প্রতীকী ছবি।
‘স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড’ প্রকল্পে পড়াশোনার জন্য ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ পেতে দরখাস্ত আসছে রাশি রাশি। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই তিন হাজারেরও বেশি পড়ুয়ার আবেদনপত্র খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষগুলির কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত ঋণ পেয়েছেন কমবেশি ১৩৫ জন!
প্রশাসনের দাবি, প্রকল্পকে স্বাগত জানালেও অনেক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক এখনও ঋণ দেওয়া শুরু করেনি। এ বিষয়ে ব্যাঙ্কগুলির সঙ্গে আলোচনা চলছে। দ্রুত সব রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কর্তৃপক্ষই ঋণ দেওয়ার অনুমোদন দিয়ে দেবেন বলে আশাবাদী প্রশাসন।
বিধানসভা ভোটের আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন। মাস দেড়েক আগে রাজ্য জুড়ে চালু হয়েছে প্রকল্প। কিন্তু অনেক ব্যাঙ্কের থেকে প্রত্যাশিত সাহায্য মিলছে না বলে অভিযোগ আসছে বিভিন্ন জেলা থেকে। ব্যতিক্রম নয় দক্ষিণ ২৪ পরগনাও।
এক বিডিওর কথায়, ‘‘অনেক ছাত্রই আমাদের কাছে এসে ঋণ না পাওয়ার অভিযোগ করছেন।’’ আর এক আধিকারিক বলেন, ‘‘ভিডিয়ো কনফারেন্সে সব ব্যাঙ্কের প্রতিনিধিই প্রকল্পকে স্বাগত জানিয়েছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ঋণ দিচ্ছে কেবলমাত্র পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক, বঙ্গীয় গ্রামীণ বিকাশ ব্যাঙ্ক এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক।’’ আর এক বিডিওর কথায়, ‘‘পড়ুয়ারা বার বার ব্যাঙ্কে গিয়ে ফিরে আসছেন। তাঁদের কাউকে বলা হচ্ছে, এখনও ঋণ দেওয়ার ছাড়পত্র এসে পৌঁছয়নি। কাউকে আবার বলা হচ্ছে, অন্য প্রকল্পে ঋণ দেওয়ার কাজ চলছে। স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডে পরে ঋণ দেওয়া হবে। অথচ, প্রশাসন ও শিক্ষা দফতরের তরফে যা করণীয়, সবই করা হয়েছে।’’
স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড প্রকল্প রূপায়ণের দায়িত্বে রয়েছে শিক্ষা দফতর। দফতরের এক আধিকারিকের দাবি, ‘‘সম্প্রতি ওই প্রকল্পে ঋণ দেওয়ার গতি অনেকটাই বেড়েছে। পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক-সহ তিনটি ব্যাঙ্ক খুবই ইতিবাচক ভূমিকা নিয়েছে। অন্য ব্যাঙ্কগুলিও ঋণ দেবে বলেছে। কিন্তু এখনও দেয়নি। আশা করছি, তারাও এই প্রকল্প সার্থক করতে এগিয়ে আসবে।’’ তিনি বলেন, ‘‘যে গতিতে ঋণ দেওয়া হচ্ছে, তাতে আমাদের আশা, পুজোর মধ্যে কমবেশি ৫০০ পড়ুয়াকে ঋণ দেওয়া যাবে। প্রায় তিন হাজার আবেদন খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কগুলির কাছে পাঠানো হয়েছে।’’
ব্যাঙ্কগুলির সঙ্গে প্রশাসনের সমন্বয়সাধনের কাজ যে ব্যাঙ্ক করে, তাকে প্রশাসনিক পরিভাষায় ‘লিড ব্যাঙ্ক’ বলা হয়। এ রাজ্যে সেই দায়িত্বে রয়েছে পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক। প্রতিটি জেলায় ওই ব্যাঙ্কের এক আধিকারিককে (যাঁকে লিড ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার বলা হয়) সেই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ‘লিড ব্যাঙ্ক ম্যানেজার’ রজত বালার অবশ্য দাবি ‘‘আমাদের কাছে থাকা তথ্য বলছে, জেলায় ওই প্রকল্পে ২৪৬৫টি আবেদন (পেন্ডিং অ্যাপ্লিকেশন) বিবেচনাধীন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রথম দিকে ঋণ দেওয়া নিয়ে কিছু সমস্যা ছিল। তবে আস্তে আস্তে সে সব মিটে যাচ্ছে। রাজ্য সরকারের এই প্রকল্পকে প্রতিটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক স্বাগত জানিয়েছে। আমাদের ব্যাঙ্ক বহু পড়ুয়াকে ঋণ দিয়েছে। বঙ্গীয় বিকাশ ব্যাঙ্ক এবং স্টেট কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কও ঋণ দিচ্ছে। ঋণ দেওয়ার অনুমোদন আসে হেড কোয়ার্টার (সদর কার্যালয়) থেকে। আশা করছি, এ মাসের মধ্যেই আরও একটি ব্যাঙ্ক সেই অনুমোদন দিয়ে দেবে। বাকিরাও দ্রুত অনুমোদন দিয়ে দেবে বলে আশা করছি।’’
রজত জানান, পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক এখনও পর্যন্ত ৭৬ জনকে ঋণ দিয়েছে। কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক ঋণ দিয়েছে চল্লিশের বেশি পড়ুয়াকে।