নেতাদের মদতেই অবৈধ মেছোভেড়ি

দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছে স্লুইস গেট। কাছে গিয়ে বোঝা গেল গেট নয়। মেছোভেড়িতে জল ঢোকানোর ব্যবস্থা।বাসন্তীর দক্ষিণ রামচন্দ্রখালি গ্রাম। বাঁধের একপাশে হোগল নদী। আর একপাশে মেছোভেড়ি। জোয়ারের সময় নদীতে জল ঢোকানোর জন্য মেছোভেড়িতে ছোট ছোট গেট করা হয়েছে।

Advertisement

সামসুল হুদা

শেষ আপডেট: ২৮ জুলাই ২০১৬ ০২:৩২
Share:

রামচন্দ্রখালিতে মাটির তলা দিয়ে করা হয়েছে পাইপ লাইন। নিজস্ব চিত্র।

দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছে স্লুইস গেট। কাছে গিয়ে বোঝা গেল গেট নয়। মেছোভেড়িতে জল ঢোকানোর ব্যবস্থা।

Advertisement

বাসন্তীর দক্ষিণ রামচন্দ্রখালি গ্রাম। বাঁধের একপাশে হোগল নদী। আর একপাশে মেছোভেড়ি। জোয়ারের সময় নদীতে জল ঢোকানোর জন্য মেছোভেড়িতে ছোট ছোট গেট করা হয়েছে। আবার কোথাও বাঁধ ফুটো করে মাটির তলা দিয়ে পাইপ লাইন করা হয়েছে। সেখান থেকেই জল ঢুকছে ভেড়িতে। এ ভাবেই চাষ হচ্ছে বিভিন্ন রকমের মাছের।

শুধু রামচন্দ্রখালি গ্রামই নয়, সুন্দরবনের বিভিন্ন দ্বীপে নদীর পাড়ে তৈরি হয়েছে একের পর এক অবৈধ মেছোভেড়ি। যা রাজনৈতিক নেতাদের একাংশের মদতেই তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। এ বিষয়ে প্রশাসনকে জানিয়েও লাভ হয়নি বলে তাঁদের দাবি। এরপরেই আদালতের দ্বারস্থ হন মানুষ।

Advertisement

সেচ দফতর জানিয়েছে, গোসাবার হরিশপুর, বিরাজনগর, বাসন্তীর ভরতগড়, রামচন্দ্রখালি, হোগলডুরি, চড়াবিদ্যা, ক্যানিঙের মৌখালি, গোলাবাড়ি-সহ বিভিন্ন এলাকায় মাতলা নদী, হানা নদী, বিদ্যা নদীর বাঁধ কেটে গড়ে উঠছে অবৈধ মেছোভেড়িগুলি। আর এই ভেড়ির জন্যই চাষবাসের ক্ষতি হচ্ছে। প্লাবিত হচ্ছে এলাকা।

জেলার মৎস্য দফতরের সহকারী ডিরেক্টর তাপস পারিয়া জানান, মেছোভেড়ির মালিকদের লাইসেন্স দেওয়ার সময় বলা হয় নদীবাঁধ থেকে একটি দূরত্ব বজায় রেখে মাছ চাষ করতে। অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা সেটা মানছেন না। তাঁর কথায়, ‘‘এ ক্ষেত্রে অভিযোগ পেলে মেছোভেড়ির মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে লাইসেন্সও বাতিল করে দেওয়া হয়।’’ মহকুমাশাসক প্রদীপ আচার্য বলেন, ‘‘এটা সুন্দরবনের একটি বড় সমস্যা। এ বিষয়ে কোনও অভিযোগ পেলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’’

Advertisement

কিন্তু এলাকায় তা হচ্ছে কিনা দেখতে গিয়ে দেখা গেল অবৈধ ভাবে মাছ চাষও চলছে। নোনা জলও ঢুকছে জমিতে। বাসিন্দারা জানান, নদীবাঁধ কেটে নোনা জল ঢোকানো হচ্ছে। এতে দুর্বল হচ্ছে বাঁধ। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেও বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হচ্ছে এলাকা। আর প্রাকৃতির বিপর্যয় হলে তো কোনও কথাই নেই। শুধু তাই নয় নোনা জল ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চাষবাসও।

স্থানীয় বাসিন্দা তরুণ গোলদার, রুস্তম মোল্লা, আবুরালি মোল্লারা বলেন, ‘‘ভেড়ি মালিকেরা বাঁধ কেটে নোনা জল ঢোকায়। এতে প্রত্যেক বছর চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। কিন্তু অবৈধ মেছোভেড়ির বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।’’

রাজনৈতিক নেতাদের মদত আছে দেখেই ভেড়ি মালিকদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। সেচ দফতরের এক আধিকারিকেরও একই বক্তব্য। তাঁর কথায়, ‘‘চাষের জমির ক্ষতি হচ্ছে ভেড়ি মালিকদের জন্য। রাজনৈতিক নেতাদের একাংশের মদতেই নদীর বাঁধ কেটে ভেড়িতে নোনা জল ঢোকাচ্ছেন তাঁরা।’’ তবে এলাকা যাতে প্লাবিত না হয় সেদিকেও নজরদারি চালানো হচ্ছে দফতর থেকে।

কিন্তু এই অভিযোগ অস্বীকার করে বাসন্তীর ব্লক তৃণমূলের সভাপতি মন্টু গাজি বলেন, ‘‘আমরা ক্ষমতায় আসার পর থেকে নদীর ধারে কোনও মেছোভেড়ি করতে দেওয়া হচ্ছে না। বাঁধের মধ্যে তৈরি গেট ও মাটির তলার পাইপ লাইনগুলি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।’’

চাষবাসে তেমন লাভ হয় না দেখেই বাঁধ দিয়ে নোনা জল ঢুকিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে বলে জানান মেছোভেড়ির মালিকেরা। তাঁদের কথায়, ‘‘এ ভাবে কিছু টাকা আয় হয়। সংসারও মোটামুটি চলে। আর তা না হলে তো ছেলেপুলে নিয়ে আধপেটা খেয়ে থাকতে হত।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement