ছবি: সংগৃহীত।
প্রতিটি বাইকের সামনে বসানো লোহার দণ্ড। রাস্তায় চলা প্রতিটি বাইকেই এক দৃশ্য। পাকিস্তানের লাহৌরের অদ্ভুত দৃশ্যটি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তা নজর কেড়েছে সমাজমাধ্যমে। প্রত্যেক বাইকচালকের যানের সামনে অদ্ভুত আকারের লোহার দণ্ড আটকে রাখার কারণ নিয়ে প্রচণ্ড কৌতূহল তৈরি হয়েছে নেটমাধ্যমে। লোহার দণ্ড আটকে রেখে বাইক চলাচলের দৃশ্যটি প্রকাশ্যে আসতেই তা ভাইরাল হয়েছে। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
ভাইরাল সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, শহরের রাস্তায় চলাচলকারী দু’চাকার গাড়িগুলির সামনের দিকে লোহার দণ্ড খাড়া ভাবে লাগিয়ে রাখা হয়েছে। ব্যস্ত রাস্তা থেকে শুরু করে সঙ্কীর্ণ পাড়ার গলি পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি মোটরসাইকেল এবং স্কুটারে একই দৃশ্য চোখে পড়়েছে। রাস্তাঘাটে প্রায় সর্বত্রই বিক্রি হচ্ছে এই লোহার দণ্ডগুলি। বিক্রিও হচ্ছে রমরমিয়ে। ভিডিয়োটি প্রচারিত হওয়ার পরই দণ্ডগুলি লাগানোর উদ্দেশ্য নিয়ে সমাজমাধ্যমে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে যায়। কিছু নেটমাধ্যম ব্যবহারকারী রসিকতা করে বলেছেন যে পাকিস্তান জননিরাপত্তা বলে কিছু নেই। তাই বাইকচালকেরা রাস্তাঘাটে আত্মরক্ষার জন্য নিজেদের সঙ্গে রাখছেন।
নানা তত্ত্ব উঠে এলেও আসল কারণটি দু’চাকার যানের চালকদের নিরাপত্তার সঙ্গেই যুক্ত। ভারতের মতো পাকিস্তানেও ঘুড়ি ওড়ানো বেশ জনপ্রিয়। নাবালক এবং তরুণেরা প্রায়শই ছাদ এবং খোলা মাঠে নাইলনের সুতো ব্যবহার করে ঘুড়ি ওড়ায়। সাধারণত এগুলি চিনা মাঞ্জা নামে পরিচিত। কিছু ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বীদের ঘুড়ি কাটার জন্য সুতোর উপর কাচের গুঁড়োর প্রলেপ দেওয়া হয়। ধারালো মাঞ্জাগুলি রাস্তার উপর আলগা ভাবে ঝুলে থাকার ফলে বাইক বা স্কুটারচালকদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়।
এই চিনা মাঞ্জায় বাইকচালকদের ঘাড়, মুখ বা চোখ ক্ষতবিক্ষত হওয়ার বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করার জন্য, বাসিন্দারা তাঁদের দুই চাকার গাড়ির সামনের দিকে লোহার রড বা ধাতব লাঠি লাগানো শুরু করেছেন। রডগুলিতে সুতো আটকে যাওয়ার ফলে আঘাতের ঝুঁকি হ্রাস পায়। ভিডিয়োটি ‘আলি_আক৩০১’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করার পর তা বহু মানুষ দেখেছেন। ভিডিয়োটি দেখে প্রচুর নেটাগরিক তাঁদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।