সাত অভিযোগকারীকে নিয়ে জীবনতলা থানায় তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা। —নিজস্ব ছবি।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ছে বহু মানুষের। তা ছাড়া ভোটার তালিকায় নাম তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এমনই সমস্ত অভিযোগ তুলে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সাত-সাতটি এফআইআর দায়ের হল দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা থানায়।
জয়নগর লোকসভা এবং ক্যানিং পূর্ব বিধানসভার অন্তর্গত ক্যানিং-২ ব্লকে বৈধ ভোটার হওয়ার পরেও এসআইআর প্রক্রিয়ায় বার বার ভোটার তালিকা থেকে কয়েক জনের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের। শুক্রবার ওই এলাকার বিধায়ক শওকত মোল্লা কয়েক জন স্থানীয় বাসিন্দাকে নিয়ে থানায় যান। তাঁরা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এফআইআর করেন। শওকতের অভিযোগ, ‘‘ইচ্ছাকৃত এবং পরিকল্পিত ভাবে ক্যানিং পূর্ব বিধানসভায় প্রায় ৩৩ হাজার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে এই কাজ করছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনার।’’ তিনি আরও জানান, বার বার শুনানিতে ডেকে অনেককে হয়রানি করা হচ্ছে। খেটে খাওয়া মানুষ সারা দিনের রুজি-রোজগার ছেড়ে শুনানিকেন্দ্রে গিয়ে পড়ে থাকছেন। এই সমস্ত অব্যবস্থার জন্য দায়ী কমিশন।
পুলিশ সূত্রে খবর, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে মোট সাতটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে থানায়। সব ক’টিতেই এসআইআর প্রক্রিয়ার ‘ত্রুটি’ এবং ‘অব্যবস্থা’র অভিযোগ রয়েছে। থানা থেকে বেরিয়ে শওকত জানান, মোট সাত জন স্থানীয় বাসিন্দাকে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তাঁরা স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তৃণমূল বিধায়কের অভিযোগ, ‘‘গত তিন দিনে আমার বিধানসভার ৩৩ হাজার ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। লক্ষ্য পরিষ্কার— কিছু সত্যিকারের ভোটারকে সরিয়ে দেওয়া। ওই ভোটারদের সকলের কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র রয়েছে। শুনানিতে ডাকা হলে শুনানিতে গিয়েছেন। তার পরেও এই হয়রানি!’’ তিনি এ-ও অভিযোগ করেছেন, সংখ্যালঘু দেখে দেখে ভোটার তালিকা থেকে নাম ছাঁটছে কমিশন।
স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনাকে ‘শওকতের নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগেই কী ভাবে বিধায়ক জেনে গেলেন যে, কত সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে? জেলা বিজেপি-র এক নেতার কথায়, ‘‘উনি বিধায়ক। ওঁর জানা উচিত ছিল মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে এফআইআর করা যায় না।’’