Lakshmir Bhandar Row

নদিয়ার একটি ব্লকে ১৭৩ ‘লক্ষ্মী’ছেলে! ভোটের ২ মাস আগে থেকে মহিলাদের প্রকল্পের টাকা পাচ্ছিলেন ওই পুরুষেরা

সরকারি স্তরে জালিয়াতির অভিযোগে ভোলা শীল নামে বিডিও অফিসের এক কর্মীকে শো কজ় করা হয়েছে। যদিও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ জুন ২০২৬ ১৪:০৩
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরেই তিন হাজার এমন ‘কেস’ পাওয়া যাবে, যেখানে লক্ষ্মীর ভান্ডারের প্রাপক আদতে পুরুষ। তিনি জেলায় জেলায় ভুয়ো উপভোক্তাদের খুঁজে বার করাতে তদন্তে গতি বাড়াতে নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশকে। মঙ্গলবার পর্যন্ত নদিয়া জেলায় একটি ব্লকেই পাওয়া গেল ১৭৩ ‘লক্ষ্মী’ছেলেকে। যাঁরা পুরুষ হয়েও মহিলাদের জন্য চালু করা পূর্বতন তৃণমূল সরকারের প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছিলেন।

Advertisement

নদিয়া জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, কৃষ্ণনগর-২ ব্লকে অন্তত ১৭৩ জন ‘লক্ষ্মী’ছেলের হদিস পাওয়া গিয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জালিয়াতি করে তাঁরা টাকা নিচ্ছিলেন বা পাইয়ে দেওয়া হচ্ছিল তাঁদের। অর্থাৎ, বিধানসভা ভোটের দু’মাস আগে এঁদের নাম উঠেছে তালিকায়। এখন লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রাপকদের অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় আনার জন্য সরকারি তালিকা ঝাড়াই-বাছাই করতে গিয়ে ওই উপভোক্তাদের খোঁজ মিলেছে।

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ওই ১৭৩ জন লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রাপককে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের নাম যাতে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের উপভোক্তাদের তালিকা থেকে বাতিল করা হয়, সে জন্য জেলাশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন কৃষ্ণনগর-২ ব্লকের বিডিও। এ-ও জানা গিয়েছে, সরকারি স্তরে জালিয়াতির অভিযোগে ভোলা শীল নামে বিডিও অফিসের এক কর্মীকে শো কজ় করা হয়েছে। যদিও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর। অভিযুক্তের মায়ের দাবি, ছেলে তৃণমূল করেন বলেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হচ্ছে।

Advertisement

লক্ষ্মীর ভান্ডারের সুবিধা অন্যায্য ভাবে কারা নিচ্ছিলেন, তাঁদের খোঁজ চলছে জেলায় জেলায়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেছেন, রাজ্য পুলিশের ডিজি-কে নির্দেশ দিয়েছেন ‘সিট’ (বিশেষ তদন্তকারী দল) গঠন করে লক্ষ্মীর ভান্ডারের ভুয়ো প্রাপকদের খুঁজে বার করতে হবে। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘মানি লন্ডারিং কেসে (আর্থিক দুর্নীতি মামলায়) ওই সমস্ত মামলা ট্রান্সফার করা হবে।’’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘‘যিনি ভোটারই নন, তিনি কী ভাবে সামাজিক ভাতা পাবেন?’’ অনুপ্রবেশকারীদের পাশাপাশি শিশু এবং পুরুষও মহিলাদের জন্য দেওয়া সরকারি ভাতা উপভোগ করছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যে মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের রাকিবুল শেখ থেকে রঘুনাথগঞ্জের তারিকুর রহমান, মুস্তাফিজুর রহমান প্রমুখকে এই ‘জালিয়াতি চক্র’-এর অন্যতম বলা হচ্ছে। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘এ গুলো হিমশৈলের চূড়া মাত্র... এই সংখ্যাটা কত হবে আমরা জানি না।’’

অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা নিতে যাঁরা আবেদন করেছেন, সোমবার তাঁদের বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘২০ টাকার ঢেঁড়স কিনতে গেলেও টিপে দেখেন। আর বছরে ৩৬ হাজার টাকা দেবে, একটু সহযোগিতা করুন না! উচিত প্রাপকেরা অবশ্যই সুবিধা পাবেন। তাড়াহুড়ো করবেন না।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement