সুপ্রিম কোর্ট। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
বায়ুদূষণ ঠেকাতে দিল্লির ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনও নতুন কয়লা-ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উপর নিষেধাজ্ঞা বলবতের যে প্রস্তাব এসেছে, সে বিষয়ে কেন্দ্রের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি, জাতীয় রাজধানী অঞ্চল থেকে সমস্ত কয়লা-নির্ভর শিল্পকে সরানোর যে দাবি উঠেছে, সে বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারকে অবস্থান খোলসা করতে বলেছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চ।
শীর্ষ আদালত সোমবার কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক (এমওইএফসিসি), এমওপিএনজি (পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক) এবং বিদ্যুৎ মন্ত্রকের কাছে প্রতিক্রিয়া চাওয়ার পাশাপাশি দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা এবং রাজস্থান সরকারের কয়লা-ভিত্তিক শিল্পের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট সমস্ত পক্ষের কাছ থেকে পরামর্শ এবং আপত্তি নথিভুক্ত করতে নোটিস জারি করার নির্দেশ দিয়েছে। দিল্লির বায়ুদূষণে যানবাহনের প্রভাব নিয়ন্ত্রণেও সক্রিয় হয়েছে তিন বিচারপতির বেঞ্চ। তারা ‘কমিশন ফর এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট’ (সিএকিউএম) এর পরামর্শের ভিত্তিতে ১২ মার্চ যানবাহনের মাধ্যমে বায়ুদূষণের বিষয়টি পর্যালোচনা করবে বলে জানিয়েছে।
দিল্লির জুড়ে বিভিন্ন আবাসন নির্মাণ ও ভাঙন কার্যক্রমের কারণে ধুলো মোকাবিলায় সিএকিউএম-এর তরফে প্রস্তাবিত ব্যবস্থা সম্পর্কে সমস্ত অংশীদারের প্রতিক্রিয়াও চেয়েছে শীর্ষ আদালত। পাশাপাশি, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে ‘শক্তির বিকল্প উৎস’ সন্ধানের জন্য পরিকল্পনার প্রস্তাব জানাতে বলা হয়েছে দিল্লি ও তার পড়শি রাজ্যগুলিকে। ১২ মার্চ মামলার শুনানির সময় এ সংক্রান্ত প্রস্তাব পেশ করতে হবে। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট তার পর্যবেক্ষণে বলেছিল, দিল্লি এবং জাতীয় রাজধানী অঞ্চল (এনসিআর)-এর বায়ুদূষণ রুখতে সরকারি পদক্ষেপ পুরোপুরি ব্যর্থ। সেই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ জানিয়েছিল, দেশের রাজধানীর দূষণ রুখতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।