coronavirus

স্থানীয় সংস্পর্শেও ছড়াচ্ছে করোনা, বাড়ছে উদ্বেগ   

পুরসভা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হাটথুবা এলাকার বাসিন্দা এক ব্যবসায়ী এবং তাঁর গাড়ির চালক দিন কয়েক আগে করোনায় আক্রান্ত হন। ওই ব্যবসায়ী কলকাতায় গিয়েছিলেন।

Advertisement

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১৯ জুন ২০২০ ০৫:৫০
Share:

থুতনির নীচেই ঝুলছে মাস্ক। হাবড়ায়। ছবি: সুজিত দুয়ারি

হাবড়া শহর, গাইঘাটা ও বনগাঁ ব্লকে বাড়ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। বুধবার হাবড়া গাইঘাটা ও বনগাঁ ব্লকে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১০ জন। একই দিনে হাবড়া শহরের ৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। হাবড়া পুরসভার স্বাস্থ্য আধিকারিক মানস দাস বলেন, ‘‘বুধবার রাতে শহরের হিজলপুকুর এবং হাটথুবা এলাকায় ৪ জন ব্যক্তির লালারস পরীক্ষার রিপোর্ট এসে পৌঁছয়। চারজনেরই করোনা পজ়িটিভ বেরিয়েছে।’’
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, করোনা আক্রান্তদের বাড়ি কন্টেনমেন্ট জ়োন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এলাকা জীবাণুমুক্ত করা হয়েছে। ওই ৪ জন-সহ হাবড়া শহরে পজ়িটিভ হলেন
১৪ জন। মানস বলেন, ‘‘বুধবার করোনা পজ়িটিভ হওয়া ৪ ব্যক্তি অন্য করোনা পজ়িটিভ মানুষের সংস্পর্শে এসেছিলেন। এই প্রথম হাবড়া শহরে সংস্পর্শে আসা মানুষ আক্রান্ত হলেন।’’

Advertisement

পুরসভা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হাটথুবা এলাকার বাসিন্দা এক ব্যবসায়ী এবং তাঁর গাড়ির চালক দিন কয়েক আগে করোনায় আক্রান্ত হন। ওই ব্যবসায়ী কলকাতায় গিয়েছিলেন। তাঁর শাশুড়ি এবং গৃহসহায়িকার রিপোর্ট পজ়িটিভ আসে বুধবার।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, হিজলপুর এলাকায় একই পরিবারের এক ব্যক্তি ও মহিলা করোনা পজ়িটিভ হয়েছেন। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই পরিবারে কয়েক মাস আগে ভিন্ রাজ্য থেকে এসেছিলেন এক বৃদ্ধ। তিনি করোনায় আক্রান্ত হন। পরে মারাও গিয়েছেন।

গাইঘাটা ব্লকের নতুন করে ২ জন করোনা পজ়িটিভ হয়েছেন বুধবার। বিএমওএইচ সুজন গায়েন বলেন, ‘‘বুধবার ব্লকের জলেশ্বর ও বাগনা এলাকা থেকে অন্তঃসত্ত্বা এক মহিলা-সহ দু’জনের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট এসেছে। দু’জনেই করোনা পজ়িটিভ। অন্তঃসত্ত্বা মহিলার বাড়ি হাবড়ার বেড়গুম এলাকায়। তিনি বাগনায় বাপের বাড়িতে এসেছিলেন। কলকাতায় শারীরিক পরীক্ষা করাতে গিয়েছিলেন। অন্যজন গ্রামীণ চিকিৎসক। দু’জনকেই বাড়িতে রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছে।’’ স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গাইঘাটা ব্লকে মোট করোনা পজ়িটিভ মানুষের সংখ্যা ৩০ জন।

Advertisement

বনগাঁ ব্লক এলাকায় বুধবার ৪ জন করোনা পজ়িটিভ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিএমওএইচ মৃগাঙ্ক সাহা রায়। তিনি জানান, আক্রান্তদের মধ্যে এক বিএসএফ জওয়ান ও দশ বছরের বালকও আছে। ব্লক স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ৪ জনের মধ্যে বল্লভপুর এলাকায় এক পরিযায়ী শ্রমিকও রয়েছেন। তিনি সম্প্রতি কেরল থেকে এসে স্কুলে নিভৃতবাসে ছিলেন। ওই নিভৃতবাসে থাকা বাকি ৪ জন পরিযায়ী শ্রমিককে বারাসতে সরকারি নিভৃতবাস কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। আক্রান্তকে কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পোলতা এলাকায় চব্বিশ বছরের যুবক করোনা পজ়িটিভ হয়েছেন। তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত। ধর্মপুকুরিয়া এলাকার দশ বছরের যে বালকের শরীরে করোনাভাইরাস মিলেছে, সে দিন কয়েক আগে বমি-পায়খানা নিয়ে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। বনগাঁ ব্লকে করোনা পজ়িটিভ মানুষের সংখ্যা দাঁড়াল ১৮।

বসিরহাট মহকুমাতেও বেড়ে চলেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। পুলিশ অফিসার, ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকের পরে এ বার বাদুড়িয়ার বাসিন্দা এক পুলিশ অফিসার ও তাঁর স্ত্রী-সন্তান আক্রান্ত হলেন। বসিরহাট উপসংশোধনাগারের এক ফার্মাসিস্ট ও কনস্টেবলেরও রিপোর্ট পজ়িটিভ মিলেছে। বসিরহাট হাসপাতালের দুই নার্সের লালারস পরীক্ষায় করোনা পজ়িটিভ মিলেছে। তাঁদের নিভৃতবাসে রাখা হয়েছে। বসিরহাট স্বাস্থ্যজেলার আধিকারিক দেবব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪২০০ মানুষের লালারস পরীক্ষা করা হয়েছে। তার মধ্যে বসিরহাটে ১৫৬ জনের করোনা পজ়িটিভ মিলেছে।’’
পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাদুড়িয়ার বাসিন্দা ওই ব্যক্তি কলকাতার একটি থানায় এএসআই হিসাবে কর্মরত। সম্প্রতি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। বুধবার তাঁর স্ত্রী ও বছর চারেকের শিশুর রিপোর্টে পজ়িটিভ বেরোয়। বাদুড়িয়ায় এ নিয়ে ২২ জন করোনা আক্রান্ত হলেন। পুলিশ জানায়, বসিরহাট শহরে ১৮ জন এবং বসিরহাট ১ ব্লকে ২২ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।

গত দু’দিনে ডায়মন্ড হারবার পুরসভা এলাকায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন পাঁচজন। পুরসভার ৫, ১০ ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে একজন করে এবং ১২ নম্বর ওয়ার্ডে দু’জনের পজ়িটিভ রিপোর্ট এসেছে। ডায়মন্ড হারবার স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য আধিকারিক দেবাশিস রায় বলেন, ‘‘ওই পাঁচজনকে কলকাতার জোকায় করোনা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ওঁদের সংস্পর্শে কতজন এসেছিলেন, খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement