নিজেদের তৈরি আবির বিক্রি করছে পড়ুয়ারা। নিজস্ব চিত্র।
দোলের আগে গাইঘাটার শশাডাঙা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খুদে পড়ুয়ারা মিলে স্কুলেই তৈরি করেছে ভেষজ আবির। শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে এবং কয়েকজন অভিভাবকের সহায়তায় এবার প্রায় ২৫ কেজি ভেষজ আবির তৈরি হয়েছে স্কুলে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণেই বিক্রয়কেন্দ্র খুলে সেই আবির বিক্রিরও ব্যবস্থা হয়েছে।
স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দোলের আনন্দকে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব করে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফুল, পাতা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহার করে এই আবির তৈরি হয়েছে। এই আবির সম্পূর্ণ ত্বক-নিরাপদ এবং রাসায়নিকমুক্ত বলেই দাবি।
ইতিমধ্যে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে আবির বিক্রি শুরু হয়েছে। স্কুলে লাগানো হয়েছে ফ্লেক্স। তাতে লেখা—‘আমাদের হাতে তৈরি নিরাপদ ভেষজ আবির। আমরাই বিক্রি করছি। সকলে সংগ্রহ করুন।’ বনি ভট্টাচার্য, অরিন বিশ্বাস, তিতলি সরদার, মধুরিমা দাস, বনি মণ্ডল, অয়ন মণ্ডল, শুভজিৎ মণ্ডল-সহ আরও ছাত্রছাত্রীরা মিলে তৈরি করেছে এই আবির। বিক্রিও করছে তারা। নিজেদের হাতে তৈরি পণ্য, নিজেরাই বিক্রি করতে পেরে তাদের চোখেমুখে উচ্ছ্বাস স্পষ্ট।
স্কুল সূত্রের খবর, এই আবির বিক্রি থেকে যে লাভ হবে, তা ব্যয় করা হবে বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজে। বিশেষ করে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা ছাত্রছাত্রীদের খাতা-কলম ও অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রী কিনে দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের নৃত্য ও অঙ্কন প্রশিক্ষকদের সম্মানিক হিসেবেও কিছু অর্থ প্রদান করা হবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুলাল সরকার বলেন, “প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি উৎপাদনাত্মক ও সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে শিশুদের হাতে-কলমে শেখানো অত্যন্ত জরুরি। এই ধরনের কাজের মাধ্যমে তারা ছোট থেকেই স্বনির্ভর হওয়ার অনুপ্রেরণা পায়। অনেক সময় আমরা পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীদের বলে ফেলি— ‘তোর দ্বারা কিছু হবে না’। কিন্তু সুযোগ পেলে ওরাই অনেক কিছু করে দেখাতে পারে। সেই বিশ্বাসটাই গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। শিক্ষক হিসেবে সেটাই আমাদের সার্থকতা।” শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, শুধু রঙ তৈরি নয়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুরা শিখছে পরিবেশ রক্ষা, স্বাস্থ্য সচেতনতা, দলগত কাজ এবং আত্মবিশ্বাসের পাঠ।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে