Advertisement
E-Paper

মার্কিন আইনসভায় জোর ধাক্কা ট্রাম্পের! ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ক্ষমতা ‘খর্ব’ করতে প্রস্তাব পাশ, অবিলম্বে বাহিনী সরানোর নির্দেশ

পশ্চিম এশিয়ায় ট্রাম্পের সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করে আসছেন ডেমোক্র্যাটেরা। একই সঙ্গে দাবি জোরালো হচ্ছিল, ‘যুদ্ধবাজ’ ট্রাম্পের ক্ষমতা খর্ব করা হোক।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬ ১১:২৯
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল চিত্র।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল চিত্র।

ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধের ক্ষমতা ‘খর্ব’ করতে মার্কিন আইনসভায় প্রস্তাব পাশ হল। অবিলম্বে ইরান থেকে বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। মার্কিন আইনসভার নিম্নকক্ষে এই প্রস্তাব পাশ হতেই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ট্রাম্প ধাক্কা খেলেন বলে মনে করা হচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রের খবর, ২১৫-২০৮ ভোটে এই প্রস্তাব পাশ হয়। প্রস্তাবের পক্ষে সায় দিয়েছেন ২১৫ সদস্য। ঘটনাচক্রে, ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের এই ক্ষমতা ‘খর্ব’ করার বিষয়ে ডেমোক্র্যাটদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ট্রাম্পের দলেরই চার সদস্য।

আইনসভার নিম্নকক্ষে এই প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন নিউ ইয়র্কের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি গ্রেগরি মিক্স। তাঁর উত্থাপিত প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়ে ২১৫টি। ২০৮ ভোট যায় বিপক্ষে। উল্লেখ্য চার জন রিপাবলিকান টমাস ম্যাসি, ব্রায়ান ফিজ়প্যাট্রিক, টম ব্যারেট এবং ওয়ারেন ডেভিডসন এই প্রস্তাবের পক্ষে সায় দিয়েছেন। আর এই প্রস্তাব নিম্নকক্ষে পাশ হতেই জল্পনা জোরালো হতে শুরু করেছে, তা হলে কি ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের নিজের দলের অন্দরেই ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে?

প্রসঙ্গত, ইরানের বিরুদ্ধে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভিযানে নামে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল। মাঝে যুদ্ধবিরতি হলেও আবার পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় ট্রাম্পের সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করে আসছেন ডেমোক্র্যাটেরা। একই সঙ্গে দাবি জোরালো হচ্ছিল, ‘যুদ্ধবাজ’ ট্রাম্পের ক্ষমতা খর্ব করা হোক। মার্কিন আইনসভার উচ্চকক্ষ এব‌ং নিম্নকক্ষে সেই প্রস্তাব বার বার উত্থাপন করেছেন ডেমোক্র্যাটরা। অবশেষে নিম্নকক্ষে সেই প্রস্তাব পাশ হয়েছে। এই প্রস্তাব পাশ হওয়ায় ট্রাম্প কিছুটা চাপে পড়লেন বলে মনে করা হচ্ছে। এই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে, তা হলে কি এ বার পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ থামাবে আমেরিকা? তবে এত সহজেই যে বিষয়টি মিটে যাবে, এমনটা নয় বলেও মনে করা হচ্ছে। কারণ, উচ্চকক্ষেও এই প্রস্তাব পাশ করাতে হবে। সেখানে ভোটাভুটিতে জিতলে, তবেই পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে, তার একটা আন্দাজ পাওয়া যেতে পারে।

প্রসঙ্গত, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান যে গতিতে শুরু করেছিল আমেরিকা, তা কিছুটা শ্লথ হয়েছে। সময় যত গড়িয়েছে ইরানের সঙ্গে আলোচনার রাস্তার পথে হাঁটতে চাইছেন ট্রাম্প। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে আলোচনা চালানো হচ্ছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে দু’দেশের মধ্যে চুক্তি বা বোঝাপড়া হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “সামরিক বিজয়ের চেয়ে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা করা ভাল হবে।” তার পরেই ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ইরানের সঙ্গে কবে বোঝাপড়ায় আসবে আমেরিকা? মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমার মনে হয় এক সপ্তাহ সময় লাগবে।” এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ় প্রণালী থেকে অবরোধ উঠে যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।

সংক্ষেপে
  • ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
  • আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
  • শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
Iran
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy