প্রতীকী ছবি।
তৃণমূল পরিচালিত ফুলমালঞ্চ পঞ্চায়েতের প্রধান দলের যুব নেতা ইউসুফ মোল্লার বিরুদ্ধে অনাস্থা আনতে চেয়ে বাসন্তী ব্লক প্রশাসনকে চিঠি পাঠিয়েছেন শাসক দলেরই পঞ্চায়েতে সদস্যদের একাংশ। তাঁদের সমর্থন জানিয়ে অনাস্থা প্রস্তাবে সই করেছেন চার নির্দল এবং আরএসপি এবং বিজেপি’র দুই পঞ্চায়েত সদস্য। এই ঘটনাকে ঘিরে ফের বাসন্তীতে শাসক দলের ‘কোন্দল’ প্রকাশ্যে এল বলে মনে করছেন জেলা রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরে তৃণমূল নেতৃত্বের স্পষ্ট বার্তা ছিল—দলীয় পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনতে পারবেন না দলের জনপ্রতিনিধিরা। ফুলমালঞ্চ পঞ্চায়েতের তৃণমূল জনপ্রতিনিধিদের একাংশের এই পদক্ষেপে ‘ক্ষুব্ধ’ দলের জেলা নেতৃত্ব। গত ১০ জুন ১৫ জন পঞ্চায়েত সদস্য পঞ্চায়েত প্রধানের অপসারণ চেয়ে বিডিও-কে চিঠি দিয়েছেন। আগামী ২৫ জুন দুপুরে পঞ্চায়েত কার্যালয়ে আস্থা ভোট হবে বলে বাসন্তী ব্লক প্রশাসন সূত্রের খবর।
পঞ্চায়েতের মোট আসন ২৩। তৃণমূলের দখলে রয়েছে ১৪টি। সাতটি আসনে জিতেছিলেন তৃণমূল ঘনিষ্ঠ নির্দল প্রার্থীরা। একটি করে আসনে জয়ী হয়েছিল আরএসপি এবং বিজেপি। নির্দল সদস্যদের সমর্থনে পঞ্চায়েতের প্রধান হন ইউসুফ। ব্লক প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রধানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থায় সই করেছেন ১৫ জন পঞ্চায়েত সদস্য।
তৃণমূল সূত্রে খবর, ইউসুফকে পদ থেকে সরাতে চান পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য জাকির শেখ ও তাঁর অনুগামীরা। অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেওয়ার পরেই বেশ কয়েকজন পঞ্চায়েত সদস্যকে তাঁরা এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। ঝড়খালিতে গোপন আস্তানায় তাঁদের রাখা হয়েছে বলে তৃণমূল সূত্রে
খবর।
জাকির বলেন, “পঞ্চায়েত প্রধান গত কয়েক বছরে বহু দুর্নীতি করেছেন। মানুষকে ঘর দেওয়ার নাম করে টাকা নিয়েছেন। গত বিধানসভা নির্বাচনে ওঁর নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট করিয়েছেন। সেই কারণেই আমরা ওঁর অপসারণ চাই।”
পক্ষান্তরে, ইউসুফের দাবি, “দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত ভাবে আমার ও আমার অনুগামীদের উপরে অত্যাচার চলছে। মিথ্যা মামলায় আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।
মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। দলের নির্দেশ অমান্য করে আমার বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হয়েছে বলে শুনেছি। দল যা সিদ্ধান্ত নেবে তা মাথা পেতে নেব।”
দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তী বলেন, “দলে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এই মুহূর্তে কোনও পঞ্চায়েতেই অনাস্থা আনা যাবে না। বিধানসভা নির্বাচনে ইউসুফের বিরুদ্ধে দলবিরোধী কাজের অভিযোগ করেছেন কয়েকজন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”
প্রায় ন’মাস আগে আমির আলি সর্দার নামে এক তৃণমূল কর্মী খুনের ঘটনায় ইউসুফ-সহ বেশ কয়েকজন যুব তৃণমূল নেতার নাম জড়ায়। গ্রেফতার করা হয় প্রধান-সহ কয়েকজনকে। সেই থেকেই এলাকায় কোণঠাসা হয়ে পড়েন ইউসুফ ও তাঁর অনুগামীরা। জামিন পেলেও এলাকায় ঢোকার উপরে নিষেধাজ্ঞা থাকায় বাসন্তীতে ঢুকতে পারেননি ইউসুফ। পঞ্চায়েত চালাতে শুরু করেন উপপ্রধান শঙ্কর সর্দার। সম্প্রতি ইউসুফকে পঞ্চায়েতের দায়িত্ব দেওয়ার সরকারি নির্দেশিকা জারি হয়। কিন্ত সেই নির্দেশ
মানা হয়নি বলে অভিযোগ ইউসুফের।
২০১৬ বিধানসভা নির্বাচন মিটতেই বাসন্তীতে তৃণমূলের ‘কোন্দল’ প্রকাশ্যে আসে। সংঘর্ষের অনেক ঘটনাও ঘটে। অগ্নিসংযোগ থেকে শুরু করে খুন— গত পাঁচ বছরে অনেক ঘটনার সাক্ষী বাসন্তী। গত বিধানসভা ভোটের আগে ফুলমালঞ্চ ও কাঁঠালবেরিয়া-সহ আশপাশের আরও কয়েকটি পঞ্চায়েত এলাকায় তৃণমূলের ‘কোন্দল’ চরমে উঠেছিল। মাস কয়েক আগে গোসাবার তৃণমূল বিধায়ক জয়ন্ত নস্করের হস্তক্ষেপে সমস্যা ধামাচাপা পড়ে। বিবাদমান দুই গোষ্ঠী এক হয়। তার পরে ফের কোন্দল মাথাচাড়া দেওয়ায় চিন্তিত দলীয় নেতৃত্বের একাংশ।