ছবি: সংগৃহীত।
প্রযুক্তি সংস্থায় মোটা মাইনের চাকরি। নিউ ইয়র্কের মতো শহরে জীবনযাপন। সবই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল চাকরি থেকে ছাঁটাই হওয়ার পর। তাও আবার এক বার নয়, পর পর দু’বার। আদর্শ কর্পোরেট ধাঁচের জীবনযাপন করতে করতে একঘেয়েমি এসে গিয়েছিল পাকিস্তানি-আমেরিকান তরুণের। দু’বার চাকরি হারাতেই ৯-৫টার চাকরিজীবনকে বিদায় জানাতে দ্বিধা করেননি তিনি। সঞ্চয়ের ৭০ হাজার ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা) খরচ করে ফেলেন স্বপ্নকে ছুঁতে।
তরুণের এই সিদ্ধান্ত বিফলে যায়নি। এক সময়ে প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্টের বিপুল চাপ সামলানো, অন্তহীন কৌশলগত বৈঠকে অংশ নেওয়া এবং পরিবর্তনশীল কর্পোরেটর জগতের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া তরুণ আজ সফল রেস্তরাঁ-মালিক। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ সালের দ্বিতীয় বার কর্পোরেট দুনিয়া থেকে ছাঁটাই হন জ়িশান বাখরানি নামের ওই তরুণ। তার পরই ম্যানহাটনে ‘নিশান’ নামে একটি নতুন রেস্তরাঁ খুলে ফেলেন। দাবি, রেস্তরাঁটি থেকে প্রতি মাসে ১,৪০,০০০ ডলার (প্রায় ১.৩ কোটি টাকা) আয় করছেন জ়িশান।
শিকাগোয় একটি পাকিস্তানি-আমেরিকান পরিবারে বেড়ে ওঠার কারণে জ়িশান দু’টি আলাদা দেশের খাবারের সংস্কৃতির সঙ্গেই পরিচিত ছিলেন। তাঁর মা প্রায়শই আমেরিকান খাবারগুলিতে দক্ষিণ এশীয় স্বাদ যোগ করতেন। সেই স্বাদের খাবারই রেস্তরাঁর ‘ইউএসপি’।
‘নিশানে’ আমেরিকার গতানুগতিক ফাস্ট ফুড পাবেন না। এর পরিবর্তে, জ়িশান পরিবেশন করেন পাকিস্তানি-আমেরিকান স্ট্রিট ফুড। খাবারের তালিকার মধ্যে রয়েছে বিহারি মশলাযুক্ত স্বাদের বারবাকোয়া টাকোস, পাকিস্তানি চপ্ড চিজ় এবং তন্দুরি চিকেন স্যান্ডউইচের মতো পদ। এই ধরনের খাবার নিয়ে বাড়িতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতেন জ়িশান। টরটিলার বদলে পরোটা ব্যবহার করতেন এবং বার্গারের উপরে ভারতীয় ঝাল চাটনি দিতেন। তরুণ জানিয়েছেন এখন দিনে ১৪ ঘণ্টা কঠোর পরিশ্রম করে তিনি যে টাকা আয় করেন তা যথেষ্ট।
জ়িশানের জীবন অনলাইনে বহু নেটাগরিকের কাছে অনুপ্রেরণা। হাজার হাজার মানুষের মন ছুঁয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে যাঁরা অস্থির চাকরির বাজারে পথ খুঁজে চলেছেন। জ়িশানের গল্পটি শেখায় চাকরি হারানো মানেই সমাপ্তি নয়, বরং নতুন অধ্যায়ের সূচনা মাত্র।