West Bengal Elections 2026

কঠিন লড়াইয়ে শাসকের কাঁটা অনেক

এ বার আর শ্যামলকে টিকিট দেয়নি তৃণমূল। সূত্রের দাবি, তিন বারের বিধায়ক টিকিট না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ তাঁর অনুগামীরা। সেই কাঁটা রয়েছে।

প্রসেনজিৎ সাহা

শেষ আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:২৬
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

রাজ্যে পালাবদলের ঝড়েও ২০১১-র ভোটে লাল দুর্গ অটুট ছিল বাসন্তীতে। তবে তার পর থেকেই দুর্গের রং সবুজ। পর পর দু’টি বিধানসভা ভোটে অবলীলায় জিতেছেন তৃণমূলের প্রার্থীরা। এ বারও শাসক তৃণমূলের প্রার্থী বলছেন, জয় সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু দলের অন্দরেই গুঞ্জন, এ বারের ভোটে সেই জয়ের পথে কাঁটা অনেক।

২০১১ সালে বাসন্তীতে জিতেছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা আরএসপি প্রার্থী সুভাষ নস্কর। ২০১৬ সালে সুভাষ নস্করকে হারিয়ে কংগ্রেস জমানার প্রাক্তন মন্ত্রী গোবিন্দচন্দ্র নস্কর জয়ী হন তৃণমূলের টিকিটে। কিন্তু বয়স্ক গোবিন্দ নস্কর শারীরিক অসুস্থতার কারণে ঠিক ভাবে এলাকার সংগঠনের দিকে নজর দিতে পারেননি বলে দল সূত্রে খবর। তার পরেই মূল তৃণমূলের সঙ্গে যুব তৃণমূলের বিবাদ শুরু হয়। কোন্দল মেটাতে ২০২১ সালে এই কেন্দ্র থেকে টিকিট দেওয়া হয় রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা ক্যানিং পশ্চিমের বিদায়ী বিধায়ক শ্যামল মণ্ডলকে। ধীরে ধীরে রাজা গাজীর নেতৃত্বে যুবদের ক্ষোভ সামলে ওঠে তৃণমূল।

কিন্তু এ বার আর শ্যামলকে টিকিট দেয়নি তৃণমূল। সূত্রের দাবি, তিন বারের বিধায়ক টিকিট না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ তাঁর অনুগামীরা। সেই কাঁটা রয়েছে। সেই সঙ্গেই রয়েছে অন্য অস্বস্তি। এ বারের প্রার্থী, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি নীলিমা মিস্ত্রি বিশাল নিজে গোসাবা বিধানসভার ভোটার। দলেই শোনা যাচ্ছে, প্রয়াত বিধায়ক জয়ন্ত নস্করের হাত ধরে রাজনীতিতে প্রবেশ করলেও নিজস্ব সংগঠন বলতে কিছুই নেই নীলিমার। রাজা গাজীর উপরে ভরসা করেই দল টিকিট দিয়েছে নীলিমাকে।

কিন্তু সেই ভরসায় বাধা হতে পারে এসআইআর। গত বিধানসভা ভোটে ৫০ হাজারের বেশি ভোটে তৃণমূল প্রার্থী জয়লাভ করলেও এ বার এসআইআরে প্রায় ২০ হাজারের বেশি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তাই দলেরই অনেকে বলছেন, বিক্ষুব্ধ তৃণমূল কর্মীরা ‘আত্মঘাতী খেলা’ শুরু করলে যথেষ্ট বেগ পেতে হবে তৃণমূল প্রার্থীকে।

বিরোধী প্রার্থীরাও জমি ছাড়তে নারাজ। বিজেপির দাবি, তাদের প্রার্থী বিকাশ সর্দার যথেষ্ট লড়াকু নেতা। প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার সাথে সাথেই জোর কদমে ভোটের প্রচার শুরু করেছেন। কোথাও তৃণমূলকে এক ইঞ্চি সুবিধে দিতে নারাজ তিনি। বামেদের সাথে এখনও এই আসন নিয়ে সমস্যা না মিটলেও আইএসএফ প্রার্থী অসিত রায়ও প্রচারে নেমে পড়েছেন।

এলাকার রাজনৈতিক মহল বলছে, গত কয়েক বছরে বিজেপি ও আইএসএফ নিজেদের শক্তি বাড়িয়েছে বাসন্তীতে। সেই সঙ্গে তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভের চোরাস্রোত রয়েছে। ছাইচাপা আগুনের মত রয়েছে এলাকার যুব তৃণমূল কর্মীদের ক্ষোভ। এ বার বাসন্তী থেকে জয়ন্ত পুত্র বাপ্পাদিত্য নস্কর, দীলিপ মণ্ডল-সহ অনেকের নামই তৃণমূলের প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে ছিলেন, তাঁরা টিকিট না পাওয়ায় ভোটে অন্তর্ঘাতের আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

প্রচারে বিরোধীরা তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলছে। সেই সঙ্গে কংক্রিটের নদীবাঁধ, পানীয় জলের সমস্যাকেই হাতিয়ার করছে। বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সর্দার বলেন, ‘‘কমিশন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করলে বিজেপি এই কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করবে।’’ আইএসএফ প্রার্থী অসিত রায় বলেন, ‘‘তৃণমূল বা বিজেপি নয় মানুষের অন্যতম ভরসা আইএসএফ। এই কেন্দ্র থেকে আমরাই জিতব।’’

শাসক দল তৃণমূল অবশ্য ধর্ম নিয়ে রাজনীতি, এসআইআরকেই প্রচারে তুলে ধরছে। তৃণমূল প্রার্থী নীলিমা মিস্ত্রি বিশাল বলেন, ‘‘বাসন্তীর মাটি তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। ধর্মের রাজনীতি দিয়ে নির্বাচনে জয় হয় না।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন