FIFA World Cup 2026

মেসির মতো হ্যাটট্রিক করতে পারতেন এমবাপেও, ন্যায্য পেনাল্টি পাননি ফরাসি তারকা! বিশ্বকাপে নতুন বিতর্ক

চলতি বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন কিলিয়ান এমবাপে। কিন্তু লিয়োনেল মেসির মতো তিনিও হ্যাটট্রিক করতে পারতেন। একটি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু বিতর্ক।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬ ১৪:৩৪
Share:

কিলিয়ান এমবাপেকে সাদিয়ো মানের ট্যাকলের সেই মুহূর্ত। ছবি: রয়টার্স।

হ্যাটট্রিক করেছেন লিয়োনেল মেসি। হ্যাটট্রিক করতে পারতেন কিলিয়ান এমবাপেও। চলতি বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন এমবাপে। পেনাল্টি থেকে আরও একটি গোল করতে পারতেন তিনি। কিন্তু সেই পেনাল্টি দেননি রেফারি। তা নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক।

Advertisement

ঠিক কী হয়েছিল মাঠে?

দ্বিতীয়ার্ধে একটি বল পেয়ে প্রান্ত ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন এমবাপে। তাঁর যা গতি ছিল তাতে গোলের কাছে পৌঁছে গেলে তাঁকে থামানো কঠিন ছিল। সেই সময় পিছন থেকে এসে সাদিয়ো মানে বক্সের মধ্যে ট্যাকল্‌ করেন। এমবাপে পড়ে যান। রেফারি আলিরেজা ফাঘানি প্রথমে কর্নার দেন। ফ্রান্সের ফুটবলারেরা পেনাল্টির আবেদন করছিলেন। ভার-ও রেফারিকে পরামর্শ দেন রিপ্লে দেখার। গ্যালারিতে তখন চিৎকারে কান পাতা দায়। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ৮০ হাজারের বেশি দর্শকের মধ্যে ৭৫ হাজারই ছিলেন ফরাসি সমর্থক। সকলে ভাবছিলেন, পেনাল্টি হবে। সকলকে অবাক করে রেফারি ফাঘানি জানালেন, এমবাপেই ইচ্ছা করে মানের পায়ে পা লাগিয়েছেন। তাই কর্নার নয়, তার বদলে গোল কিক দেওয়া হয়।

Advertisement

রেফারি ফাঘানি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হলেও জন্মসূত্রে তিনি ইরানের। এমবাপেকে পেনাল্টি না দেওয়া নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। কারণ, খালি চোখে দেখে মনে হয়েছিল, মানে বলে পা লাগাতে পারেননি। তাঁর পা সরাসরি এমবাপের পায়ে লাগে। আর ওই পরিস্থিতিতে যে কোনও স্ট্রাইকার ডিফেন্ডারের পা জড়িয়ে পড়বেন। ফুটবলে এ রকম পেনাল্টি হামেশাই দেখা যায়। কিন্তু ফাঘানি দিলেন না। উল্টে তাঁর মনে হয়েছে এমবাপেই ইচ্ছা করে মানের পায়ে পা লাগিয়ে পড়ে যান। রেফারির কথা শুনে অবাক হয়ে যান এমবাপে। তিনি বুঝতে পারছিলেন না, কোন যুক্তিতে পেনাল্টি বাতিল করা হয়েছে।

এই ঘটনার পর ধারাভাষ্যকার তথা ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ফুটবলার অ্যালান শিয়ারার অবাক হয়ে যান। তিনি বলেন, “আমি বুঝতেই পারলাম না। মানে স্লাইডিং ট্যাকল্‌ করেছিল। এমবাপের পায়ে লাগে। এমবাপে তো সামনে ছিল। তা হলে ও কী ভাবে মানের পায়ে পা লাগিয়ে পড়বে? খুবই অদ্ভুত সিদ্ধান্ত।”

আর এক ধারাভাষ্যকার প্যাট নেভিন বলেন, “খুব বাজে সিদ্ধান্ত। এর কোনও মানে হয় না। এমবাপে কী ভাবে পায়ে পা লাগাবে? আমি এই রকম বাজে যুক্তি আগে শুনিনি।” বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলা পরিচালনা করা সহকারী রেফারি ড্যারেন ক্যান বলেন, “সত্যি বলতে, আমি রেফারির এই সিদ্ধান্ত মানতে পারছি না। আমার মতে, এটা পরিষ্কার পেনাল্টি। আমার কাছে একের পর এক ফোন আসছে। তাদের প্রত্যেকের প্রশ্ন, কেন পেনাল্টি দেওয়া হল না। বুঝতে পারলাম না, ভার প্রযুক্তির পরেও কী ভাবে এত খারাপ সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।”

পেনাল্টির আবেদন নাকচ হওয়ার পর জোড়া গোল করেন এমবাপে। পেলে, জঁ ফঁতেকে টপকে বিশ্বকাপে ১৪ গোলের মালিক হয়েছেন তিনি। ছুঁয়ে ফেলেছেন গার্ড মুলারকে। তাঁর সামনে এখন ব্রাজ়িলের রোনাল্ডো, আর্জেন্টিনার মেসি ও জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোজ়ে। তবে মুলারকেও ছাপিয়ে যেতে পারতেন এমবাপে। পেনাল্টি দিলে তিনিই সেটি নিতেন। পেনাল্টি থেকে এমবাপে গোল সাধারণত মিস্‌ করেন না। যদি তা হত তা হলে বিশ্বকাপে পর পর দু’ম্যাচে হ্যাটট্রিক হত তাঁর। গত বারের বিশ্বকাপের ফাইনালে হ্যাটট্রিক করেছিলেন এমবাপে। এ বার প্রথম ম্যাচেই সেই সুযোগ ছিল। কিন্তু রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তে তা হল না।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement