কুয়েত বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী ড্রোন হামলা। বুধবারের সেই হামলায় নিহত হয়েছেন এক ভারতীয় নাগরিক। আহতের সংখ্যা ৬০ ছাড়িয়েছে। ওই ঘটনায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলে। সিসিটিভিতেও ধরা পড়েছে কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার মুহূর্ত। ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে ভিডিয়োটি। ভাইরালও হয়েছে। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
কুয়েতের ‘ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ)’-এর তরফে প্রকাশিত ভিডিয়োটিতে বিমানবন্দরের টার্মিনাল ১ (টি১)-এর উপর হামলার প্রভাব দেখা গিয়েছে। ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, আকাশপথে এসে একটি ড্রোন আছড়ে পড়েছে বিমানবন্দরের ছাদে। সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে। আগুন ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে। জানা গিয়েছে, হামলার পরে পরেই বিমানবন্দর চত্বরে আতঙ্ক ছড়ায়। ভয়ে দৌড়োদৌড়ি শুরু করেন যাত্রীরা। বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এর পর জরুরি উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
আরও পড়ুন:
উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বৃদ্ধির আবহেই কুয়েতে এই ড্রোন হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। কুয়েত অবশ্য এই ঘটনার জন্য দায়ী করেছে ইরানকেই। ড্রোন হামলার ভিডিয়ো শেয়ার করে ডিজিসিএ বলেছে, ‘‘৩ জুন কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ১-এর উপর ড্রোনের মাধ্যমে চালানো নৃশংস ইরানি আগ্রাসনের ভিডিয়ো। এই হামলায় প্রাণহানি হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন অনেকে। সম্পত্তিরও ক্ষতি হয়েছে।’’
কুয়েতি কর্তৃপক্ষের মতে, এই হামলায় একজন নিহত এবং ৬০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি ভারতীয় নাগরিক বলে শনাক্ত করা হয়েছে। আহতদের মধ্যেও বেশ কয়েক জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। দেশটির বিদেশ মন্ত্রক এই ঘটনাকে ‘ইরানের অপরাধমূলক আগ্রাসন’ হিসাবে বর্ণনা করেছে। নয়াদিল্লি এই হামলার নিন্দা করে সরব হয়েছে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এমন কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
আরও পড়ুন:
উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান বৃহত্তর সামরিক সংঘাতের মধ্যেই বিমানবন্দর হামলাটি ঘটেছে। ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) প্রাথমিক ভাবে ঘোষণা করেছিল, একটি ইরানি তেল ট্যাঙ্কার এবং কেশাম দ্বীপে মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসাবে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। তবে, তেহরান পরে বিমানবন্দর হামলার দায় অস্বীকার করে এবং দাবি করে, কুয়েত বিমানবন্দরে হামলা ইরানি ড্রোনের মাধ্যমে হয়নি। হামলার জন্য দায়ী একটি ত্রুটিপূর্ণ মার্কিন মিসাইল ইন্টারসেপ্টর (ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক)। যদিও ইরানের এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে আমেরিকা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের এই বিবরণকে মিথ্যা বলে বর্ণনা করেছে এবং কুয়েতে ইচ্ছাকৃত ও অযৌক্তিক হামলা চালানোর জন্য তেহরানের দিকে আঙুল তুলেছে। ওয়াশিংটন আরও জানিয়েছে, তারা কুয়েত ও বাহরিনের দিকে ধেয়ে আসা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে এবং ইরানি লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে আত্মরক্ষামূলক হামলা চালিয়েছে।