—প্রতীকী চিত্র।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনে (এসআইআর) নাম বাদ যাওয়ায় শুনানিতে হাজির হতে বলা হয়েছিলব্যারাকপুর কমিশনারেটের জেঠিয়া নান্না এলাকার বাসিন্দা, অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী রত্না চক্রবর্তীকে (৬৩)। মঙ্গলবার ব্যারাকপুর ১ ব্লক অফিসে শুনানির লাইনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়ানোর পরে দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ তাঁর শুনানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, এর পরে বেরিয়ে আসার সময়ে গেটের কাছে পড়ে যান ওই প্রৌঢ়া। তাঁকে নৈহাটি স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা জানান, তিনি হৃদ্রোগেআক্রান্ত হয়েছেন। তড়িঘড়ি রত্নাকে কল্যাণীর গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে পাঠানো হলেও পথেই মারা যান তিনি।
এ দিন ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক ও নৈহাটির বিধায়ক সনৎ দে হাসপাতালে গিয়ে ওই প্রৌঢ়ার পরিজনদের সঙ্গে দেখা করেন। পরে পার্থ বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী ওঅভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এসআইআর-এর শুনানি প্রক্রিয়ায় বয়স্কদের তলব করা নিয়ে বার বার বলছেন। প্রতিদিন মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে শুনানির আতঙ্কে। এ ক্ষেত্রেও তা-ই হল। অথচ, নির্বাচন কমিশন নির্বিকার।’’ যদিওএসআইআর-আতঙ্কে এই মৃত্যু কিনা, তা খতিয়ে দেখার দাবি তুলে রাজ্য বিজেপির নেত্রী ফাল্গুনী পাত্র বলেন, ‘‘মৃত্যু মানেই কি এসআইআর-আতঙ্কে? আর তাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার করা হবে?এসআইআর-এর কারণেই মৃত্যু, এটা কী ভাবে প্রমাণিত হল?’’
সনৎ পাল্টা বলেন, ‘‘হতেই পারে, প্রৌঢ়া অসুস্থ ছিলেন। সে ক্ষেত্রে কমিশনের বাড়ি গিয়ে শুনানি করা উচিত ছিল। অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মীর নাম বাদ যাওয়াটাই তো অস্বাভাবিক। সব তথ্য ও নথি জমা দিয়েই তো উনি এত বছর চাকরি করেছেন।’’
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নান্না এলাকায় একটি আবাসনে একা থাকতেন রত্না। তাঁর স্বামী মারা গিয়েছেন। ছেলে বিশ্বজিৎ কল্যাণীর একটি নেশামুক্তি কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এসআইআর-এর শুনানির জন্য এ দিন সকালে তিনি বাড়ি ফেরেন। বিশ্বজিৎ বলেন, ‘‘মাকে নিয়ে শুনানি কেন্দ্রে গিয়েছিলাম। ঠান্ডায় লাইনে দাঁড়াতেও কষ্ট হচ্ছিল। এসআইআর প্রক্রিয়া এবং তার জন্য ছোটাছুটি নিয়ে মা উদ্বিগ্ন ছিলেন।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে