—প্রতীকী চিত্র।
রেল গেটের সামনে পড়ে ছটফট করছেন মাঝবয়সি এক ব্যক্তি। চার দিক রক্তে ভেসে যাচ্ছে। ক্ষীণ গলায় তিনি শুধু বলছেন, ‘‘আমাকে ছুরি মেরেছে!’’ গলার নলি কাটা ওই ব্যক্তিকে উদ্ধারের পাশাপাশি রক্তের দাগ অনুসরণ করে যে বাড়িতে ওই হামলা হয়েছে, সেখানে পৌঁছে এক জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার নাম মেঘনাদ কুণ্ডু।
বুধবার সোদপুরে ঘটে এই ঘটনা। পুলিশ সূত্রের খবর, পেশায় রাজমিস্ত্রি ওই ব্যক্তির নাম রাকেশ। এ দিন রাতে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় পানিহাটির ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের সোদপুরের রামচন্দ্রপুরে ৬ নম্বর রেল গেটের সামনে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়েরা। খবর পেয়ে সেখানে আসেন স্থানীয় পুরপ্রতিনিধি সম্রাট চক্রবর্তী। তিনি জানান, ওই ব্যক্তি যেখানে পড়ে ছিলেন, সেখান থেকে যে রাস্তা ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের দিকে গিয়েছে, সেই রাস্তা জুড়ে রক্ত পড়ে থাকতে দেখা যায়। এর পরে খবর পেয়ে খড়দহ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।
সম্রাট বলেন, ‘‘পুলিশ ও আমরা স্থানীয়েরা মিলে ওই রক্তের দাগ অনুসরণ করে একটি বাড়ির সামনে পৌঁছই।’’ জানা যাচ্ছে, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের তারাপুকুর পশ্চিমপল্লির ওই বাড়ির বারান্দাতেও রক্তের দাগ দেখতে পান পুলিশ ও স্থানীয়েরা। এর পরে ওই বাড়ির মালিক মেঘনাদকে আটক করে পুলিশ। সূত্রের খবর, জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক স্বীকার করেছে যে, সে-ই ওই ব্যক্তির গলা কেটেছে এবং মাথায় কোপ মেরেছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জেনেছে, মেঘনাদের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের জেরেই অশান্তি। এ দিন রাকেশ ওই বাড়িতে আসতেই তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায় মেঘনাদ। এর পরে কোনও মতে ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে রামচন্দ্রপুর রেল গেটের দিকে এগিয়ে গিয়ে রাস্তাতেই পড়ে যান রাকেশ। তাঁকে উদ্ধার করে কামারহাটির সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। সূত্রের খবর, ওই ব্যক্তির অবস্থা সঙ্কটজনক। অন্য দিকে, দোষ স্বীকারের পরে মেঘনাদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার স্ত্রী-ও এ দিনের ঘটনায় জড়িত কিনা, খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে