ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয়নেতা মোজতবা খামেনেই। — ফাইল চিত্র।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনেই কি বেঁচে আছেন? দিন কয়েক ধরে আবার নতুন করে তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়োর দাবি, মোজতবা জীবিত। শুধু তা-ই নয়, তিনি আমেরিকা-ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা পর্বে সক্রিয় ভূমিকাও নিচ্ছেন! একই সঙ্গে রুবিয়ো জানিয়েছেন, হরমুজ় প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়া হলেও ইরানের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিখিল করার প্রশ্ন ওঠে না। আমেরিকা এমন কোনও প্রস্তাব দেয়নি। তাঁর দাবি, ইরান যদি পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করে, তবেই নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
মঙ্গলবার মার্কিন সেনেটে বিদেশ-সম্পর্কিত কমিটির সামনে রুবিয়ো মোজতবার ভূমিকা উত্থাপন করেন। বলেন, ‘‘এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, উনি (মোজতবা) আলোচনায় কোনও না কোনও পর্যায়ে ক্রমশ সম্পৃক্ত হচ্ছেন। তবে ওঁকে সরাসরি কোনও আলোচনায় যোগ দিতে দেখা যায়নি। কোনও মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে তিনি বার্তা পাঠাচ্ছেন।’’
মোজতবা ছাড়াও সেনেটে ইরানের উপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন রুবিয়ো। তিনি বলেন, ‘‘যে কোনও নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণই শর্তসাপেক্ষ। তবে হরমুজ় প্রণালী কোনও ভাবেই আলোচনার মধ্যে আসে না। ইরান হরমুজ় পুরোপুরি খুলে দিলেও তেহরানের উপর চাপানো মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উঠবে না।’’ রুবিয়োর কথায়, ‘‘নিষেধাজ্ঞা চাপানোর কারণই হল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। ইরান যদি তাদের এই কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে রাজি হয়, তবেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার সংক্রান্ত আলোচনা চলতে পারে।’’
মার্কিন বিদেশসচিব আরও দাবি করেছেন, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির এমন কিছু দিক নিয়ে আলোচনা করতে রাজি হয়েছে, যা আগে ঘটেনি। তবে শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হবে কি না, তা এই আলোচনায় নিশ্চিত না-ও হতে পারে।
ইরানের পারমাণবিক কার্যকলাপের দিকে নজর রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের। ইরানের সঙ্গে একটি পারমাণবিক চুক্তি করতে তিনি উঠেপড়ে লেগেছিলেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনী ইরান আক্রমণ করলে সংঘাত তীব্র হয়ে ওঠে। আপাতত দু’দেশের মধ্যে সংঘর্ষবিরতি চলছে। একই সঙ্গে স্থায়ী শান্তির খোঁজে চলছে আলোচনাও। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও সমাধানসূত্র বার করা যায়নি।