ভক্তজনকে ট্রেনে চাপিয়ে তীর্থ ভ্রমণে নিয়ে যাবে ভারতীয় রেল। তা-ও আবার ভারতের পূর্বাংশে, অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গে।
মোট ১১ দিনের সফর। যাত্রা শুরু ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টায়। সফরের বাহন এক বিলাসবহুল ট্রেন। যার নাম ভারত গৌরব ডিলাক্স ট্যুরিস্ট ট্রেন। সেই ট্রেনে চেপেই তীর্থযাত্রীরা কোথায় যাবেন, কী কী দেখবেন, ট্রেনে অতিথি পরিষেবার ব্যবস্থা কী রকম? নিরামিষ, না কি আমিষ খাবার পরিবেশিত হবে, সফরের ব্যয়ই কী রকম হবে? এই সব প্রশ্নের উত্তর জেনে নেওয়া যাক।
ট্রেনে চেপে ভ্রমণার্থীরা ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাবেন পূর্বাঞ্চলের একের পর এক তীর্থক্ষেত্র। থাকবে বেশ কিছু ইতিহাস প্রসিদ্ধ স্থান দেখার সুযোগও।
তালিকায় যেমন কলকাতা এবং সংলগ্ন এলাকার তীর্থক্ষেত্রগুলি রয়েছে, তেমনই থাকছে পুরী, কোণার্ক, দেওঘর, বেনারস ঘোরার সুযোগও। ঠিক কোথায় কোথায় নিয়ে যাবে ভারত গৌরব এক্সপ্রেস?
প্রথম গন্তব্য বারাণসী। ২৬ সেপ্টেম্বর সেখানে পৌঁছবে ভারত গৌরব ডিলাক্স ট্রেন। ভ্রমণার্থীরা ট্রেন ছেড়ে উঠবেন হোটেলে। গঙ্গায় সূর্যাস্তের সময় নৌকাবিহার সেরে গঙ্গা আরতি দেখে হোটেলে ফিরবেন। পরের দিন সকালে কাশী বিশ্বনাথ মন্দির দর্শন করে আবার ট্রেনে ফেরা।
পরের গন্তব্য পুরী। জগন্নাথধাম। প্রথম দিনই মন্দিরে পুজো দেওয়া এবং অবসরে সৈকতযাপন, কেনাকাটার সুযোগ। দ্বিতীয় দিন যাওয়া হবে চিল্কা হ্রদে। সেখানে বোটিং তার পরে কোণার্কের সূর্যমন্দির দর্শন এবং চন্দ্রভাগা নদীর ধারে সময় কাটিয়ে হোটেলে ফেরা।
এর পরে ভুবনেশ্বর। রঘুনাথপুরের শিল্পীদের গ্রাম, উদয়গিরি, খণ্ডগিরির গুহা এবং লিঙ্গরাজ মন্দির দর্শন করে ট্রেনে কলকাতার উদ্দেশে রওনা।
কলকাতা কেন্দ্রিক অনেকগুলি জায়গায় রয়েছে ভ্রমণসূচিতে। কালীঘাটের মন্দির, দক্ষিণেশ্বরের কালী মন্দির, বেলুড় মঠ হয়ে গঙ্গাসাগর এবং কপিলমুনির আশ্রমও দর্শন করবেন ভ্রমণার্থীরা।
শুধু মন্দির নয়, কলকাতায় দু’দিন থেকে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এবং সূর্যাস্তের সময় হুগলি নদীর বুকে ক্রুজ়েও ঘোরানো হবে।
কলিঙ্গ এবং বঙ্গদর্শন শেষে গন্তব্য অঙ্গরাজ্য। একদা ঝাড়খণ্ড এবং বিহারের এলাকা অঙ্গের অধীনে ছিল। সেই ঝাড়খণ্ডেরই দেওঘরে শৈবদের তীর্থস্থান বৈদ্যনাথ থাম। ভক্তেরা সেই মন্দির ঘুরে দেওঘরের পেঁড়া কিনে ফিরবেন ঘরে।
ট্রেনসফর ছাড়াও পাঁচ রাত হোটেলে থাকার ব্যবস্থা থাকবে ট্যুর প্যাকেজে। এর মধ্যে দু’রাত কলকাতায়, দু’রাত পুরীতে আর এক রাত বারাণসীর হোটেলে থাকা হবে। সব ক’টিই বিলাসবহুল হোটেলে।
ভ্রমণার্থীদের নিরামিষ খাবারই পরিবেশন করা হবে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত। এর মধ্যে প্রতিদিন সকালের চা, প্রাতরাশ, মধ্যাহ্ণভোজ এবং নৈশাহার থাকবে।
ট্রেনের ভিতর থাকবে রেস্তরাঁ। থাকবে বিলাসবহুল শয়নকক্ষও। এসি ফার্স্ট ক্লাসের যাত্রীদের খাবার পরিবেশন করা হবে ট্রেনের রেস্তরাঁয়। বাকিদের খাবার যাবে নিজস্ব বার্থে।
ভারতীয় রেলের আইআরসিটিসি আয়োজিত দেবদর্শন এই সফরের তিনটি ভাগ রয়েছে, দাম এবং পরিষেবার ভিত্তিতে। সবচেয়ে দামি প্যাকেজটির দাম মাথাপিছু ১ লক্ষ ৩২ হাজার ৩২০ টাকায়। যদি দু’জনে ভাগাভাগি করে থাকেন, তবে দাম কিছুটা কমে হবে ১ লক্ষ ১৩ হাজার ৫৩০। যদি সন্তানের সঙ্গে একটি কামরা ভাগ করে নেন, তবে সন্তানের জন্য খরচ পড়বে ১ লক্ষ ৪ হাজার ৯৫ টাকা।
এর পরেরটি ডিলাক্স প্যাকেজ। এসি সেকেন্ড ক্লাস। মাথাপিছু ১ লক্ষ ২৪ হাজার ৯৩০। একই ঘরে দু’জন থাকলে ১,০৬,১৪৫ টাকা মাথাপিছু। তিন জন থাকলে ১,০৩,৪৬০ টাকা। ছোটদের জন্য ৯৬,৭০৫ টাকা।
সবচেয়ে কম দামের প্যাকেজটি কমফর্ট প্যাকেজ। এতেও এসির সুবিধা থাকবে। মাথাপিছু খরচ ১,১০,১৫৫ টাকা। দু’জন ভাগাভাগি করে থাকলে ৯১,৩৭০ টাকা, তিন জন থাকলে ৮৮,৬৮৫ টাকা করে আর ছোটদের জন্য ৮১,৩৯০ টাকা।
ট্রেনের পরিষেবা ছাড়া বিভিন্ন জায়গা দেখার জন্য থাকবে এসি বাস। এ ছাড়া এন্ট্রি টিকিট, স্থানীয় গাইডের খরচ, এমনকি ট্রেনের বাইরে যে নিরামিষ রেস্তরাঁয় খাবার খাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে, তার খরচও প্যাকেজের সঙ্গেই ধরা থাকবে।
২৫ সেপ্টেম্বর দিল্লির সফদরজং রেল স্টেশনে সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টায় রওনা হবে ভারত গৌরব ডিলাক্স ট্যুরিস্ট ট্রেন। সফর শেষ হবে ৫ অক্টোবর।