মথুরাপুরের তৃণমূল সাংসদ বাপি হালদার। —নিজস্ব ছবি।
এসআইআর শুনানিতে হাজিরা দিতে হবে তৃণমূলের আরও এক সাংসদকে। ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ দীপক অধিকারী (দেব) এবং রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলামের পর এ বার নোটিস গেল মথুরাপুরের তৃণমূল সাংসদ বাপি হালদারের কাছে। এসআইআর নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সিইও দফতরে তৃণমূলের যে প্রতিনিধিদল বার কয়েক গিয়েছে, সেই দলে ছিলেন বাপি। রবিবার নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার এই পর্বে চলছে শুনানি। ভোটার তালিকায় নাম, বাবার নাম-সহ বিভিন্ন ত্রুটি সংশোধন হচ্ছে এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য। নির্বাচন কমিশনের একটি সূত্রে খবর, সাংসদ বাপির ভোটার সংক্রান্ত নথিতে কিছু অসঙ্গতি রয়েছে। সেগুলো যাচাইয়ের জন্য তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে।
তৃণমূলের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিদের ডাকার মাধ্যমে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে কমিশন। তারা বিজেপির কথামতো কাজ করছে। এসআইআরের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাপি। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের অনেক সাংসদকে এ ভাবে ডাকা হচ্ছে। যেখানে মাউসের একটি ক্লিকে জনপ্রতিনিধিদের সমস্ত তথ্য জানা যায়, সেখানে এগুলো করা হচ্ছে কেন? শুধুমাত্র ভয় দেখাতে।’’ তাঁর অভিযোগ, নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে আতঙ্কিত করতে চাইছে কমিশন। তিনি তফসিলি জনজাতির প্রতিনিধি। তাঁদের হয়রানি করাই কমিশনের উদ্দেশ্য। বাপি বলেন, ‘‘কিন্তু তৃণমূলকে এ ভাবে হয়রান করতে পারবে না। চ্যালেঞ্জ নিতে আমরা প্রস্তুত।’’
এসআইআরের কাজে বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্টজনকে শুনানির নোটিস দিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ অধ্যাপক সামিরুলকে শুনানির নোটিস ধরানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার শুনানির নোটিস হাতে পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন সামিরুল। অভিনেতা তথা ঘাটালের তিন বারের তৃণমূল সাংসদ দেবকেও এসআইআরের শুনানির নোটিস ধরানো হয়। তিনি নির্বাচন কমিশনের ডাকে সাড়া দিয়ে শুনানিতে অংশও নিয়েছেন।