অনিয়ম: পোড়ানো হচ্ছে বর্জ্য। সোমবার, বামনগাছি স্টেশন সংলগ্ন এলাকায়। ছবি: সুদীপ ঘোষ
সন্ধ্যা হলেই প্ল্যাটফর্মের এক পাশে প্লাস্টিক, ভাঙা লোহা, টিন, বিভিন্ন প্লাস্টিকজাত বর্জ্য জড়ো করে লাগানো হয় আগুন। তা থেকে বেরোনো কালো ধোঁয়া ও দুর্গন্ধে টেকা দায় হয় যাত্রীদের। শিয়ালদহ-বনগাঁ শাখার বামনগাছি স্টেশনের তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মে এ ভাবে প্লাস্টিক বর্জ্যের দহন নিয়ে সরব হয়েছেন অনেকেই। শীতকালীন দূষণের পাশাপাশি এ বারে কোভিডের প্রকোপও রয়েছে। এমতাবস্থায় এই দূষণ নিয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষের কাছে বার বার অভিযোগ জানিয়েও কোনও ফল হয়নি বলে অভিযোগ যাত্রী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের।
শুধু বামনগাছিই নয়, বারাসত-সহ উত্তর শহরতলির দমদম, নিউ ব্যারাকপুর, মধ্যমগ্রাম, দত্তপুকুর, গোলাবাড়ি, দেগঙ্গা এলাকায় প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এ ভাবেই প্লাস্টিক, পলিথিন, ভাঙা লোহার দোকান ও কারখানার বর্জ্য দিয়ে পুড়িয়ে দিচ্ছেন মালিকেরা। আর সেই দূষণ এবং বিষাক্ত গ্যাসে সমস্যায় পড়ছেন স্থানীয়েরা, বিশেষত রোগীরা।
স্থানীয় সূত্রের খবর, বিভিন্ন জায়গা ঘুরে ঘুরে বাড়ি, দোকান এবং কারখানা থেকে বাতিল জলের বোতল, বালতি, মগের মতো প্লাস্টিক জাতীয় বর্জ্য পদার্থ, ভাঙা লোহার জিনিস, টিন ইত্যাদি কিনে আনেন শ্রমিকরা। দড়ি দিয়ে বাঁধা ওই সব বর্জ্য রাস্তার পাশেই ডাঁই করে রাখা থাকে। তার মধ্যে যে সব জিনিস ফের ব্যবহারযোগ্য, সেগুলি কারখানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আর বাকি বর্জ্য পুড়িয়ে ফেলা হয় সেখানেই। চিকিৎসকেরাই জানাচ্ছেন, সেই বর্জ্য পোড়ানোর ধোঁয়া বাতাসে মিশে তৈরি হয় কার্বন মনোক্সাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাস, যা ফুসফুস-সহ শরীরের একাধিক অঙ্গের ক্ষতি করে।
দেগঙ্গার বেড়াচাঁপা থেকে বাদুড়িয়া যাওয়ার রাস্তায়, যদুরহাটি পঞ্চায়েতের উত্তর শেরপুর এলাকাতেও একটি বিশাল প্লাস্টিক কারখানা থেকে এ ভাবেই বর্জ্য জ্বালানো হয় বলে অভিযোগ। আরও অভিযোগ, এ জন্য এলাকার মানুষেরা কাশি, শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। তবু এ বিষয়ে বারবার প্রশাসনকে জানিয়ে লাভ হয়নি। এমনিতেই শীতকালীন দূষণ নিয়ে চিন্তায় থাকে প্রশাসন। সেই সঙ্গে এ বার রয়েছে করোনাও। এ অবস্থায় দিনের পর দিন ধরে এমন ভাবে প্লাস্টিক বর্জ্য কী ভাবে পোড়ানো চলছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়েরা।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) শঙ্কর পাল বলেন, ‘‘এমনিতেই প্লাস্টিক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নির্দিষ্ট মাত্রার বেশি পলিথিন বা প্লাস্টিক রূপান্তরিত করার নিয়মও রয়েছে। এ ভাবে আগুন ধরিয়ে দূষণ ছড়ানো আইনবিরুদ্ধ। বিষয়টি পরিবেশ দফতরকে দেখতে বলা হচ্ছে।’’