ক্ষমতায় আসার পরে আটক শিবির বা হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করে সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীদের ‘পুশ ব্যাক’ (ফেরত পাঠানো) শুরু করেছে বিজেপি সরকার। কিন্তু বাংলাদেশের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে বিষয়টি নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তারেক রহমান প্রশাসন সূত্রের বক্তব্য, এ ব্যাপারে ভারত সরকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও আবেদন বা বক্তব্য তাদের কাছে পৌঁছয়নি।
এর মধ্যেই একাধিক সীমান্ত দিয়ে সন্দেহভাজন বাংলাদেশিদের ‘পুশ ব্যাক’ করেছে বিএসএফ। একটি সূত্রের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি-র সঙ্গে স্থানীয় স্তরে কথা বলেই এই ‘পুশ ব্যাক’ করা হয়েছে। যদিও বিজিবি-র তরফে দাবি করা হয়েছে, বেনাপোল সীমান্তে ‘পুশ ব্যাকের’ যে চেষ্টা বিএসএফ করেছিল, তা রুখে দেওয়া হয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, গত রবিবার কিছু লোককে সাদিপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তা আটকে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রের খবর, পুশ-ইনের চেষ্টা রুখতে বিজিবি-কে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কোনও বাংলাদেশি যদি অবৈধ ভাবে অন্য দেশে বসবাস করেন, তা হলে সংশ্লিষ্ট দেশের প্রশাসন সরকারি ভাবে তালিকা পাঠিয়ে পরিচয় যাচাই করতে পারে। সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন মেনেই ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা সম্ভব। তবে ভারত সরকারের তরফে এখনও তেমন প্রস্তাব বা তালিকা তারেক প্রশাসনের কাছে আসেনি।
অনুপ্রবেশ এবং পুশ-ব্যাক সংক্রান্ত পদক্ষেপ নিয়ে ভারতের বক্তব্য মানতে নারাজ বাংলাদেশ প্রশাসনের একাংশ। ওই অংশটি অনুপ্রবেশের বিষয়টিকে তেমন গুরুত্বই দিচ্ছে না। বরং তাদের যুক্তি, অনুপ্রবেশ নিয়ে অযথা হইচই করা হচ্ছে। সাধারণত নিম্নবিত্ত, গরিব মানুষ উপার্জনের জন্য ভারতে যান বলে দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি তা নয় বলেই দাবি বাংলাদেশ প্রশাসনের। কারণ হিসেবে তারা জানিয়েছে: প্রথমত, পোশাক শিল্পে বাংলাদেশে বিপ্লব ঘটেছে। বিপুল সংখ্যক মহিলা এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত এবং তাঁরা যথেষ্ট পরিমাণ উপার্জন করেন। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশে কমপক্ষে দু’কোটি মানুষ ইলেকট্রিক মোটর-চালিত রিকশা চালান। তাঁদের মাসিক আয় কম-বেশি তিরিশ হাজার টাকা। ভারতে তথাকথিত অবৈধ ভাবে বসবাসকারী কোনও বাংলাদেশির পক্ষে এই অর্থ উপার্জন সম্ভব নয়। তা হলে তাঁরা যাবেন কেন? তৃতীয়ত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, গত ১০-১২ বছর ধরে ভারতে তীব্র মুসলিম-বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে, এই আবহে কোনও বাংলাদেশি ভারতে গিয়ে কি নিজের নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলবেন!
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটা বড় অংশের মতে, অনুপ্রবেশ নিয়ে রাজনৈতিক কারণেই এত হইচই করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক রেজাউল করিম রনির কথায়, ‘‘শেখ হাসিনার আমলে এই পুশ ব্যাকের কথা উঠত না। এটা শুরু হয়েছে অন্তর্বর্তিকালীন সরকারের আমল থেকে। ভারত রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশের উপরে এই চাপ তৈরি করতে চাইছে।’’ তাঁর কথায়, ‘‘যদি প্রকৃতই অনুপ্রবেশকারী ভারতে থাকেন, তা হলে তাঁদের ফেরাতে চুক্তি ও আইন রয়েছে। সেই পথেই যাচাই-বাছাই করে ফেরানো হোক। কিন্তু যে ভাবে পুশ-ব্যাকের চেষ্টা হচ্ছে এটা অমানবিক, মানবতা-বিরোধী।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)