রুশ বাহিনীর আক্রমণে বিধ্বস্ত ইউক্রেন। ছবি: রয়টার্স।
রাতভর ইউক্রেনে হামলা চালাল রাশিয়ার বিমান বাহিনী। কিভ, নিপ্রো, খারকিভ-সহ ইউক্রেনের প্রধান শহরগুলিতে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন হামলা চালানো হয় বলে দাবি ইউক্রেনের। গার্ডিয়ানে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, রুশ বাহিনীর আক্রমণে এখনও পর্যন্ত ইউক্রেনে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত আরও অনেকে। অনেকে আটকা পড়ে রয়েছেন ধ্বংসস্তূপের নীচে। ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারের কাজ চলছে।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া অন্তত ৭৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। ৬৫৬টি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। রাশিয়ার লক্ষ্য ছিল কিভ, মধ্য ইউক্রেনের নিপ্রো, পূর্বের পোলতাভা, জ়াপোরিজিয়া এবং খারকিভ। তবে রুশ হামলা অনেকটাই ঠেকানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি ইউক্রেন সেনার। ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র, ৬০২টি ড্রোন ধ্বংস করেছে বলে তারা জানিয়েছে।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি পরিষেবা জানিয়েছে, কিভে অন্তত চার জনের মৃত্যু হয়েছে। তিন শিশু-সহ ৬৩ জন আহত। নিপ্রোয় ছ’জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। বেশ কয়েকটি বহুতল ধ্বংস হয়েছে। সেই ধ্বংসস্তূপের তলায় আটকে রয়েছেন অনেকে।
কিভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, শহরের একটি ২৪ তলা ভবন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ধসে পড়ে। এ ছাড়াও, আরও কয়েকটি বহুতল ভেঙে পড়েছে রুশ হামলায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার ভোরে দেশের বেশিরভাগ অংশ জুড়ে বিমান হামলার সতর্কতা জারি হয়েছে। কিভের বহু বাসিন্দা মেট্রো স্টেশন এবং অন্যান্য ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিচ্ছেন।
রুশ হামলার কারণে ইউক্রেনের রাজধানী কিভের অনেকাংশে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন। সেখানকার বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা ডিটিইকে সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, তাদের কর্মীরা জরুরি পরিস্থিতিতে অবস্থার উন্নতির চেষ্টা করছেন।