Janatar Darbar of Suvendu Adhikari

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর জনতার দরবারে গিয়ে ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ সঙ্গীতশিল্পীদের! তুললেন কাটমানি, সিন্ডিকেটের অভিযোগ

পূর্বতন সরকারের জমানায় সঙ্গীতজগতেও ‘সিন্ডিকেটরাজ’ চলত বলে অভিযোগ তোলেন ঋদ্ধি, দোলারা। তৎকালীন সরকারের তথ্য-সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন তাঁরা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ জুন ২০২৬ ১৪:১৮
Share:

মঙ্গলবার সল্টলেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবারে বিক্ষুব্ধ সঙ্গীতশিল্পীরা। — নিজস্ব চিত্র।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবারে এ বার হাজির সঙ্গীতশিল্পীরা। মঙ্গলবার সল্টলেকে বিজেপির দফতরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করলেন ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা মুখোপাধ্যায়-সহ অন্য সঙ্গীতশিল্পীরা। পূর্বতন সরকারের আমলে কী পরিস্থিতি ছিল, তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানান তাঁরা। তদানীন্তন সরকারের জমানায় সঙ্গীতজগতেও ‘সিন্ডিকেটরাজ’ চলত বলে অভিযোগ তোলেন ঋদ্ধি, দোলারা। আগের সরকারের তথ্য-সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন তাঁরা।

Advertisement

রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদলের পর থেকেই শিল্পীদের একাংশ মুখ খুলতে শুরু করেছেন ‘তৃণমূল সরকারের ঘনিষ্ঠদের’ বিরুদ্ধে। গত মাসের শেষের দিকে বিক্ষুব্ধ শিল্পীরা বাংলা আকাদেমির সামনে জড়ো হন। তৎকালীন সরকারের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে একটি ফোরামও গঠিত হয়। সেই সময়েও বার বার ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে আসে। এ বার নিজেদের সেই অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিলেন তাঁরা।

বিক্ষুব্ধ সঙ্গীতশিল্পীদের অভিযোগ, তৃণমূলের আমলে সঙ্গীত জগতে সিন্ডিকেটরাজ চলত। কাটমানি নেওয়া হত বলেও অভিযোগ। তৎকালীন মন্ত্রী ইন্দ্রনীলও নিজেদের ‘লবির’ সঙ্গীতশিল্পীদের সর্বত্র সরকারি অনুষ্ঠানে সুযোগ করে দিতেন, এমন অভিযোগও তোলেন বিক্ষুব্ধেরা। এর ফলে বহু যোগ্য সঙ্গীতশিল্পী সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি তাঁদের। বিক্ষুব্ধদের আরও অভিযোগ, বিভিন্ন শিল্পীকে সঙ্গীত পরিবেশনের সুযোগ করে দেওয়ার বদলে ‘কাটমানি’ নেওয়া হত। নতুন সরকারের আমলে যাতে এই ‘বঞ্চনার’ বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার হয়, সেই আর্জি জানিয়েছেন দোলা, ঋদ্ধিরা।

Advertisement

সঙ্গীতজগতে ‘সিন্ডিকেটের’ শিকার হওয়া শিল্পীদের দাবি, অতীতে তৃণমূল জমানায় বাংলাদেশ এবং অন্য দেশ থেকে আসা শিল্পীরাও অনুষ্ঠান করেছেন। কিন্তু এ রাজ্যের শিল্পীদের অনেকেই সরকারি অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশনের সুযোগ পাননি। তৎকালীন শাসকশিবিরের ‘হ্যাঁ’-তে ‘হ্যাঁ’ না-মেলানোর ফলেই এই বঞ্চনা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের। এই পরিস্থিতির বিহিত চেয়ে মঙ্গলবার সল্টলেকে জনতার দরবারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন বিক্ষুব্ধ শিল্পীরা। যোগ্যতার ভিত্তিতে যাতে শিল্পীরা সঠিক ভাবে কাজ পান, সে বিষয়টিও দেখার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান তাঁরা।

বিক্ষুব্ধ সঙ্গীতশিল্পীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে আনন্দবাজার ডট কম যোগাযোগ করে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীলের সঙ্গে। তিনি বলেন, “আমিও শুনলাম। আমি ফেসবুক ফলো করি না। গত ১৫ দিন ধরে আমার আশপাশের লোকজন অনেকে বলছিলেন। যাঁরাই এই অভিযোগ করে থাকুন, এ বিষয়ে মন্তব্য করাটা আমার রুচির মধ্যে পড়ে না। তা-ও আমি বলছি, বিগত ১৫ বছর ধরে হাজার হাজার শিল্পী পারফর্ম করেছেন। আগামী দিনে নতুন সরকারও নিশ্চয়ই তাঁদের দিয়ে পারফর্ম করাবে। আমার ব্যাপারে টাকা সংক্রান্ত যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সে বিষয়ে বলতে চাই, যে কয়েক লক্ষ শিল্পী পারফর্ম করেছেন, তাঁদের মধ্যে যে কোনও একজন শিল্পী তথ্য নিয়ে প্রমাণ করুন, কারও থেকে আমি পাঁচ টাকার মিষ্টিও খেয়েছি। তা হলে প্রশাসন যা পদক্ষেপ করবে, আমি তা মাথা পেতে নেব। যে ভাবে রাজনৈতিক রং লাগানো হচ্ছে, তা হতাশাজনক।”

সঙ্গীতশিল্পীদের পাশাপাশি অতীতের বিভিন্ন ভোট পরবর্তী অশান্তিতে আক্রান্তদের পরিবারও মঙ্গলবার পৌঁছে গিয়েছিল বিজেপির দফতরে। ন্যায়বিচারের আশায় মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হন তাঁরা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলির বাসিন্দা বাবুসেনা মণ্ডল নির্বাচন পরবর্তী অশান্তিতে ছ’বছরের সন্তানকে হারিয়েছেন বলে অভিযোগ। ২০১৪ সালের ভোট পরবর্তী অশান্তিতে ভাইকে হারিয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার রহড়ার বাসিন্দা শর্বাণী রায়। তিনিও ন্যায়বিচারের আশায় পৌঁছেছেন জনতার দরবারে। আবার কাকদ্বীপের বাসিন্দা ভোলানাথ শী-ও মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত। দাবি, চিকিৎসায় সাহায্যের আর্জি জানিয়ে বার বার আগের সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি। এ বার সরকার বদলের পরে চিকিৎসায় সাহায্যের আশায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement