Viral Video

‘৩০ বছর বয়স এবং বামন’, দাবি করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্ত! ব্যাপক সমর্থন জুটিয়েও হাটে হাঁড়ি ভাঙল ১৬ বছরের কিশোরের

ছোটখাটো গড়ন এং মুখ বালকসুলভ হওয়ায় জারিয়া এলাকার বাসিন্দা বুবা সমর্থকদের জানিয়েছিল, সে আগে গাড়িচালক হিসাবে কাজ করত। বামন হওয়ার কারণেই তার মুখে কোনও পরিবর্তন আসেনি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ মে ২০২৬ ১৭:১৮
Share:

ছবি: ইনস্টাগ্রাম।

নিজেকে বামন এবং ৩০ বছর বয়সি বলে দাবি করে নির্বাচনে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ব্যাপক সমর্থনও জুটিয়েছিল। কিন্তু তার পরেই হাটে হাঁড়ি ভাঙল। প্রকাশ্যে এল আসল বয়স। জানা গিয়েছে, নিজেকে ৩০ বছর বয়সি দাবি করা নাইজ়েরীয় রাজনীতিবিদ মেহমুদ সাদিস বুবার বয়স আসলে ১৬। অর্থাৎ, ভোটে লড়ার জন্য যোগ্যই নয় কিশোর বুবা। ইতিমধ্যেই তার প্রার্থীপদ খারিজ করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে হইচইও পড়েছে নাইজ়েরিয়া জুড়ে। সেই ঘটনা সংক্রান্ত একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম

Advertisement

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাইজ়েরিয়ার সংসদীয় নির্বাচনে যাতে প্রার্থী হতে পারে, তার জন্য নিজেকে ৩০ বছর বয়সি বলে দাবি করেছিল ১৬ বছর বয়সি বুবা। ছোটখাটো গড়ন এং মুখ বালকসুলভ হওয়ায় জারিয়া এলাকার বাসিন্দা বুবা সমর্থকদের জানিয়েছিল, সে আগে গাড়িচালক হিসাবে কাজ করত। বামন হওয়ার কারণেই তার মুখে কোনও পরিবর্তন আসেনি। সে বলেছিল, ‘‘জনগণ আমাকে সেবা করার জন্য ডেকেছে।’’ এর পরেই বুবাকে নিয়ে হইচই পড়ে নাইজ়েরিয়া জুড়ে। প্রচুর মানুষের সমর্থন পেতে শুরু করে সে। রাতারাতি সমাজমাধ্যম তারকা হয়ে ওঠে। এমনকি মানুষ তাকে ‘জারিয়ার বিস্ময়’ তকমাও দিয়ে ফেলে। কিন্তু যা অনুপ্রেরণামূলক কাহিনি হিসাবে শুরু হয়েছিল, তা দ্রুত একটি বড় বিতর্কে পরিণত হয়।

বুবাকে নিয়ে নাইজ়েরিয়া জুড়ে হইচইয়ের মধ্যেই সমাজমাধ্যমে এমন কিছু নথি প্রকাশ্যে আসে, যেখানে দাবি করা হয় যে বুবার জন্ম ২০১০ সালে। সেই পোস্ট এবং নথিগুলি সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। কারণ যদি ওই নথি সত্যি হয়, তা হলে হিসাবমতো বুবার বয়স হওয়া উচিত মাত্র ১৫-১৬ বছর। আর নাইজ়েরিয়ার আইন অনুযায়ী, সে দেশের সংসদীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ন্যূনতম বয়স ২৫। ভাইরাল হওয়া নথিগুলোর মধ্যে বুবার পাসপোর্ট, জন্ম শংসাপত্র এবং স্কুলের নথি ছিল বলে জানা গিয়েছে। আর এর পরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু হয় নির্বাচনে লড়ার ক্ষেত্রে বুবার যোগ্যতা নিয়ে।

Advertisement

বিতর্ক আরও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে যখন বুবার এক প্রাক্তন শিক্ষক এগিয়ে এসে দাবি করেন যে তিনি বুবাকে জুনিয়র ক্লাসে পড়াতেন এবং তার বয়স মাত্র ১৬ বছর। বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা হওয়ার পর বুবার দল প্রথমে তাকে সমর্থন করলেও পরে সমালোচনার মুখে পড়ে বহিষ্কার করে তাকে। বয়স ভুল ভাবে উপস্থাপনের জন্য তাকে নির্বাচনে অযোগ্য প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করা হয়। এর পরে বুবা নিজেই একটি চিঠি লিখে নির্বাচন থেকে তার সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

এই আবহে বুবার একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল সেই ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে ‘হাউসরুম’ নামের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, এক জন কিশোর কী ভাবে দলের যাচাই প্রক্রিয়া পার করল? এটি কি একটি প্রাতিষ্ঠানিক ত্রুটি ছিল না কি ইচ্ছাকৃত কারসাজি? প্রশ্নগুলির উত্তর মেলেনি। কিন্তু বিষয়টি নাইজ়েরিয়ার রাজনীতিতে একটি বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে এবং সমাজমাধ্যমে বিতর্ক সৃষ্টি করে চলেছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement