জাতীয় সড়কের উপরে কোথাও বেপরোয়া বাসের রেষারেষি তো কোথাও বেআইনি পার্কিং। তার জেরে বৃহস্পতিবার দু’টি পৃথক পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল আশালতা হালদার (৬৩) এক বৃদ্ধার। আহত হয়েছেন আরও দু’জন। কোনও ক্ষেত্রেই চালককে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
পথ দুর্ঘটনা আটকাতে নানা রকম পদক্ষেপ করার চেষ্টা করছে সুন্দরবন জেলা পুলিশ। কিন্তু বেআইনি পার্কিংয়ের উপরে নজরদারির ক্ষেত্রে খানিকটা খামতি থেকেই যাচ্ছে।
বেআইনি পার্কিংয়ের জেরে প্রথম ঘটনাটি ঘটে সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ। ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়কের উপরে হারুডপয়েন্ট উপকূল থানা এলাকার নতুন রাস্তার মোড়ে একটি পেঁয়াজ বোঝাই-ট্রাক মাল নামাতে এসেছিল। বাঁ দিকের লেনে ঢুকে ঘুরে এসে মাল না নামিয়ে সেটি হাইরোডের উপরেই গাড়ি ঘুরিয়ে পার্কিং করতে যাচ্ছিল।
সে সময়ে ডায়মন্ড হারবার থেকে পাথরপ্রতিমার দিকে যাওয়ার পথে দু’টি বাসের রেষারেষি চলছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় মানুষজন। একটি বাস অন্য বাসটিকে প্রচণ্ড গতিতে ওভারটেক করতে গিয়ে প্রায় মুখোমুখি ধাক্কা মারে ট্রাকে। আহত হন কাকদ্বীপের পুকুরবেড়িয়ার বাসিন্দা মাজিদা বেওয়া এবং কলকাতার বাসিন্দা সৌম্য বসু। তাঁদের কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
এই দুর্ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, হারুডপয়েন্ট নতুন রাস্তার মোড়ে পুলিশ মোতায়েন থাকার কথা। সে সময় ট্রাকটি আইন ভেঙে রাস্তার উপরে কেন ঘোরাতে দেওয়া হল? পুলিশ এবং সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও সকলের চোখের সামনে দিয়ে কী ভাবেই বা পালিয়ে গেল ট্রাক চালক? ঘটনার জেরে যানজট হয় জাতীয় সড়কে। দীর্ঘক্ষণ ধরে ট্রাকটি রাস্তার উপরে ছিল। তবে বাসটিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
দ্বিতীয় ঘটনায় বলি হন আশালতাদেবী। এ ক্ষেত্রেও, দু’টি বাসের রেষারেষিই কারণ হিসাবে সামনে এসেছে। পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ৫ নম্বর হাটের কাছে রেশন নিয়ে ছোট গাড়িতে ফিরছিলেন উত্তর শ্রীনগর গ্রামের বাসিন্দা ওই বৃদ্ধা। ধলের খাল স্টপেজে নেমে গাড়ির পিছন দিক দিয়ে রাস্তা পেরোতে গিয়েছিলেন।
বেলা তখন প্রায় ১টা। ডায়মন্ড হারবার থেকে নামখানাগামী একটি লাক্সারি বাস প্রচণ্ড গতিতে এসে আশালতাদেবীকে ধাক্কা মারে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, ওই বাসটির পিছনে আরও একটি বাস ছিল। দু’টির মধ্যে রেষারেষি চলছিল। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ওই বৃদ্ধা। বাসটি গতি আরও বাড়িয়ে পালিয়ে যায়। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে বৃদ্ধাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
জেলা পুলিশ সুপার তথাগত বসু বলেন, ‘‘প্রথম ঘটনাটিতে কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। কেউ গ্রেফতার হয়নি। দ্বিতীয় ঘটনায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। গাড়িটিকে চিহ্নিতও করা হয়েছে। চালক খুব শীঘ্রই ধরা পড়বে।’’