False Road Renovation

দু’কোটি টাকার রাস্তা কোথায়, প্রশ্ন

বাস্তবে ওই রাস্তার কোনও কাজ হয়নি। পরিবর্তে সেই প্রকল্পের বোর্ড ক্যানিংয়ের মাতলা ২ পঞ্চায়েতের হাই স্কুল পাড়ায় বসেছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬ ০৬:২৭
Share:

হাই স্কুল পাড়ায় রাস্তা নির্মাণের এই বোর্ড ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ছবি: প্রসেনজিৎ সাহা

খাতায়-কলমে রাস্তার সংস্কার কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। খরচও দেখানো হয়েছে প্রায় দু’কোটি টাকা। অথচ, বাস্তবে ক্যানিংয়ে সে রাস্তার কোনও সংস্কারই হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি নেতারা এবং কিছু গ্রামবাসীও। শুধু তা-ই নয়, মিলন সঙ্ঘ মোড় এলাকার যে রাস্তার কাজ শেষ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, সেই প্রকল্পের নির্মাণ বোর্ড ক্যানিংয়ের অন্য প্রান্তে হাইস্কুল পাড়ার একটি রাস্তার পাশে বসানো হয়েছে। সে রাস্তার ছবি তুলে কাজ সম্পূর্ণ দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, আরআইডিএফ প্রকল্পে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের উদ্যোগে দিঘিরপাড় পঞ্চায়েতের মিলন সঙ্ঘ মোড় থেকে রায়বাঘিনি মোড় পর্যন্ত ৩.২ কিলোমিটার রাস্তার উন্নয়নের জন্য ২ কোটি ৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়। নির্মাণ তথ্য সংক্রান্ত বোর্ডে উল্লেখ রয়েছে, ২০২৩ সালের ২৫ এপ্রিল কাজ শুরু হয়ে ২০২৪ সালের ২০ জুন তা শেষ হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ, বাস্তবে ওই রাস্তার কোনও কাজ হয়নি। পরিবর্তে সেই প্রকল্পের বোর্ড ক্যানিংয়ের মাতলা ২ পঞ্চায়েতের হাই স্কুল পাড়ায় বসেছে।

বিজেপি নেতা পবিত্র পাত্র বলেন, ‘‘তৃণমূলের চুরির এটা আর একটা নমুনা। এক রাস্তার নাম করে অন্য রাস্তায় বোর্ড লাগিয়ে কোটি কোটি টাকা তছরুপ করা হয়েছে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। স্থানীয় থানা-সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দফতরেও অভিযোগ জানানো হবে।’’ তাঁর আরও দাবি, শুধু এই রাস্তার ক্ষেত্রেই নয়, এ ধরনের একাধিক প্রকল্পে একইভাবে অনিয়ম হয়েছে।

এই রাস্তা নির্মাণের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। ক্যানিং ১ ব্লকের বিডিও নরোত্তম বিশ্বাস বলেন, ‘‘বিষয়টি জানা নেই। প্রকল্পটি জেলা পরিষদের অধীন। ওরাই এ বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে পারবে।’’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

এ বিষয়ে তৃণমূলের কোনও নেতা প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি। বিজেপির দাবি, তৃণমূলের অনেক নেতাই বর্তমানে এলাকাছাড়া। কিন্তু প্রকল্পের কাজ তদারকি ও বিল অনুমোদনের সঙ্গে যুক্ত সরকারি আধিকারিকদের ভূমিকাও তদন্ত করে দেখা উচিত।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন