Tatanagar Weekend Destination

কলকাতা থেকে ঘণ্টা তিনেকের দূরত্বেই পাহাড়, জলাধার, অরণ্য হোক সপ্তাহশেষের গন্তব্য

কলকাতা থেকে দিন দুই-তিনেকের ছুটিতে কোথাও যেতে চান? চলুন এক শিল্পনগরীতে। এই শহরের নানা জায়গায় রয়েছে দ্রষ্টব্য স্থান। কী ভাবে সাজাবেন ভ্রমণসূচি?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:২৮
Share:

পাহাড় ঘেরা জলাধার, শহর, মিউজ়িয়াম হোক শীতের গন্তব্য। ডিমনা লেক। ছবি: সংগৃহীত।

বাংলা নয়, ঝাড়খণ্ড। ভোরের ট্রেনে চাপলে, চড়া রোদ ওঠার আগেই পৌঁছে যাবেন সেখানে। ঝাঁ চকচকে শহর। তবে তার আনাচ-কানাচেই রয়েছে ঘুরে নেওয়ার নানা জায়গা। আছে ডিমনা লেক, জুবিলি পার্ক, দলমা পাহাড় এবং অভয়ারণ্য।

Advertisement

এখনও যদি টাটানগর না ঘোরা হয়ে থাকে, সপ্তাহশেষে বেরিয়ে পড়ুন সেখানেই। শহরের ব্যস্ততা, অরণ্যের নির্জনতা— এই সফরে মিলবে এমনই বৈপরীত্য। ডিমনার বুকে স্পিড বোটে চেপে সাক্ষী থাকতে পারবেন এক মনোরম সূর্যাস্তের।

টাটানগরের আর এক নাম জামশেদপুর। জামশেদজি টাটার সঙ্গে জড়িয়ে এই স্থানের নাম। রেলস্টশন অবশ্য টাটানগর জংশন। শিল্পাঞ্চল এলাকা। রাস্তাঘাট সবই ঝকঝকে। বেশ বড় শহর। স্টেশনের বাইরেই মিলবে ই-স্কুটার। চাইলে দিনভর স্কুটার ভাড়া করে ঘুরে নিতে পারেন শহরটা।

Advertisement

তবে তাড়াহুড়ো না থাকলে হাতে দিন তিনেক সময় রাখুন। ডিমনা, ভুবনেশ্বরী মন্দির, চান্ডিল ড্যাম, মিউজ়িয়াম, জুবিলি পার্ক-সহ এই শহরে একাধিক ঘোরার জায়গা রয়েছে। সাকচি এই শহরের খুব জনবহুল স্থান। সেখানে হোটেলও আছে। বিষ্টুপুর বা সাকচিতে থাকলে শহর ঘোরা সহজ হবে, কারণ এখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল।

গাড়ি ভাড়া করে বেরিয়ে পড়ুন শহরের আনাচ-কানাচ দেখতে। সারা দিনই লেগে যাবে। কী কী ঘুরবেন?

ভুবনেশ্বরী মন্দির

ছোট্ট পাহাড়ের মাথায় ভুবনেশ্বরী মন্দির। ছবি: সংগৃহীত।

টাটা কলোনিতে ভুবনেশ্বরী পাহাড়ের মাথায় দক্ষিণী নির্মাণশৈলীতে তৈরি হয়েছে ভুবনেশ্বরী মন্দির। মন্দির পর্যন্ত যেতে অনেকগুলি সিঁড়ি চড়তে হয়। মন্দিরে পূজিত হন ভুবনেশ্বরী দেবী। শান্ত পরিবেশ মন ভাল করে দেয়। পাহাড়ের মাথার এই মন্দির থেকে শহরের অনেকটা দৃশ্যমান হয়।

হাডকো লেক

মন্দির থেকে আড়াই কিলোমিটার দূরেই রয়েছে উদ্যান ঘেরা জলাশয়। জায়গাটি সাজানো-গোছানো। শীতের দিনে এখানে পিকনিক হয়। ঘুরে নিতে পারেন এই জায়গাটিও।

ডিমনা লেক

ঘুরে নিন ডিমনা লেক। —নিজস্ব চিত্র।

সাকচি থেকে ডিমনা লেকের দূরত্ব ৯ কিলোমিটার। টাটানগর স্টেশন থেকে দূরত্ব ১৭ কিলোমিটার। শহর থেকে একটু দূরে, দলমা পাহাড়ের নীচে রয়েছে ডিমনা লেক। শীতের দিনে অবশ্য লেকের ধারে স্থানীয়েরা পিকনিক করতে আসেন। ডিমনা লেকের পাশ দিয়ে বাঁধানো রাস্তা চলে গিয়েছে। সেখান দিয়ে হেঁটে হ্রদের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। তবে সবচেয়ে উপভোগ্য হবে বিকেলের দিকে স্পিডবোটে চেপে বসা। পুরো হ্রদটি এক পাক ঘুরিয়ে আনে স্পিডবোট।

রুশি মোদি সেন্টার অফ এক্সেলেন্স

রুশি মোদি সেন্টার অফ এক্সেলেন্স ঘুরে নিতে পারেন। ছবি:সংগৃহীত।

শহরের প্রাণকেন্দ্রে রয়েছে এই মিউজ়িয়াম। কী ভাবে জামশেদজি টাটা অরণ্যের মাঝে এই ইস্পাতনগরী গড়ে তুলেছিলেন, তার নথিপত্র এবং ছবি রয়েছে এখানে। টাটা গোষ্ঠীর ভূতপূর্ব চেয়ারম্যান রুশি মোদীর নামাঙ্কিত ভবনটি দেখার মতো। সাজানো-গোছানো উদ্যান, আধুনিক শৈলীতে তৈরি ভবন দ্রষ্টব্যের তালিকায় রাখতে পারেন।

জুবিলি পার্ক

জুবিলি পার্কটি এই শহরের অন্যতম আকর্ষণ। ছবি: জামশেদপুরসিটি

জামশেদপুর বা টাটানগর শহরের অন্যতম আকর্ষণই হল জুবিলি পার্ক। ঢেউ খেলানো এলাকায় বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে কেয়ারি করা বাগান। রঙিন আলো, ফোয়ারা। সন্ধ্যায় আলো জ্বলে উঠলে সৌন্দর্য বেড়ে যায় বহু গুণ। পাশেই রয়েছে জ়ুলজিক্যাল পার্ক।

জুবিলি পার্ক এবং রুশি মোদি সেন্টারটি কাছাকাছি। এই দুই জায়গা একসঙ্গে ঘুরতে পারেন।

চান্ডিল

চান্ডিল ড্যাম। ছবি: গ্লিম্পস অফ জামশেদপুর

রাতটা টাটানগরে কাটিয়ে পরের দিন চলে যেতে পারেন প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে চান্ডিল ড্যাম। নামে ড্যাম হলেও এর বিশাল ব্যপ্তি দেখলে ছোট সমুদ্র মনে হতে পারে। অরণ্য-পাহাড়ে ঘেরা চান্ডিল জলাধারেও স্পিডবোটে ঘোরার ব্যবস্থা রয়েছে।

দলমা পাহাড় এবং অভয়ারণ্য

দলমা হিলটপ ভিউ পয়েন্ট। ছবি: সংগৃহীত।

চান্ডিল থেকে চলে যেতে পারেন দলমা পাহাড় এবং অভয়ারণ্যে। জলাধার থেকে ৪০ কিলোমিটর পূর্বে এর অবস্থান। ঘণ্টা দেড়েকের মতো সময় লাগবে গাড়িতে। দ্বিতীয় দিনটি দলমাতেই থাকার ব্যবস্থা করতে পারেন। পাহাড়ের গায়ে ঘন বনানীর মধ্যে থাকার জন্য রিসর্ট রয়েছে। পাহাড়ের গায়ে ঘন বন। মূলত হাতির আনাগোনা রয়েছে এখানে। এ ছাড়াও দেখা মিলতে পারে বুনো শুয়োর, চিতল হরিণ, জায়ান্ট স্কুইরেল, মাউস ডিয়ার, শিয়াল-সহ অসংখ্য বন্যপ্রাণীর। পাহাড়ের মাথায় রয়েছে শিব, হনুমানের মন্দির। ধাপ বেয়ে হেঁটে উঠতে হয় এক একটি মন্দির। অরণ্যের সৌন্দর্য এবং নির্জনতাই এখানে উপভোগ্য। পাহাড়ে মাথা থেকে সেই শোভা আরও সুন্দর দেখায়।

কী ভাবে যাবেন?

হাওড়া থেকে টাটানগর জংশন যাওয়ার একাধিক ট্রেন রয়েছে, সাড়ে তিন থেকে সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যেই সেখানে পৌঁছনো যায়। প্রতি দিন সকাল ৬:২০ মিনিটে জনশতাব্দী এক্সপ্রেস হাওড়া থেকে ছেড়ে সকাল ৯:৫০ মিনিটে টাটানগর জংশন পৌঁছয়। হাওড়া-বরবিল জনশতাব্দীও সকালের দিকেই ছাড়ে, বেলার মধ্যেই টাটানগর পৌঁছয়। এ ছাড়াও গীতাঞ্জলি এক্সপ্রেস, মুম্বই মেল, সমলেশ্বরী এক্সপ্রেস ধরেও টাটানগর যাওয়া যায়। কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গের যে কোনও শহর থেকে সড়কপথেও টাটানগর যেতে পারেন।

কোথায় থাকবেন?

টাটানগর খুব বড় শহর। সাকচি, জুবিলি পার্ক-সহ বিভিন্ন জায়গায় এখানে বিভিন্ন মানের হোটেল, রিসর্ট আছে। দলমাতেও একাধিক থাকার জায়গা আছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement