ছবি: (এআই সহায়তায় প্রণীত)।
কথায় আছে মানুষ তাঁর ভালবাসার জন্য সব কিছু করতে পারে। তেমনটাই করলেন এক স্বামী। স্ত্রীকে বাঁচানোর জন্য এমন এক পথ বেছে নিয়েছিলেন যা আইনের চোখে অপরাধ হলেও স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে এক অসহায় স্বামী চার বছর ধরে আইনের সঙ্গে লুকোচুরি খেলেছেন। সে ঘটনা সমাজমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসতেই হতবাক হয়েছেন নেটাগরিকেরা। সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে ঘটনাটি ঘটেছে চিনের রাজধানী বেজিঙে।
চিনা সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী বেজিঙের বাসিন্দা লিয়াও ড্যান এবং তাঁর স্ত্রী ডু জিনলিঙের জীবন ছিল সিনেমার গল্পের মতো। তাঁরা একটি কারখানায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ২০০৭ সালে ডু হঠাৎ ইউরেমিয়ায় আক্রান্ত হন। চিকিৎসক সাফ জানিয়ে দেন ডু-কে বাঁচানোর জন্য সপ্তাহে তিন বার ডায়ালিসিস করতে হবে। দরিদ্র এই সম্পতির চিকিৎসার বিপুল খরচ করার মতো আর্থিক সঙ্গতি ছিল না। সরকারি সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় কার্ডও ছিল না দম্পতির।
তবে স্ত্রীকে সুস্থ রাখতে লিয়াও হাল ছাড়েনি। হাসপাতালের বিল পরিশোধ করার সময় তিনি বুঝতে পারেন যে সিস্টেম আপডেট করার ব্যাপারে হাসপাতালের কর্মীরা বেশ অলস। লিয়াও একটি নকল স্ট্যাম্প বানিয়ে নেন। রসিদ জাল করার ফন্দি আঁটেন। চার বছর ধরে সকলের অলক্ষ্যে চলতে থাকে তাঁর এই পরিকল্পনা।
২০১১ সালে যখন হাসপাতালের সিস্টেমটি আপডেট করা হয়, তখন সত্যটি প্রকাশ পায়। ১ লক্ষ ৭২,০০০ ইউয়ানের বা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৮ লক্ষ টাকার একটি জালিয়াতি ফাঁস হয়। লিয়াওকে যখন আদালতে হাজির করা হয় তখন তিনি সজল চোখে জানিয়েছিলেন স্ত্রীকে চোখের সামনে মরতে দেখতে পারেননি তিনি। তাঁর এই কথায় বিচারকও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। সম্প্রতি পুরনো মামলাটি চিনের গণমাধ্যমে শিরোনামে উঠে এসেছে। যদিও লিয়াওয়ের স্ত্রী ২০১৬ সালে মারা যান। আদালত মানবিক দিক থেকে বিবেচনার করে তাঁকে জেলে পাঠানোর পরিবর্তে বাড়িতে থেকে সাজা ভোগের অনুমতি দেয়।