— প্রতীকী চিত্র।
মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্পে একশো দিনের কাজ মিলত। পরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনে পশ্চিমবঙ্গে তা বন্ধ হয়ে যায়। রাজ্যে পালাবদলের পর একশো দিনের পরিবর্তে ‘বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার ও জীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ প্রকল্পে ১২৫ দিনের কাজ চালু করার কথা ঘোষণা করে প্রশাসন।
আজ, ১ জুলাই থেকেই রাজ্যের গ্রামীণ এলাকায় এই কাজ শুরু হয়ে যাওয়ার কথা। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় অবশ্য এ দিন থেকেই সার্বিক ভাবে ১২৫ দিনের কাজ শুরু হচ্ছে না। তবে ধাপে ধাপে কাজ শুরু হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, আগে একশো দিনের কাজ করে অনেক সময়ে টাকা মেলেনি, মিললেও টাকা পেতে দেরি হয়েছে। নতুন প্রকল্পে সময় মতো মজুরি দেওয়া হোক।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, বিভিন্ন ব্লক প্রশাসন কোন এলাকায় কী কাজ হবে তার প্রস্তাব জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠিয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত সেই প্রস্তাবে অনুমোদন মেলেনি। জেলার এক বিডিও বলেন, “সরকারি জায়গায় একটি পুকুর খননের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে পঞ্চায়েত মন্ত্রীর আসার কথা রয়েছে। তাই বুধবার থেকে কাজ শুরু হচ্ছে না।” অন্য এক বিডিও জানান, “পুকুর খননের একটি প্রস্তাব জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন এলেই কাজ শুরু হবে।” অন্য দিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, এ দিন থেকে আপাতত তিনটি ব্লকে কাজ শুরু হচ্ছে। পরে ধাপে ধাপে জেলা জুড়েই প্রকল্পের কাজ হবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন প্রকল্পে বছরে ১২৫ দিনের কাজের পাশাপাশি, কাজের আবেদন করার ১৫ দিনের মধ্যে কাজ না মিললে বেকার ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নতুন শ্রমিক পরিচয়পত্র তৈরি না হওয়া পর্যন্ত আগে থেকেই যাচাইকৃত শ্রমিক পরিচয়পত্র বৈধ থাকবে। তবে কাজ নিয়ে শ্রমিকদের একাংশের মধ্যে উৎসাহের পাশাপাশি সংশয়ও রয়েছে। বর্তমানে দৈনিক মজুরি ২৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাগদার এক শ্রমিক বলেন, “খেতমজুরের কাজ করলেও এর থেকে বেশি টাকা পাওয়া যায়। আগে বাইরে কাজ করতে গিয়েছি। এখন কী করব বুঝতে পারছি না।” গাইঘাটার এক শ্রমিকের কথায়, “আগে একশো দিনের কাজ প্রকল্পে কাজ করে টাকা পেতে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। অনেক সময়ে টাকা পাওয়াও যায়নি। নতুন প্রকল্পে অন্তত সময় মতো মজুরি দিক।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে