coronavirus

চল্লিশ বছর বাদাম বিক্রি করে অন্য কাজ জানা নেই শ্যামলের

ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে প্রায় দু’মাস কোনও কাজ না পেয়ে বাড়িতে বসেছিলেন। কিছু দিন হল রাজমিস্ত্রির হেল্পার হিসাবে কাজ করছেন।

Advertisement

নবেন্দু ঘোষ

শেষ আপডেট: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০৫:০৩
Share:

ফাইল চিত্র

মেট্রো চলাচলের সবুজ সঙ্কেত মিলেছে। লোকাল ট্রেন চলার আশা তৈরি হয়েছে। কিছু স্টেশনে দূরত্ববিধি মেনে দাঁড়ানোর জন্য চকের গোল দাগ কাটতে দেখা গিয়েছে। সব মিলিয়ে লকডাউনে কর্মহীন ট্রেনের হকারেরা ফের পুরনো জীবিকায় অপেক্ষায়।
টাকি পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দরমার ঘরে থাকেন গৌতম খাঁড়া। বাড়িতে আছেন বৃদ্ধ মা-বাবা, দাদা ও অসুস্থ বোন। গৌতম প্রায় বারো বছর ধরে হাসনাবাদ শাখায় ট্রেনে চা বিক্রি করেন। দিনে প্রায় ৩৫০ টাকা আয় করতেন। ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে প্রায় দু’মাস কোনও কাজ না পেয়ে বাড়িতে বসেছিলেন। কিছু দিন হল রাজমিস্ত্রির হেল্পার হিসাবে কাজ করছেন। ২৫০ টাকা পান দিনে। তা-ও সপ্তাহে ২-৩ দিনের বেশি কাজ পাচ্ছেন না। গৌতম বলেন, ‘‘দাদারও তেমন কাজ হচ্ছে না। দু’জনে এখন যা আয় করি, তার বেশিরভাগ চলে যাচ্ছে বোনের ওষুধ কিনতে। আর রেশনের চাল, আটা পাচ্ছি বলে ডাল-ভাতটুকু জুটছে।” গৌতম জানান, তাঁর বৃদ্ধ বাবাকে টাকার অভাবে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যেতে পারছেন না।
হাসনাবাদ শাখায় কিছু দিনের মধ্যেই ট্রেন চলতে পারে বলে শুনেছেন গৌতম। সরকারি নির্দেশ না এলেও আলোচনা শুরু হয়েছে লোকজনের মুখে মুখে। গৌতম বলেন, ‘‘হাসনাবাদ শাখায় ট্রেনে প্রায় দেড়শোজন হকার চা বিক্রি করেন। সকলেরই অবস্থা খারাপ। আমরা সবাই ট্রেন চালু হওয়ার অপেক্ষায় মুখিয়ে আছি।’’
এই শাখায় প্রায় ৩০ জন ভাজাভুজি বিক্রি করতেন। এমনই একজন টাকির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মনোতোষ দাস। প্রায় ১০ বছর ধরে রয়েছেন এই জীবিকায়। দিনে মোটামুটি ৩৫০ টাকা আয় হত বলে জানালেন। সংসার কোনও মতে চলে যেত। ট্রেন বন্ধ থাকায় আপাতত দিনমজুরের কাজ করেছেন। কিন্তু সপ্তাহে তিনদিনের বেশি কাজ পাচ্ছেন না।
মনোতোষ বলেন, ‘‘২০০ টাকা পাই একদিন কাজ হলে। তা-ও এখন কেউ বাড়িতে কাজে নিচ্ছে না। সংসার চালাতে পারছি না। রেশন পাই বলে খাওয়া জুটছে। এ বার ট্রেন চলবে বলে শুনছি। কবে সব ঠিকঠাক হবে, জানি না।’’ অনেকে অবশ্য বয়সের কারণেই পেশা বদলাতে পারেননি। যেমন টাকির বাসিন্দা শ্যামল দাস। আটান্ন বছরের শ্যামল গত চল্লিশ বছর ধরে ট্রেনে বাদাম বিক্রি করছেন। ট্রেন বন্ধ, তাই কাজও নেই। তিনি বলেন, ‘‘বাদাম বিক্রি ছাড়া আর কোনও কাজ কখনও করিনি। অপেক্ষায় আছি ট্রেন চলার।’’ শ্যামল জানান, পরিবারে ন’জন সদস্য। তাঁর দুই ছেলে সামান্য কাজ করতেন। তা-ও নেই। এখন এক ছেলে খুব কষ্টে সংসার চালাচ্ছেন বলে জানালেন শ্যামল।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement