নিত্য ভোগান্তি এই যানজটে। ছবি: শান্তনু হালদার।
বড় দোকানের সামনে কয়েকটি গুমটি দোকান। তার মধ্যে রাস্তার উপরেই হকারেরা পসরা সাজিয়েছে। সেখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে সাইকেল, ভ্যান রিকশা, মিনিডর। এর মধ্যে দিয়েই যাচ্ছে যাত্রিবাহী বাস, ট্রাক ও ছোট গাড়ি। ফলে তৈরি হচ্ছে যানজট।
হাবরার যশোর রোড বা ৩৫ নম্বর জাতীয় সড়কের এই অবস্থার জন্য নাজেহাল হচ্ছেন যাত্রীরা। ঘটছে দুর্ঘটনাও। রবিবারই যেমন পেট্রোল পাম্পে ঢুকতে গিয়ে একটি নিছক দুর্ঘটনা বদলে গেল মারামারিতে। ঘটনা তলিয়ে দেখতে গেলে তার কারণ আর কিছু নয়, অপরিসর রাস্তায় যানজট আর বেআইনি গাড়ির দাপটই মূল সমস্যা। এক যাত্রীর কথায়, ‘‘এই রাস্তায় এত যানজট হয় যে দশ মিনিটের রাস্তা পেরোতে সময় লাগে একঘণ্টা।’’ গন্তব্যে পৌঁছনোর জন্য অনেক আগেই বাড়ি থেকে বেরোতে হয়। তারপরেও সময়ে গন্তব্যে পৌঁছনো যায় না।
গত কয়েক বছরে রাস্তা সম্প্রসারণ তো দূরের কথা, হাবরায় যশোর রোডের দু’পাশে দিনে দিনে বেড়েছে হকার। মূল সড়কের উপরে বেপরোয়া ভাবে চলাচল করে ভ্যান রিকশা, অবৈধ টোটো। অপরিসর ওই পথে দ্রুতগতির গাড়িকেও ভ্যান রিকশার পিছনে ঢিমেতালে চলতে হয়। ডানে-বাঁয়ে একাধিক রাস্তা থেকে হুট করে গাড়ি এসে উঠে পড়ে যশোর রোডে। বিধি না মেনে বাজারে গলিতেও গাড়ি ঢুকে যায়।
রাস্তা সম্প্রসারণ হলে এই সমস্যা থেকেই কিছুটা স্বস্তি মিলবে বলে আশা হাবরাবাসীর। বারাসত থেকে বনগাঁ পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ যশোর রোড সম্প্রসারণ প্রকল্পে হাবরাতেই বনগাঁ-শিয়ালদহ শাখার ২টি রেলগেটের উপরে উড়ালপুল করার প্রস্তাব নিয়েছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। দু’টিই হবে প্রায় ১২০০ মিটার দীর্ঘ। প্রথমটি বারাসত কমার্স কলেজের সামনে থেকে উঠে ২ নম্বর রেলগেট পেরিয়ে নামবে দেশবন্ধু পার্কের সামনে। তার ঠিক ১০০ মিটার পর থেকে দ্বিতীয় রেলসেতুটি উঠে হাবরা ১ নম্বর রেলগেটের উপর দিয়ে নামবে পোস্ট অফিস রোড পেরিয়ে হাবরা বাজারে।
জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের ইঞ্জিনিয়ার রাজীব চট্টরাজ জানান, দু’টি সেতুর জন্য বৈঠক, পরিদর্শনের কাজ শুরু হয়েছে। সেতু তৈরির টেন্ডারও দেওয়া হয়েছে। প্রথম সেতুটি করতে ১১০ কোটি এবং দ্বিতীয়টি করতে ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে।
হাবরার রাস্তায় সবচেয়ে বড় সমস্যা হল ২ নম্বর রেলগেট থেকে চোংদা মোড় পর্যন্ত মাত্র ৩ কিলোমিটার রাস্তায় হকারদের দাপট। হকারের জন্য এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ২ নম্বর রেলগেট থেকে জয়গাছি এলাকা পর্যন্ত। এই সব সমস্যা মিটিয়ে হাবরার রাস্তা সম্প্রসারণে দু’টি ধাপে কাজ করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। প্রথম ধাপটি হল, রেলসেতু দু’টিকে দীর্ঘ করা। দ্বিতীয় ধাপটি হল, হকার উচ্ছেদ করে রাস্তা চওড়া করা।
হাবরা পুরসভার চেয়ারম্যান নীলিমেষ দাস বলেন, ‘‘রাস্তা চওড়ার কাজের জন্য কত হকার উচ্ছেদ হবে, তাদের পুনর্বাসনের কী হবে সে সব বিষয়ে আমরা সমীক্ষা শুরু করেছি।’’ সমীক্ষা করছে হাবরা থানার পুলিশও। তবে সমস্ত নির্দেশ এখনও পরিষ্কার নয় জানিয়ে হাবরা থানার পুলিশ আধিকারিক মৈনাক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, হাবরা থানার দু’পাশে মাত্র কয়েক’শো মিটার রাস্তার উপরেই প্রায় ৯০ জন অস্থায়ী হকার রয়েছে। তাঁদের সঙ্গেও কথাবার্তা চলছে।
খাদ্যমন্ত্রী তথা হাবরার বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, ‘‘হাবরায় উচ্ছেদ হওয়া হকারদের জন্য একটি মার্কেট কমপ্লেক্স করে পূনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।’’