—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
কৈজুড়ির পরে এ বার বিথারী-হাকিমপুর। ফের উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরে সীমান্ত সুরক্ষায় কাঁটাতারের বেড়া দিতে জমি নেওয়া নিয়ে আপত্তি তুললেন গ্রামবাসী।
সীমান্তে স্বরূপনগর পঞ্চায়েতের বিথারী-হাকিমপুর এলাকায় জমি অধিগ্রহণের জন্য এখন মাপজোক শুরু করেছে প্রশাসন। আরশিকারি, দহরকন্ডার মতো কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, ২০১৬ সালে রাজ্য সরকার সোনাই নদীর পার থেকে ৪৫০ ফুটের মধ্যে জমিতে কাঁটাতার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিল। এখন অনেক বেশি জমি (প্রায় ৩৬০০ ফুট) অধিগ্রহণের জন্য পদক্ষেপ করা হচ্ছে। তাঁদের আশঙ্কা, চাষজমির সঙ্গে অনেক বাড়িও কাঁটাতারের ও-পারে চলে যাবে। বৃহস্পতিবার দহরকন্ডায় জমি মাপজোক শুরু হলে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসী। তাঁদের একাংশের দাবি, পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা না মিললে তাঁরা বিরোধিতা চালিয়ে যাবেন।
তবে মহকুমাশাসক (বসিরহাট) জসলিন কৌর বলেন, “অনুপ্রবেশ রুখতে সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী কাঁটাতারহীন এলাকা চিহ্নিতকরণ ও মাপজোক শুরু হয়েছে। যে সব এলাকায় মানুষ জমি অধিগ্রহণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন, তাঁরা নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন। প্রশাসন উপযুক্ত পদক্ষেপ করবে।” হাকিমপুরের মাঠে বৃহস্পতিবার গ্রামবাসীকে নিয়ে সভায় ছিলেন সিপিএম নেতা হামালউদ্দিন আহমেদ ও কলকাতা হাই কোর্টের আইনজীবী শামিম আহমেদ। শামিম বলেন, “পুনর্বাসন ও যথার্থ তথ্য ছাড়া কোনও জমি অধিগ্রহণ বা কাঁটাতার নির্মাণ করা যাবে না। প্রয়োজনে আইনি লড়াইয়ে গ্রামবাসীর পাশে থাকব।” হামালউদ্দিনের দাবি, সীমান্ত সুরক্ষার কাজ আইন মেনে ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেই করতে হবে।
বসিরহাট মহকুমায় বাংলাদেশের স্থল-সীমান্ত প্রায় ৭৫ কিলোমিটারের। মহকুমার অন্যত্র সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া থাকলেও স্বরূপনগর ব্লকের ১৯ কিলোমিটারে (আরশিকারি থেকে আমুদিয়া পর্যন্ত) নেই। দিন কয়েক আগে কৈজুড়ি গ্রামে একই কারণে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসী। সেখানে গিয়ে তাঁদের আশ্বস্ত করেন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। ইতিমধ্যে সেখানে অধিগৃহীত জমির ক্ষতিপূরণের চেক দেওয়া শুরু হয়েছে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে