Gaighata

পাঁচিলে ছবি দেবদেবীর, বাড়ি এসে হুমকি

সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিয়োয় ওই ঘটনা সামনে এসেছে। রবিবার ওই ঘটনার পরে বাড়ির মালিক ছবিগুলি খোলানোর ব্যবস্থা করেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ জুন ২০২৬ ০৮:৪৬
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

নিউটাউনের পরে গাইঘাটা। ফের স্বঘোষিত ‘ধর্মরক্ষকদের’ বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠল উত্তর ২৪ পরগনায়।

গাইঘাটার ঠাকুরনগরে এক সরকারি কর্মীর বাড়ির সীমানা পাঁচিলের নীচের দিকে কিছু দেবদেবীর ছবি লাগানো ছিল। তার জেরে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লাগার অভিযোগ তুলে ওই বাড়িতে চড়াও হন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের কিছু কর্মী বলে অভিযোগ। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিয়োয় ওই ঘটনা সামনে এসেছে। রবিবার ওই ঘটনার পরে বাড়ির মালিক ছবিগুলি খোলানোর ব্যবস্থা করেন। তাঁর বক্তব্য, ভদ্র ভাবেও এ কথা বলা যেত। কিন্তু, তা না করে তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

ঠাকুরনগরের চিকনপাড়া জোড়াপুকুর এলাকায় থাকেন নীলাঞ্জন মৈত্র। তিনি ক্যানিং ব্লক অফিসের আধিকারিক। তাঁর অভিযোগ, রবিবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ কয়েক জন যুবক-যুবতী বাড়িতে এসে নিজেদের একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্য বলে পরিচয় দিয়ে বাড়ির সীমানা প্রাচীরে লাগানো কালী, শিব, মনসা-সহ একাধিক দেবদেবীর ছবি অবিলম্বে খুলে ফেলার দাবি জানান। নীলাঞ্জনের বক্তব্য, তিনি ছবিগুলি সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আপত্তি করেননি। তবে যাঁরা এসেছিলেন, তাঁদের সংগঠনের নাম ও পরিচয়পত্র দেখতে চান।

নীলাঞ্জনের অভিযোগ, ‘‘পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়ায় আচরণ বদলে গেল ওঁদের। আমাকে নানা অপমানজনক কথা বলা হয়।’’ ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছয়। তাঁদের সংগঠনের সদস্যেরাই নীলাঞ্জনের বাড়িতে গিয়েছিলেন বলে মানছেন বজরং দলের স্থানীয় সদস্য বাপ্পা মজুমদার। তিনি দুর্ব্যবহারে অভিযোগ মানেননি। বাপ্পার দাবি, ‘‘দেবদেবীদের মূর্তিগুলি পাঁচিলের নীচে ছিল। নোংরা হতে পারত। হিন্দু ভাবাবেগে আঘাত লাগছিল। তাই আমরা গিয়ে অনুরোধ করেছিলাম, মূর্তিগুলি খুলে নিতে। কোনও দুর্ব্যবহার করা হয়নি।’’

গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক সুব্রত ঠাকুরের প্রতিক্রিয়া, “ধর্মীয় ভাবাবেগের বিষয়টি মাথায় রেখে দেবদেবীর ছবি পাঁচিলের উপরের দিকে সম্মানের সঙ্গে স্থাপন করা উচিত। তবে, কোনও পরিবারের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। কেউ যদি হুমকি দিয়ে থাকে, প্রশাসনকে জানাতে হবে।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন