ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য ইজ়রায়েল কোনও দিনই প্ররোচনা দেয়নি আমেরিকাকে। এ বার এমনটাই দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেড় মাস আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল যৌথ ভাবেই হামলা করেছিল ইরানে। সেই থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল ইজ়রায়েলের ভূমিকা নিয়ে। তেল আভিভই উসকানি দিয়েছিল ওয়াশিংটনকে, এমন তত্ত্বও উঠে আসতে শুরু করেছিল। এ অবস্থায় ট্রাম্প দাবি করলেন, ইজ়রায়েল কোনও দিনই ইরানের বিরুদ্ধে তাদের কোনও প্ররোচনা দেয়নি।
আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় পর্বের শান্তি আলোচনা ঘিরে এক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রতিনিধিদল ইতিমধ্যে পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। তবে ইরান জানিয়ে দিয়েছে, তারা এখনই আলোচনায় বসতে প্রস্তুত নয়। হরমুজ় প্রণালীতে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার না-হওয়া পর্যন্ত আলোচনায় বসা সম্ভব নয় বলেই দাবি ইরানের। আপাতত আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে যে দু’সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতি চলছে, তারও মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী বুধবার। সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও বৃদ্ধি পাবে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় সোমবার ট্রাম্পের মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
সমাজমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লেখেন, “ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ানোর জন্য ইজ়রায়েল আমাদের কখনওই প্ররোচনা দেয়নি।” মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, তিনি মনে করেন ইরানের হাতে কখনওই পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে না। এই ভাবনার থেকেই তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন বলে দাবি ট্রাম্পের।
আরও পড়ুন:
বস্তুত, মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ড রবিবার রাতে জানায়, ইরানের বান্দার আব্বাস বন্দরের দিকে যাচ্ছিল একটি জাহাজ। তাতে ইরানের পতাকা ছিল এবং পণ্য পরিবহণ করা হচ্ছিল। তা লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। তার পরেই ইরানের সেনা পাল্টা হুঁশিয়ারি দেয়। ইরানের সেনাবাহিনীর তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘‘আমি সতর্ক করছি, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী শীঘ্রই এর জবাব দেবে এবং মার্কিন সেনার এই সশস্ত্র ছিনতাইয়ের বদলা নেবে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
১৯:৫০
‘ইরানের বন্দরগুলিতে অবরোধ জারি রাখলে যুদ্ধবিরতির পথ কঠিন হবে’, ট্রাম্পকে বার্তা পাক সেনা সর্বাধিনায়কের -
ওমান প্রান্ত দিয়ে জাহাজ গেলেই তো মিটে যায় সমস্যা! তবু কোন সূত্রে হরমুজ়ে ‘অ্যাডভান্টেজ’ পায় ইরান? কোথায় আতঙ্ক?
-
চালাকির চেষ্টা করলেই ঝাঁপাব পুরো শক্তি দিয়ে, আমরা তৈরি! দ্বিতীয় বৈঠকের দিনক্ষণ নিয়ে সংশয়ের মধ্যেই তোপ ইরানের
-
‘আমেরিকা যুদ্ধবিরতির শর্ত ভেঙেছে’, আবার হরমুজ় অবরোধের ঘোষণা ইরানের! নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা
-
ট্রাম্পের ‘ঘাড়ে বন্দুক রেখে’ শত্রুদের খতম! পারস্যে শান্তি এলে আমেরিকার ‘বিশ্বাস’ ভাঙবেন ইহুদি প্রধানমন্ত্রী?