আমেরিকার সেনেট। — ফাইল চিত্র।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্রের দাবি, ইরানে আক্রমণ চালানোর আগে সে দেশকে আমেরিকার তরফে বেশ কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। দাবি, প্রস্তাব ছিল ইরানের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে ও ইরানকে পারমাণবিক জ্বালানি (শান্তিমূলক কাজের উদ্দেশে) দিয়ে সাহায্য করবে আমেরিকা।
এ ছাড়াও প্রস্তাব ছিল, ইরান পারমাণবিক কাঠামো ভেঙে ফেললে যৌথ ভাবে (ইরান-আমেরিকা) বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি চালানোর।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্রের দাবি, শান্তিস্থাপনের সমস্ত চুক্তির প্রস্তাবই খারিজ করেছিল ইরান।
ইরানে আমেরিকার অভিযান প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ট্রাম্পের মুখে শোনা গেল প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কথা। তাঁর দাবি, তিনি যদি ওবামা’র পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করতেন তাহলে অনেক বছর আগেই ইরান পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ হয়ে যেত।
দুবাই প্রশাসন জানিয়েছে ইরানের আক্রমণ ঠেকাতে সফল দুবাই। দাবি, বিভিন্ন জায়গায় যে সব বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে তা আসলে আকাশসীমায় প্রতিরক্ষাবাহিনীর সাফল্যের শব্দ।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্রের দাবি, ইরানের দু’হাজারটিরও বেশি জায়গায় হামলা চালিয়েছে আমেরিকার বাহিনী। বারবার অভিযান চালিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে শত শত ব্যালেস্টিক ক্ষেপনাস্ত্র ও ড্রোন। সেই সঙ্গে ধ্বংস করা হয়েছে, ২০টি নৌযান। দাবি, ইরানের আকাশসীমাতে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের আধিপত্য কায়েম হবে।
ইজ়রায়েলের সেনাবাহিনীর তরফে দাবি করা হয়েছে, ক্ষেপানাস্ত্র নিক্ষেপ করার পরিমাণ কমাচ্ছে ইরান। আরও দাবি, ইরানের প্রায় তিনশোটি ব্য়ালেস্টিক ক্ষেপনাস্ত্র নিষ্ক্রিয় করেছে ইজ়রায়েল।
ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে গিয়ে যে চয় জন আমেরিকার সেনা শহিদ হয়েছেন তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিশেষ অনুষ্টানে উপস্থিত থাকবেন ট্রাম্প।
ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকাকে স্পেনের মাটি ব্যবহার করতে না দেওয়ার জন্য ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান প্রশংসা করেছে স্পেনের সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, পশ্চিমাঞ্চলে এখনও নীতি ও বিবেক জাগ্রত। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি স্পেনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ট্রাম্প ঘোষণা করেছন, আমেরিকার সঙ্গে স্পেন সমস্ত ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করবে।
ইজ়রায়েলের প্রধামনমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কাছে খবর খবর ছিল, ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন আমেরিকার বেশ কয়েকজন আধিকারিক। চলতি সপ্তাহের শুরুতে হোয়াইট হাউসের কাছে সেই ‘গোপন কথা’ জানতে চেয়েছিলেন নেতানিয়াহু। আমেরিকার সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এ প্রকাসিত খবর অনুযায়ী, ওই আলোচনা সম্ভবত যুদ্ধবিরতি সম্পর্কিত।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্য়ারোলিন লেভিটের দাবি, ইরানে আমেরিকার অভিযানের নেপথ্য়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন আমেরিকার বাসিন্দারা। যুদ্ধে ইরানের নিহত নেতাদের তিনি ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে উল্লেখ করেছেন।
তাঁর আরও দাবি, আমেরিকার এই পদক্ষেপের ফলে দেশের নাগরিক তথা বিশ্ববাসীর শান্তি সুনিশ্চিত হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্য়ারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ইরান ইস্যুতে আপাতত ট্রাম্পের লক্ষ্য মূলত চারটি।
ইরান যাতে কখনওই পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ না হয় ও তেহরান যাতে আমেরিকার কারও কোনও ক্ষতি করতে না পারে তা নিশ্চিত করা। এ ছাড়াও দু’টি লক্ষ্য ইরানের নৌবাহিনী ও ব্যালেস্টিক ক্ষেপনাস্ত্র উৎক্ষেপণের ক্ষমতা ধ্বংস করা।
পশ্চিম এশিয়া জুড়ে অশান্ত পরিবেশের নেপথ্য়ে ইরানের ভূমিকার জন্য যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটেন মনে করছে, ইরানের ‘উত্তেজক’ মানসিকতা আরও ঝুঁকি ডেকে আনতে পারে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের আবহেই বৃহস্পতিবার থেকে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর আংশিক ভাবে খুলে দিচ্ছে ইজ়রায়েল। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহণের ক্ষেত্রে এটিই ইজ়রায়েলের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর। জানা গিয়েছে, আপাতত শুধু মাত্র ইজ়রায়েলমুখী বিমানের জন্যই বিমানবন্দরটি খোলা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয় অন্য দেশে যাওয়ার বিমান বৃহস্পতিবার থেকে চালু হবে কি না।
ইরানে আমেরিকার হানা শুরু হয়েছিল আমেরিকার সেনেটে কোনও সিদ্ধান্ত ছাড়াই। অভিযানের সিদ্ধান্ত ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাওয়া নিয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে যে প্রস্তাব আনা হয়েছে তার উপর নির্ভর করেই হবে ভোট। প্রশ্ন উঠছে আইন প্রণেতাদের অনুমোদন ছাড়া কী করে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল?
ভোটের ফলের উপরেই নির্ভর করবে ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের ভবিষ্যৎ।
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy