—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
নাচের দলে সুযোগ করে দেওয়ার নামে স্কুলপড়ুয়া বালিকাকে পাচারের অভিযোগ ঘিরে শোরগোল দক্ষিণ ২৪ পরগনার উস্তিতে। ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার তৎপরতায় সুদূর বিহার থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করা গিয়েছে। তবে অভিযুক্তেরা এখনও অধরা। তাঁদের খোঁজ চলছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, উস্তি থানা এলাকায় বাড়ি সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীটির সঙ্গে সমাজমাধ্যমে যোগাযোগ করেন এক যুবক। মেয়েটির নাচে আগ্রহ শুনে তাকে ‘বুগি বুগি ড্যান্স গ্রুপ’ বলে একটি নাচারে দলে সুযোগ দেওয়ার প্রলোভন দেখান অভিযুক্ত। তবে বাড়িতে কাউকে কিছু বলতে বারণ করা হয়। কয়েক দিন আগে পরিবারের অজান্তে নাবালিকাকে নিয়ে পালিয়ে যান ওই যুবক।
মেয়ের খোঁজ না পেয়ে উস্তি থানায় অভিযোগ দায়ের করে পরিবার। এমন অভিযোগ পেয়েই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। শুরু হয় মেয়েটির খোঁজ। ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জ়োনাল) মিতুনকুমার দে-র নির্দেশে দ্রুত তদন্ত শুরু করে উস্তি থানার পুলিশ, এসডিপিও এবং জেলা পুলিশের স্পেশ্যাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি)-সহ টেকনিক্যাল টিম।
পুলিশ খোঁজখবর করে জানতে পারে, ওই নাবালিকাকে বিহারের জেহানাবাদ জেলার কাকো থানা এলাকার একটি বাড়িতে রাখা হয়েছে। বিশেষ অভিযানে গিয়ে ওই এলাকা থেকে নাবালিকাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বর্তমানে মেয়েটি নিরাপদে এবং পুলিশের তত্ত্বাবধানে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ‘‘নাবালিকার নাচের প্রতি আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহকে ফাঁদে পরিণত করে অভিযুক্ত যুবক। সোশ্যাল মিডিয়ায় (সমাজমাধ্যমে) মেয়েটির সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে সে। একটি ডান্স গ্রুপে সুযোগ দেওয়ার নাম করে বিহারে নিয়ে যায়।’’ তিনি জানিয়েছেন, মূল অভিযুক্ত পলাতক। তবে তার খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি নাবালিকাকে পাচারের চেষ্টার পিছনে কোনও চক্র কাজ করছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নাবালক-নাবালিকাদের সমাজমাধ্যমের প্রতি ঝোঁককে অপরাধীরা সুযোগ হিসাবে দেখছে। এ নিয়ে অভিভাবকদের আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।