছন্ন পাহাড়ি রাস্তা কুর্গকে মায়াবী রূপ দেয়। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য বর্ষায় কুর্গ এক দারুণ অভিজ্ঞতার সুযোগ দিতে পারে।

অবিরাম বৃষ্টি, চারপাশের জলপ্রপাতের গর্জন আর কুয়াশাচ্ছন্ন পাহাড়ি রাস্তা কুর্গকে মায়াবী রূপ দেয়। — ফাইল চিত্র।

৭. মাণ্ডু

বিন্ধ্য পর্বতের মালভূমির ওপর অবস্থিত এই প্রাচীন ঐতিহাসিক শহরটি কবি ও রাজাদের প্রিয় ছিল এক কালে। এরও আসল রূপ ফুটে ওঠে বৃষ্টি হলেই। পাহাড়ের চূড়ায় রানি রূপমতীর প্রাসাদ থেকে নিচে বয়ে চলা নর্মদা নদী আর চারপাশের সবুজ উপত্যকার উপর ভেসে যাওয়া মেঘ দেখতে দেখতেই সময় কেটে যায়। বর্ষায় ভিজে যাওয়া এখানকার প্রাচীন রাজপ্রাসাদ, দুর্গ আর সমাধিগুলিও অদ্ভুত স্নিগ্ধ রূপ নেয়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement