আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। — ফাইল চিত্র।
ইরানের বিরুদ্ধে পরস্পর বিরোধী আচরণমূলক নীতি ও ভণ্ডামির অভিযোগ তুলেছে ইরান। ইরানের বিদেশমন্ত্রকের দাবি, আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করার ফলে ইউরোপের নৈতিক স্খলন হয়েছে।
সম্প্রতি বেশ কয়েকটি দেশে হামলা চালিয়েছে ইরান। বাদ যায়নি সংযুক্ত আরব আমিরশাহিও। এই পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির তরফে দাবি করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে ইরান। আরও দাবি, ইরান প্রতিবেশী সুলভ নীতিতেও আঘাত এনেছে।
ইজ়রায়েলের দিমোনা শহরে অবস্থিত পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা চালানোর হুঁশায়ারি দিল ইরান। ইরানের তরফে বার্তা দেওয়া হয়েছে, যদি আমেরিকা ও ইজ়রায়েল ইরানের শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তন করার চেষ্টা করে তবে হামলা চালানো হতে পারে দিমোনা পারমাণবিক কেন্দ্রে।
সেনেটের বেশির ভাগ সদস্যের রায় গেল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষেই। ফলে যুদ্ধ বন্ধ বা ট্রাম্পের ক্ষমতা হ্রাসের প্রস্তাব বাতিল হয়ে গেল। বরং দাবি উঠল, ইরান বিরোধী যে কোনও বিরোধিতাকেই যেন আইনসভা মান্যতা দেয়। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুয়ায়ী, সেনেট সদস্য়ের মধ্যে ট্রাম্পের পক্ষে রায় দিলেন ৫২ জন। বিরোধিতা করলেন ৪৭ জন।
ইরানের বিদেশমন্ত্রকের দাবি, দেশ জুড়ে আমেরিকা ও ইজ়রায়েল হামলা চালাচ্ছে। রেহাই দেওয়া হচ্ছে না বেসামরিক অঞ্চলকেও। ছাড় পাচ্ছে না বিদ্য়ালয়, হাসপাতাল বা বাজার।
লেবাননের দাবি, ইজ়রায়েলের হামলায় আরও তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ছয় জন। পাল্টা ইজ়রায়েল বাহিনীর দাবি লেবাননে অসংখ্য হিজ়বুল্লা ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে।
ইরান ও আমেরিকা-ইজ়রায়েলের যুদ্ধ প্রসঙ্গে বাহরিন ও কুয়েতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলনস্কির কথা হয়েছে। জ়েলনস্কি জানান, আমেরিকার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে ইউক্রেন। ইরান ও আমেরিকা-ইজ়রায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধবিরতি নিয়ে ত্রিপাক্ষিক (ইউক্রেন, রাশিয়া ও আমেরিকা) আলোচনার বার্তাও দেন তিনি।
সিরিয়ার দাবি, তাদের দেশের একটি অববাহিকা অঞ্চলে ঢুকে হামলা চালাচ্ছে ইজ়রায়েলের সেনা। ঘাঁটি গেড়ে নেতানিয়াহু বাহিনী শুরু হয়েছে গোলাবর্ষণ।
ইরানে আমেরিকার অভিযান নিয়ে বিতর্ক চলছে দুই দল- রিপাবলিকান ও ডেমোক্রাটের। রিপাবলিকানদের দাবি, অভিযান নিয়ে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আছে। তাঁদের আরও দাবি, এই মুহূর্তে অভিযান থামিয়ে দিলে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
পাল্টা ডেমোক্রাটদের দাবি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনও ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের একক ভাবে ছি না। পরিকল্পনা ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। আরও দাবি, প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে ঝুঁকির মুখে পড়ছে মার্কিন সেনাদের জীবন।
ইরানের নেতৃত্ব এখনও ‘বিশৃঙ্খল’ এমনটাই দাবি ট্রাম্পের। ট্রাম্পের দাবি, আমেরিকা ও ইজ়রায়েল ‘শক্তিশালী’ তবুও ‘এগিয়ে যাচ্ছে’ ইরান। তিনি বলেন, ‘‘ইরানের নেতা যেই হতে চান তাঁরই মৃত্যু হয়।’’
ট্রাম্পের স্পষ্ট বক্তব্য, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাবে আমেরিকা ও ইজ়রায়েল।
সৌদি আরবের বিদেশমন্ত্রকের তরফে দাবি করা হয়েছে, সে দেশের বিদেশমন্ত্রী ফয়জ়ল বিন ফারহানকে ফোন করেছিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল উন্নয়ন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা।
লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি, সোমবার থেকে চলা ইজ়রায়েলের হামলায় লেবাননে ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ৪৩৭ জন। জানা গিয়েছে, যুদ্ধ পরিস্তিতিতে লেবাননে অন্তত আশি হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্রের দাবি, ইরানে আক্রমণ চালানোর আগে সে দেশকে আমেরিকার তরফে বেশ কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। দাবি, প্রস্তাব ছিল ইরানের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে ও ইরানকে পারমাণবিক জ্বালানি (শান্তিমূলক কাজের উদ্দেশে) দিয়ে সাহায্য করবে আমেরিকা।
এ ছাড়াও প্রস্তাব ছিল, ইরান পারমাণবিক কাঠামো ভেঙে ফেললে যৌথ ভাবে (ইরান-আমেরিকা) বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি চালানোর।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্রের দাবি, শান্তিস্থাপনের সমস্ত চুক্তির প্রস্তাবই খারিজ করেছিল ইরান।
ইরানে আমেরিকার অভিযান প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ট্রাম্পের মুখে শোনা গেল প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কথা। তাঁর দাবি, তিনি যদি ওবামা’র পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করতেন তাহলে অনেক বছর আগেই ইরান পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ হয়ে যেত।
দুবাই প্রশাসন জানিয়েছে ইরানের আক্রমণ ঠেকাতে সফল দুবাই। দাবি, বিভিন্ন জায়গায় যে সব বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে তা আসলে আকাশসীমায় প্রতিরক্ষাবাহিনীর সাফল্যের শব্দ।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্রের দাবি, ইরানের দু’হাজারটিরও বেশি জায়গায় হামলা চালিয়েছে আমেরিকার বাহিনী। বারবার অভিযান চালিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে শত শত ব্যালেস্টিক ক্ষেপনাস্ত্র ও ড্রোন। সেই সঙ্গে ধ্বংস করা হয়েছে, ২০টি নৌযান। দাবি, ইরানের আকাশসীমাতে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের আধিপত্য কায়েম হবে।
ইজ়রায়েলের সেনাবাহিনীর তরফে দাবি করা হয়েছে, ক্ষেপানাস্ত্র নিক্ষেপ করার পরিমাণ কমাচ্ছে ইরান। আরও দাবি, ইরানের প্রায় তিনশোটি ব্য়ালেস্টিক ক্ষেপনাস্ত্র নিষ্ক্রিয় করেছে ইজ়রায়েল।
ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে গিয়ে যে চয় জন আমেরিকার সেনা শহিদ হয়েছেন তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিশেষ অনুষ্টানে উপস্থিত থাকবেন ট্রাম্প।
ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকাকে স্পেনের মাটি ব্যবহার করতে না দেওয়ার জন্য ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান প্রশংসা করেছে স্পেনের সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, পশ্চিমাঞ্চলে এখনও নীতি ও বিবেক জাগ্রত। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি স্পেনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ট্রাম্প ঘোষণা করেছন, আমেরিকার সঙ্গে স্পেন সমস্ত ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করবে।
ইজ়রায়েলের প্রধামনমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কাছে খবর খবর ছিল, ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন আমেরিকার বেশ কয়েকজন আধিকারিক। চলতি সপ্তাহের শুরুতে হোয়াইট হাউসের কাছে সেই ‘গোপন কথা’ জানতে চেয়েছিলেন নেতানিয়াহু। আমেরিকার সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এ প্রকাসিত খবর অনুযায়ী, ওই আলোচনা সম্ভবত যুদ্ধবিরতি সম্পর্কিত।