—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
চম্পাহাটিতে বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃত্যু হল একজনের। মৃতের নাম গৌরহরি গঙ্গোপাধ্যায়। পরিবার সূত্রে খবর, শনিবার রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ তাঁর মৃত্যুর খবর মেলে। কলকাতার এমআর বাঙুর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল গৌরকে। হাসপাতালের একটি সূত্রে খবর, যুবকের শরীরের ১০০ শতাংশই পুড়ে গিয়েছিল। চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টাতেও শেষরক্ষা হয়নি। একই বিস্ফোরণে জখম আরও তিন জনের চিকিৎসা চলছে কলকাতায়।
একই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় এমআর বাঙুরেই চিকিৎসা চলছে কিষান অধিকারী নামে এক বাজিকর্মীর। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর শরীরে প্রায় ৩০ শতাংশে ‘বার্ন ইনজুরি’ রয়েছে। আপাতত চিকিৎসকদের নজরদারিতে রয়েছেন তিনি। বিশ্বজিৎ মণ্ডল এবং রাহুল পুই নামে আরও দু’জনের চিকিৎসা চলছে পঞ্চসায়র সংলগ্ন একটি হাসপাতালে। রাহুলের শারীরিক পরিস্থিতিও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে।
শনিবার সকালে চম্পাহাটির হারালে একটি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের অভিঘাতে অ্যাসবেসটসের ছাউনি উড়ে যায়। মাটিতে মিশে যায় পাকা ইটের গাঁথুনি দেওয়া ঘরটি। আশপাশের বাড়িঘরেও অল্প ক্ষতি হয়েছে। পুড়ে যায় গাছ। দমকলের একটি ইঞ্জিন গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। গুরুতর আহত অবস্থায় চার জনকে উদ্ধার করা হয়। তাঁদের কলকাতার হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে খবর, আহতেরা প্রত্যেকে স্থানীয় বাসিন্দা এবং ওই কারখানায় বাজি তৈরির কাজে যুক্ত ছিলেন। সকলের বয়সও ১৮ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। জানা যায়, স্থানীয় এক ব্যক্তি ওই কারখানা চালাতেন। কিন্তু বাজি তৈরির বৈধ শংসাপত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যে স্থানে এই বিস্ফোরণ হয়েছে, সেটিলোকালয় থেকে কিছুটা দূরে। তবে ওই জায়গায় পর পর একই রকম ইটের ঘর আছে। সব ক’টি ঘরেই নিষিদ্ধ শব্দবাজি পাওয়া যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আবাসিক এলাকাতেও দীর্ঘ দিন ধরে বেআইনি ভাবে নানা বাজি কারখানা রমরমিয়ে চলছে। একাধিক বার এ নিয়ে অভিযোগ জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন।