Monsoon Travel Guide

বৃষ্টি ভেজা সফরের উদ্যোগ! বর্ষার ভ্রমণ পরিকল্পনায় ভুল হলেই বিপদ, কী ভাবে সাজাবেন বেড়ানোর সূচি

বৃষ্টিভেজা প্রকৃতি যেমন সুন্দর, তেমনই বর্ষায় ভ্রমণের বিপদও কম নয়। আচমকা ধস নামতে পারে। নদী ফুঁসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে। এমন মরসুমে বেড়ানোর পরিকল্পনা করলে, কী ভাবে সাজাবেন ভ্রমণসূচি, সঙ্গে রাখবেন কী?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬ ১১:০১
Share:

ছবি: সংগৃহীত।

বর্ষা ইতিমধ্যেই ঢুকে পড়েছে আন্দামানে ও কেরলে। সেই ভাবে বৃষ্টি শুরু না হলেও, আবহাওয়ার হিসাবনিকাশ বলছে বর্ষার প্রবেশ হয়েছে উত্তরবঙ্গেও। রাজ্যজুড়ে বৃষ্টি শুরু কেবল সময়ের অপেক্ষা। অপেক্ষা বৃষ্টি ভেজা দিনে ভ্রমণেরও।

Advertisement

বর্ষার মরসুমের শ্যামলিমাই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। দিন কয়েক টানা বৃষ্টি হলেই ভরে উঠবে ঝর্না, ফুঁসে উঠবে নদী। প্রকৃতি হয়ে উঠবে শ্যামল-সুন্দর। এমন রূপের সাক্ষী হতে কেউ ছোটেন পাহাড়ে, কেউ বেছে নেন ট্রেকিংয়ের পথ। কারও শখ সঙ্গীর হাত ধরে সাগরপাড়ের বালুকাবেলায় বৃষ্টির রিমঝিম ধারাপাত উপভোগের।

তবে বর্ষায় ভ্রমণের বিপদও কম নয়। এমন মরসুমে বেড়ানোর পরিকল্পনা করলে, কী ভাবে সাজাবেন ভ্রমণসূচি, সঙ্গে রাখবেন কী?

Advertisement

সঠিক গন্তব্য বাছাই

শখ থাকতে পারে অনেক জায়গায় যাওয়ার। কিন্তু টানা বৃষ্টি হলে সেই জায়গা মূল শহর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে কি না তা মাথায় রাখাও জরুরি। বিশেষত পাহাড়ি এলাকায় ধস নামে। বৃষ্টি ভারী হলে নদী ফুঁসে উঠে রাস্তার উপর দিয়েও বইতে পারে। বর্ষায় গন্তব্য বাছাইয়ের সময়ে খেয়াল রাখা দরকার, যে স্থানে যাচ্ছেন সেটি বিপর্যয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে কি না। এই মরসুমে পাহাড়, সমুদ্র যেখানে ইচ্ছাই যাওয়া চলে। তবে যাওয়ার আগে আবহাওয়া বিভাগ কী বলছে, ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস কতটা, হলুদ বা কমলা সতর্কতা জারি কি না তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

বর্ষার উপযোগী জিনিস

বৃষ্টিতে জামাকাপড় কিংবা গ্যাজেট ভিজে যেতে পারে, তাই ব্যাগ জলনিরোধী হওয়া জরুরি। এমন পোশাক সঙ্গে নিন, যা ভিজলেও দ্রুত শুকিয়ে যাবে। জুতো ভিজলে চলা মুশকিল। তাই হয় ওয়াটার প্রুফ জুতো, নয়তো জুতোর উপর ওয়াটারপ্রুফ কভারের ব্যবস্থা করতে হবে। সঙ্গে রেনকোট বা ছাতা ভুললে কিন্তু হয়ে যাবে ভীষণ মুশকিল।

স্বাস্থ্য সচেতনতা

চার দিকে বৃষ্টি হলে জল থেকে পেট খারাপের সম্ভাবনা বাড়ে। বিশেষত পাহাড়ে যেহেতু জল আসে ঝর্না বা ঝোরা থেকে, সেই জলে মাটি মিশে থাকে। পানীয় জল নিয়ে বিশেষ সতর্কতা জরুরি। পেটের সংক্রমণ রুখতে রাস্তার খাবার এড়িয়ে চলুন। সঙ্গে রাখুন পেট খারাপের ওষুধ। অসুখ এড়ানোর জন্য হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে তবেই খাবার খাওয়া উচিত।

থাকার জায়গা

এক বারে দুর্গম বা প্রত্যন্ত এলাকা না বেছে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল বা আটকে পড়লে দিন কয়েক স্বচ্ছন্দে থাকা যাবে এমন হোম স্টে বা হোটেল বেছে নিন। বর্ষার মরসুমে বেড়াতে যেতে হলে যে কোনও বিপর্যয়মূলক পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মানসিকতা রাখা ভাল।

খাবার

বর্ষার মরসুমে সঙ্গে একটু বাড়তি শুকনো খাবার এবং জল রাখুন। রাস্তায় ধস নামতে পারে, বেশি বৃষ্টিতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। রাস্তায় ৭-৮ ঘণ্টা আটকে পড়লেও যেন খাবারের অভাব না হয় তার ব্যবস্থা রাখা জরুরি। বাদাম, খেজুর, ফল, মুড়ি, চকোলেট, জল— এই ধরনের কিছু খাবার সঙ্গে রাখা ভাল।

পাওয়ার ব্যাঙ্ক

এই জিনিসটি নিতে ভুললে চলবে না। বর্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা কোনও এলাকা বিদ্যুৎবিহীন থাকতে পারে। বিপদে পড়লে যোগাযোগের জন্য মোবাইলটি কিন্তু কাজে লাগবে। ফলে সঙ্গে পাওয়ার ব্যাঙ্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement