Techie

বছরে আয় ছিল ৪০ লক্ষ, চাকরি হারিয়ে এখন বাইক ট্যাক্সি চালান! প্রযুক্তিবিদের গলার কাঁটা ঋণে কেনা ১.৪ কোটির বাড়ি

জানা গিয়েছে, প্রাক্তন প্রযুক্তিবিদ ওই যুবক কিছু দিন আগেও বছরে ৪০ লক্ষ টাকা আয় করতেন। বিপুল আয়ের উপর আস্থা রেখে ২০২৪ সালে ১.৪ কোটি টাকা ঋণ করে গাজ়িয়াবাদে একটি তিন কামরার ফ্ল্যাট কিনেছিলেন তিনি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:৪৫
Share:

প্রাক্তন প্রযুক্তিকর্মী এবং তাঁর বাড়ি। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া।

বছরে ৪০ লক্ষ টাকা আয় করতেন। চাকরি হারিয়ে প্রযুক্তিকর্মী এখন কাজ করছেন অ্যাপ বাইকের চালক হিসাবে। ঋণে কেনা ১.৪ কোটি টাকার বাড়ি বাঁচাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁকে। ওই প্রযুক্তিবিদের সমস্যার কথা তুলে ধরে সমাজমাধ্যমে করা একটি পোস্ট ইতিমধ্যেই নেটপাড়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। হইচইও ফেলেছে।

Advertisement

জানা গিয়েছে, প্রাক্তন প্রযুক্তিবিদ ওই যুবক কিছু দিন আগেও বছরে ৪০ লক্ষ টাকা আয় করতেন। বিপুল আয়ের উপর আস্থা রেখে ২০২৪ সালে ১.৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে গাজ়িয়াবাদে একটি তিন কামরার ফ্ল্যাট কিনেছিলেন তিনি। ব্যাঙ্কে মাসিক কিস্তি ছিল ৯৫,০০০ টাকা। কিন্তু সে সময়ে ফ্ল্যাট কেনার সিদ্ধান্ত সঠিক বলেই মনে হয়েছিল তাঁর। বেতনের তুলনায় ইএমআই শোধ করাও সহজ ছিল তাঁর পক্ষে। ফলে ফ্ল্যাট কিনে উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েছিলেন প্রাক্তন ওই প্রযুক্তিবিদ।

কিন্তু আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কয়েক মাস পর চাকরি হারান যুবক। চাকরি হারানোর পর পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় নেয়। তিন মাস কোনও আয় না থাকায় ইএমআই মেটানো তাঁর কাছে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপ সামলাতে তিনি অ্যাপ বাইক চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তাতেও চাপ কমেনি। মাসিক কিস্তি মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁকে।

Advertisement

সম্প্রতি ওই যুবকের সঙ্গে তাঁর এক বন্ধুর দেখা হয়। যুবকের মধ্যে মানসিক চাপের স্পষ্ট লক্ষণ দেখেন তাঁর বন্ধু। সেই বন্ধুই বিষয়টি সমাজমাধ্যমে তুলে ধরেছেন। জানিয়েছেন, নতুন চাকরি পাওয়ার অনিশ্চয়তা যুবকের মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা এখন তাঁর দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সমাজমাধ্যমে ওই পোস্টটি করা হয়েছে ‘বিবেক’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই পোস্ট। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। নেটাগরিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে পোস্টটি। সমাজমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা এবং বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। এক নেটাগরিক লিখেছেন, “আপনি যে পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন তার জন্য আমি খুবই দুঃখিত। আমি নিজেও একই রকম পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। কিন্তু একটি সহজ ও বাস্তবসম্মত পরামর্শ হল বাড়িটি ছেড়ে দেওয়া। কারণ এতে মানসিক চাপ এবং আর্থিক বোঝা কমবে। এটা হয়তো সহজ হবে না। কিন্তু পরিস্থিতি অনুযায়ী এটাই বাস্তবসম্মত।’’ অন্য এক জন আবার লিখেছেন, ‘‘সবচেয়ে ভাল হয় বাড়িটি মাসে ৬৫-৭০ হাজার টাকায় ভাড়া দিয়ে আগামী ২ বছরের জন্য একটি চাকরি খোঁজার চেষ্টা করা। একই সঙ্গে এটি বিক্রি করারও চেষ্টা করা। ১৫ লাখ টাকা লোকসান হলেও আপনার এটি বিক্রি করে দেওয়া উচিত।’’

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement