পানিহাটি শ্মশানে গেল সিবিআই। —নিজস্ব চিত্র।
আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ এবং খুনের তদন্ত নতুন করে গতি পেয়েছে। বুধবার সকালে পানিহাটি শ্মশানে পৌঁছে গেল সিবিআইয়ের একটি দল। জানা গিয়েছে, মৃত চিকিৎসককে শ্মশানে আনার পর কী কী ঘটেছিল, কী ভাবে তাঁর দেহ সৎকার হয়— তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সংগ্রহ করতেই এই পদক্ষেপ।
আরজি কর-কাণ্ডের তদন্ত নিয়ে প্রথম থেকেই প্রশ্ন তুলছে নিহতের পরিবার। শুধু তা-ই নয়, প্রমাণ লোপাট, গাফিলতি, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার চেষ্টারও অভিযোগও উঠেছে। তাদের দাবি, তড়িঘড়ি ওই চিকিৎসকের দেহ পানিহাটি শ্মশানে নিয়ে গিয়ে শেষকৃত্য করা হয়। কেন এত তাড়াহুড়ো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিহতের বাবা-মা।
সে দিন ঠিক কী ঘটেছিল? সূত্রের খবর, মৃত চিকিৎসকের শেষকৃত্য করার কথা জানানো হয়েছিল পানিহাটি শ্মশানের ম্যানেজার ভোলানাথ পাত্রকে। তাঁকে জানানো হয়, স্থানীয় একটি মেয়ের দেহ আসবে। সেই মতো সব ব্যবস্থা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। তবে ভোলানাথেরা তত ক্ষণে আরজি কর-কাণ্ডের কথা জেনে গিয়েছেন। শ্মশানে বাড়তে থাকে পুলিশি নিরাপত্তা। স্থানীয় বিধায়ক, কাউন্সিলর, নেতাদের ভিড়ও ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।
সেই ভিড়ের কারণে যাতে বিশৃঙ্খলা তৈরি না-হয়, সেই কারণে কি আগেভাগে মৃত মহিলা চিকিৎসকের দেহ দাহ করা হয়েছিল? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সিবিআই আধিকারিকেরা ভোলানাথের সঙ্গে কথা বলেন। তা ছাড়া, নানান খুঁটিনাটি বিষয় সম্পর্কে খোঁজখবর নেয় সিবিআই। তদন্তের সূত্র ধরে সোমবার আরজি কর হাসপাতালেও গিয়েছিল তারা।
দু’বছর আগে, ২০২৪ সালের অগস্টে আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণ ও খুন করা হয় এক মহিলা চিকিৎসককে। ওই ঘটনায় আসামি সঞ্জয় রায়কে ইতিমধ্যে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। তবে আরজি করের ওই ঘটনার তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফের আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে নির্যাতিতার পরিবার। গত মাসেই হাই কোর্ট সিবিআই-কে জানায়, আরজি কর হাসপাতালের সেমিনার হল-সহ যে যে জায়গা সিল করার প্রয়োজন, সেগুলি সিল করে দিতে হবে। রাজ্যে পালাবদলের পর আবার আরজি কর তদন্তের ফাইল খোলার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।