British Woman at Habra

হাবড়ায় এসে বাঙালি রীতিতে বিয়ে ব্রিটিশ কন্যার

ন্যাটালির বাড়ি ইংল্যান্ডের কেমব্রিজে। পাঁচ বছর আগে লন্ডনে পড়াশোনা করতে গিয়ে আকাশের সঙ্গে তাঁর পরিচয়। ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব পরিণত হয় প্রেমে।

সীমান্ত মৈত্র  

শেষ আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:২২
Share:

বিয়ের পিঁড়িতে ব্রিটিশ তরুণী মেটেলিয়া। ছবি: সুজিত দুয়ারি।

গায়ে হলুদের উজ্জ্বল আভা, লাল বেনারসীর ঝলক, শাঁখ-উলুধ্বনির মাঝে সংস্কৃত মন্ত্রোচ্চারণ— সব মিলিয়ে এক অনন্য আবহ। সেই আবহেই বাঙালি রীতিনীতি মেনে সাতপাকে বাঁধা পড়লেন ব্রিটেনের তরুণী ন্যাটালি ও হাবড়ার বাসিন্দা আকাশ ঘোষ। ভিন্‌ দেশি কন্যার মুখে সংস্কৃতে নিখুঁত মন্তোচ্চারণ শুনে বিস্মিত অতিথিরা। প্রেমের টানে কেমব্রিজ থেকে হাবড়া— দু’দেশের সংস্কৃতির মেলবন্ধনের সাক্ষী রইল শহর।

ন্যাটালির বাড়ি ইংল্যান্ডের কেমব্রিজে। পাঁচ বছর আগে লন্ডনে পড়াশোনা করতে গিয়ে আকাশের সঙ্গে তাঁর পরিচয়। ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব পরিণত হয় প্রেমে। আকাশ বর্তমানে ব্রিটেনের একটি সংস্থায় আইটি অপারেশনাল ম্যানেজার পদে কর্মরত। ২০২২ সালে সেখানে চাকরি পান। তবে ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে আসায় কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছিল। সে সময়ে পাশে দাঁড়ান ন্যাটালি। আকাশের বাবা আশিস ঘোষ বলেন, “কঠিন সময়ে ন্যাটালি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। তখনই বুঝেছিলাম, ওদের সম্পর্কটা শুধু ভালবাসারই নয়, দায়িত্ববোধেরও বটে।”

এর আগে দু’বার হাবড়ায় এসেছিলেন ন্যাটালি। এক বন্ধুর বিয়েতে এসে প্রথম কাছ থেকে দেখেন বাঙালি বিয়ের রীতি। গায়ে হলুদ, আশীর্বাদ, মালাবদল, সাতপাক— সব কিছুই তাঁকে মুগ্ধ করে। বাঙালি কৃষ্টি ও সংস্কৃতির প্রতি আকর্ষণ জন্মায় সেখান থেকে। ধীরে ধীরে বাংলা সংস্কৃতির নানা দিক জানতে শুরু করেন। পরে আকাশের পরিবারের সদস্যেরা ব্রিটেনে গিয়ে ন্যাটালির পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। স্থির হয়, বিয়ে হবে হাবড়ায়, সম্পূর্ণ বাঙালি আচার-অনুষ্ঠান মেনে।

বুধবার রাতে সেই স্বপ্নপূরণ হল যুগলের। ন্যাটালি পরেছিলেন লাল বেনারসী, মাথায় মুকুট, হাতে শাঁখা-পলা। গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে আত্মীয়দের সঙ্গে হেসে-খেলে যোগ দেন তিনি। বিয়ের আসরে পুরোহিত কমল চক্রবর্তী যখন মন্ত্র পাঠ করাচ্ছিলেন, তখন মন দিয়ে প্রতিটি শব্দ উচ্চারণ করেন ন্যাটালি। পুরোহিতের কথায়, “এত মনোযোগ দিয়ে সংস্কৃত মন্ত্র উচ্চারণ করতে খুব কম মানুষকেই দেখেছি। কখনও বিরক্ত হননি, বরং আগ্রহ নিয়ে প্রতিটি রীতি পালন করেছেন।”

আকাশের পরিবারের মনে এক সময়ে প্রশ্ন ছিল— ভিন্‌ দেশি বধূ কি বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবেন? কিন্তু সব সংশয় দূর করে দিয়েছেন ন্যাটালি। আশিসের কথায়, “বৌমার বাংলা সংস্কৃতি ও কৃষ্টির প্রতি আগ্রহ দেখে আমরা সত্যিই অবাক ও আনন্দিত।”

ন্যাটালি নিজেও আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “এ ভাবে বাঙালি নিয়মে বিয়ে করতে পেরে খুবই ভাল লাগছে। এই সংস্কৃতির উষ্ণতা আমাকে ছুঁয়ে গিয়েছে।”

পাশে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে আকাশের প্রতিক্রিয়া, “আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দের দিন। আমার স্ত্রী আমার সংস্কৃতিকে এত ভালবেসে গ্রহণ করেছে, এর চেয়ে আনন্দ আর কী হতে পারে!”

বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ন্যাটালির পরিবার ও আত্মীয়েরা। বাঙালি রীতিনীতি, সানাইয়ের সুর, আতিথেয়তা— সব কিছু মুগ্ধ করেছে তাঁদেরও। দুই পরিবারের মিলনে যেন গড়ে উঠল এক নতুন সেতুবন্ধন।

কিছু দিনের মধ্যে নবদম্পতি পাড়ি দেবেন ব্রিটেনে। তবে হাবড়ার মাটিতে তাঁদের এই ভালবাসার গল্প রয়ে যাবে স্মরণীয় হয়ে, বলছেন স্থানীয় অনেকেই।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন