Anandabazar Patrika Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading Newspaper

ভেওরা-ডোডিতাল-দারোয়া টপ-কানসারা-সীমা বুগিয়াল-হনুমান চটি

পর্বত-পদযাত্রীদের জন্য মনোরম মেঘে ঢাকা দারোয়া টপ।

ট্রেনে হরিদ্বার। তারপর বাসে উত্তরকাশী হয়ে গঙ্গোত্রী ও কল্যাণী ছাড়িয়ে সঙ্গম চটি পৌঁছে যাবেন (দূরত্ব ১৩ কিমি)।

 

প্রথম দিন সঙ্গম চটি-আগোড়া (২২৮৫ মি)-ভেওরা-৭ কিমি

ডান দিকে বিংসি গাড বা অসি গঙ্গার উপর একটা কাঠের পুল পেরিয়ে নদীর ডানতটে পাহাড়িয়া গ্রাম্য পথ। হালকা চড়াইপথ। অসি গঙ্গার ধারে ধারে বনের মধ্যে দিয়ে চলার পথে ছোট ছোট ঝর্না দেখতে পাবেন। উঠে আসবেন আগোড়া গ্রামে। বেশ বড় গ্রাম। এখানে ফরেস্ট রেস্ট হাউস ও ট্রেকার্স হাট আছে। অসি গঙ্গা ও ভেওরা নালার সঙ্গমস্থল হল আগোড়ার নিকটেই। এখানেই ভেওরা নালা পেরিয়ে এবং নালাটি ধরে এগিয়ে চলুন। খানিকটা ওঠার পর ভেওরা নালার উপর কাঠের পুল পেরিয়ে চলে আসবেন ভেওরা। পশুপালকের ডেরা আছে। পদযাত্রীদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন: 

কেদারনাথ-মদমহেশ্বর-তুঙ্গনাথ-রুদ্রনাথ-কল্পেশ্বর

পাহাড়ের কোলে লেপচাখা

দ্বিতীয় দিন ভেওরা-ডোডিতাল (৩৩০৭ মি)-১৪ কিমি

হালকা বনের মধ্য দিয়ে ওঠানামা পথ। খানিকটা এগিয়ে চড়াইয়ের তীব্রতা বাড়বে। পাহাড়ের উপর বেশ ঘন জঙ্গল। পথিমধ্যে টুকটাক খাবারের দোকান আছে। উঠে আসবেন ভাতকুনি ধারের উপরে। এখানে রাত কাটানোর জন্য টিনের শেড আছে। বনের মধ্য দিয়ে ওঠানামা পথে এগিয়ে চলুন। পথ কোথাও খুব কর্দমাক্ত। উঠে আসবেন ডোডিতাল। সরোবরে প্রচুর টাউট মাছ আছে। গভীর বনে ঢাকা পাহাড়ে ঘেরা এই সরোবরটি। ৬৫০ মিটার পরিধিবিশিষ্ট সরোবরটি পরিক্রমার জন্য একটা পথ আছে। সরোবর তীরে আছে গণেশের মন্দির। এখানেও ফরেস্ট বাংলো আছে। আছে অস্থায়ী হোটেল।

গভীর বনে ঢাকা পাহাড়ে ঘেরা অপূর্ব সুন্দর সরোবর ডোডিতাল

তৃতীয় দিন ডোডিতাল-দারোয়া টপ (৪১৫০ মি)-কানসারা বুগিয়াল-সীমা বুগিয়াল-১৬ কিমি

সরোবরের পশ্চিম ধার থেকে গভীর বনের মধ্য দিয়ে ওঠা শুরু করুন। এবড়োখেবড়ো পাথরে পরিপূর্ণ চড়াইপথে পাহাড়টির মাথায় উঠতে থাকুন। বনের শেষে শুরু হবে বুগিয়াল অঞ্চল। পথে কয়েকটা ঝর্না পার হতে হবে। উঠে আসবেন একটা পাহাড়ের মাথায়। এখান থেকে খাড়া চড়াই ভেঙে উঠে আসবেন দারোয়া টপে। গিরিবর্তটি থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে এগিয়ে যেতে হবে। তারপর উত্তর-পশ্চিম দিক ঘেঁসে নামতে হবে। ক্রমে বনের মধ্যে ঢুকে পড়বেন। নেমে আসবেন কানসারা বুগিয়ালে। এখানে গুজ্জরদের ঘর আছে। এখান থেকে বন্দরপুঁছ (৬৩৩১ মি), কালানাগ (৬৩৮৫ মি়) সমেত কয়েকটি পর্বতচূড়া দেখা যাবে। একটা রিজ ধরে ওঠানামা পথে নামতে থাকুন। অনেকটা উঁচু থেকে সীমা বুগিয়ালকে দেখতে পাবেন। এক সময় ঝোপঝাড়ের মধ্য দিয়ে সীমা বুগিয়ালে নেমে আসবেন।

টাউট মাছে ভরা ডোডিতাল পর্যটকদের কাছে খুবই আকর্ষণীয়।

চতুর্থ দিন সীমা-কাণ্ডোলা-নিশনি (২৭১৬ মি)-হনুমান চটি

পাকদণ্ডী পথে কাণ্ডোলা খড়ক হয়ে নেমে আসবেন নিশনি গ্রামে। হনুমান গঙ্গার ধারে এই গ্রাম থেকে হনুমান চটি মাত্র চার কিমি দূরে।

 

হনুমান চটি থেকে দেহরাদূন/হরিদ্বার বাসপথ

আগোড়া/উত্তরকাশী থেকে মালবাহক সংগ্রহ করতে হবে। প্রয়োজনীয় রসদ উত্তরকাশী থেকে নিতে হবে। হনুমান চটি থেকে যমুনোত্রী মন্দির দর্শন করতে যেতে পারেন। দু’দিন বাড়তি সময় লাগবে।

ডোডিতাল থেকে ফেরার পথে।

(লেখক পরিচিতি: আক্ষরিক অর্থেই রতনলাল বিশ্বাস ভূপর্যটক। তাঁর ট্রেকিংয়ের শুরু সেই ১৯৭২ সালে। ট্রেকিংয়ে সেঞ্চুরি করে ফেলেছেন তিনি। এ পর্যন্ত মোট ১০১টি ট্রেকিং সম্পন্ন। ব্যাঙ্কে না ঢুকে পূর্ব রেলে চাকরি নিয়েছিলেন বেড়ানোর নেশায়। শুধু পাহাড়েই নয়, গঙ্গাসাগর থেকে হেঁটে মুম্বইয়ে আরব সাগরের উপকূল পর্যন্ত পৌঁছেছেন রতনলাল, সে যাত্রায় পেরিয়েছেন প্রায় চার হাজার কিলোমিটার। হেঁটেছেন শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ উপকূল ধরেও। ’৭৮ সাল থেকে নেপালে ট্রেক করেছেন পর পর ২৫ বছর। ’৮৭ থেকে ৩০ বছর ধরে যাচ্ছেন লাদাখে। এ পর্যন্ত ট্রেকিং পথ পেরিয়েছেন প্রায় ১৮ হাজার কিলোমিটার। পাশাপাশি চলেছে নিরন্তর ক্যামেরার লেন্সে চোখ রাখা। এ পর্যন্ত লিখেছেন ভ্রমণ সংক্রান্ত আটটি গ্রন্থ। চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন বছর তিনেক। কিন্তু পদব্রজে বিশ্ব পরিক্রমার নেশা থেকে অবসর নেবেন, এমনটা স্বপ্নেও ভাবেন না রতনলাল।)

ছবি:অপূর্ব বণিক।


Anandabazar Patrika Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading Newspaper