ঠিক যেন ‘মিশন ইম্পসিবল’-এর টম ক্রুজ় অভিনীত গুপ্তচর ইথান হান্ট। ল্যাপটপ হাতিয়ে কার্যত নিজের অস্তিত্বই যেন মুছে ফেললেন চাকরিপ্রার্থী এক তরুণ। ইন্টারভিউয়ে দারুণ ফল করে চাকরি পেয়েছিলেন অ্যাপভিত্তিক পরিষেবা সংস্থায়। সংস্থা থেকে কাজের জন্য তাঁকে একটি দামি ম্যাকবুক দেওয়া হয়। তার পর থেকেই সেই তরুণের হদিস মিলছে না। ওই নতুন কর্মী কোম্পানিতে যোগ দেওয়ার পর পরই সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেন তিনি। নিখোঁজ ওই কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে সংস্থার। এই অদ্ভুত ঘটনাটি লিঙ্কডইনে পোস্ট করে জানিয়েছেন অ্যাপভিত্তিক পরিষেবা সংস্থার হায়দরাবাদের মুখ্য নিয়োগকর্তা রঘু তেন্নেতি। ভাইরাল হয়েছে সেই পোস্টটি। যদিও সেই পোস্টের সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
রঘু লিখেছেন, চাকরিতে যোগদানের দিন প্রার্থীদের যোগাযোগ না করা আজকাল নতুন কোনও প্রবণতা নয়। কিন্তু এই চাকরিপ্রার্থী আমাদের সঙ্গে শুধু যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেনি যেন তাঁর গোটা অস্তিত্বই উধাও হয়ে গিয়েছে। যোগদানের নির্ধারিত তারিখে প্রার্থী উপস্থিত না হওয়ায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তরুণের নম্বরে ফোন করা হয়েছিল। তখন জানা যায় এই নম্বরটির কোনও অস্তিত্বই নেই। নম্বরটি বন্ধ বা নেটওয়ার্কে নাগালের বাইরে নয়। যেন টেলিকম গ্রিড থেকে নিজের অস্তিত্ব মুছে ফেলেছেন তরুণ।
রঘু আরও লিখেছেন, প্রার্থীর লিঙ্কডইন পেজটি মুছে ফেলা হয়েছে এবং ল্যাপটপ ডেলিভারির ঠিকানা খুঁজে বার করার চেষ্টা করেও ফল হয়নি। সেই ঠিকানায় তল্লাশি করে দেখা হয়েছে সেটি একটি পরিত্যক্ত বাড়ির অংশ। রঘু জানান, ম্যাকবুকের সন্ধানের জন্য প্রযুক্তি ব্যবহার করেও দেখেছে আমাদের আইটি টিম। সেটিকে ফ্যাক্টরি রিসেট করে ফেলছেন তরুণ। তাই তাঁর হদিস করা অসম্ভব।
নেটমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে চর্চা শুরু হতেই তরুণের প্রতিভা নিয়ে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। সম্পূর্ণ পরিচয় জাল করে কোনও ডিজিটাল ছাপ না রেখেই উধাও হয়ে যাওয়ায় প্রশংসা কুড়িয়েছেন চাকরিপ্রার্থী। চাকরির নিয়োগকর্তা প্রকাশ্যেই তরুণের উদ্দেশে লিখেছেন, ‘‘ইথান হান্ট, তোমার এই শিল্পকে সত্যিই সম্মান করি। ভাই, আমরা আমাদের ল্যাপটপটা ফেরত চাই।’’