ফিরোজ়া রঙের জল, নারকেল গাছের ছায়ামাখা ‘কোকোনাট আইল্যান্ড’-এর ঠিকানাটি এ দেশেই

ভারতেই আছে ‘কোকোনাট আইল্যান্ড’। সাগর পারে নারকেল গাছের সারি সেখানে যোগ করেছে বাড়তি সৌন্দর্য। সেই স্থানে কী ভাবে যায়?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৩ জুন ২০২৬ ০৯:৪৩
Share:
০১ ১৯

এ এক এমন দ্বীপপুঞ্জ, যাকে বেড় দিয়ে রেখেছে নারকেল গাছ। সবুজ গাছের সারির পাশেই সাদা বালুতট। আর সেই তটকেই ছুঁয়ে যায় শান্ত নীল সমুদ্র। খেলা করে নোনা হাওয়া।

০২ ১৯

৩৬টি ছোট বড় দ্বীপের সমাহারে তৈরি ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লক্ষদ্বীপ। নোনা জল-হাওয়া, বালিময় দ্বীপগুলিতে অনায়াসেই বেড়ে ওঠে নারকেল গাছ। দ্বীপগুলি যেন ছেয়ে থাকে নারকেল গাছের সারিতে। তাই অনেকে একে ‘কোকোনাট আইল্যান্ড’ বা নারকেলের দ্বীপও বলেন।

Advertisement
০৩ ১৯

লক্ষদ্বীপের বেশির ভাগ দ্বীপেই রয়েছে নারকেল গাছ। নারকেল এই অঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফলও। সামুদ্রিক জল-হাওয়ায় ম্যানগ্রোভ এবং নারকেল গাছই মূলত বেড়ে ওঠে। দেখলে মনে হবে, নারকেল গাছ যেন দ্বীপগুলিকে ঘিরে রেখেছে।

০৪ ১৯

কেরল থেকে ২২০-৪৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে লক্ষদ্বীপের দ্বীপগুলি। তার মধ্যে সব ক’টিতে পর্যটক প্রবেশের অনুমতিও নেই। মাত্র ১০টি দ্বীপে মানুষজন বসবাস করেন। বাকি দ্বীপগুলি আকারে ছোট। কোনও কোনও দ্বীপ শুধুই নারকেল গাছে ভরা।

০৫ ১৯

এমন ছবির মতো দ্বীপ ভারতের অন্যতম পর্যটন ক্ষেত্র। লক্ষদ্বীপের সৌন্দর্য তুলনীয় মলদ্বীপের সঙ্গে। আরব সাগর, মিহি বালুকণার সৈকত, ফিরোজ়া, ঘন নীল কখনও আসমানি রঙের খেলা দেখা যায় এখানকার সমুদ্রে।

০৬ ১৯

লক্ষদ্বীপের অন্যতম আকর্ষণ হল এখানকার লেগুন (শান্ত, অগভীর উপহ্রদ, যা প্রবাল প্রাচীর দ্বারা বিচ্ছিন্ন থাকে)। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আছেই, সমুদ্রের নীচের প্রাণিজগৎও পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। এখানে রয়েছে প্রবাল প্রাচীর। বিভিন্ন রকম প্রবালের বৈচিত্র চাক্ষুষ করা যায় গ্লাস বটম বোটে চড়ে, স্কুবা ডাইভিং বা স্নর্কেলিং করলে।

০৭ ১৯

লেগুনের নীচে সাদা বালি থাকে। অগভীর সেই উপহ্রদের জলে রোদ পড়লেই রঙের বর্ণালি প্রতিফলিত হয়। কায়াকিং, স্নর্কেলিং, স্কুবা ডাইভিংয়ের সুযোগ রয়েছে এখানে। সমুদ্রের নীচের জীবজগৎ দেখার জন্য রয়েছে গ্লাস বটম বোটও।

০৮ ১৯

কাভারাত্তি, অগাত্তি, বাঙ্গারাম— দ্বীপ তিনটি পর্যটনের জন্য প্রসিদ্ধ। দ্বীপের শান্ত প্রকৃতি, সৌন্দর্যের টানে পর্যটকেরা আসেন। কাভারাত্তিতে নানা রকম জলক্রীড়ার সুযোগ রয়েছে। লক্ষদ্বীপের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র সম্পর্কে জানার জন্য রয়েছে অ্যাকোয়ারিয়াম এবং মিউজ়িয়াম।

০৯ ১৯

কাভারাত্তি লক্ষদ্বীপের প্রশাসনিক কেন্দ্র। তবে এখানে বিমানবন্দর নেই। যাতায়াতের জন্য কোচি থেকে জাহাজ আছে। অগাত্তিতে রয়েছে বিমানবন্দর। সেখান থেকে জলপথে কাভারাত্তি পৌঁছোতে হয়।

১০ ১৯

অগাত্তি লক্ষদ্বীপের আর একটি সুন্দর দ্বীপ। এখানে বিমান অবতরণের মূহূর্ত আজীবনের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারে। নীল জলরাশির মধ্যে দ্বীপ, তার উপর রানওয়ে। বিমান অবতরণের সময় সেই সৌন্দর্যের সাক্ষী থাকা যায়।

১১ ১৯

সৈকত থেকে অগাত্তির যত ভিতরে যাওয়া যায়, নারকেল গাছে ঘেরা ছোট ছোট গ্রাম চোখে পড়ে। কাঠের কটেজের মতো হোটেল। বাঁধানো, রাস্তাঘাট। শান্ত জনজীবন। রয়েছে ছোটখাটো দোকানপাট।

১২ ১৯

হেঁটে বা সাইকেল ভাড়া করে দ্বীপটি ঘোরা যায়। অটো রিকশও আছে দ্বীপটি ঘেরাার জন্য। অগাত্তির কাছেই রয়েছে বাঙ্গারাম এবং থিনকারা দ্বীপ। স্পিডবোট ভাড়া করে দ্বীপগুলি ঘুরে আসা যায়। অগাত্তির পশ্চিমের সৈকতগুলি থেকে দারুণ সূর্যাস্ত দেখা যায়।

১৩ ১৯

বাঙ্গারাম এখানকার আর একটি পর্যটক-বান্ধব দ্বীপ। সমুদ্রের ধারেই বিলাসবহুল কটেজে থাকার বন্দোবস্ত রয়েছে। লক্ষদ্বীপের অন্য দ্বীপের মতোই এটিও অত্যন্ত নির্জন।

১৪ ১৯

ভ্রমণের সঙ্গে জুড়ে থাকে সেই স্থানের সংস্কৃতি এবং খাবার। লক্ষদ্বীপের জনপ্রিয় খাবারের তালিকায় রয়েছে মাস কবাব, অক্টোপাস ভাজা, কিলাঞ্জি, হালুয়া, কুলক্কি শরবৎ।

১৫ ১৯

মাস কবাব হল মাছের পদ। নারকেল ও মশলা মাখিয়ে মাছটি রান্না করা হয়। সাধারণত টুনা মাছ ব্যবহার করা হয়। স্টার্টার হিসাবে এটি খাওয়া হয়। যেহেতু লক্ষদ্বীপে বেশ গরম এবং আর্দ্রতার কারণে ঘাম হয়, তাই কুলক্কি শরবৎ বেশ জনপ্রিয়। লেবু, পুদিনা সহযোগে এটি তৈরি করা হয়।

১৬ ১৯

লক্ষদ্বীপ যেতে হলে আগাম অনুমতি প্রয়োজন। লক্ষদ্বীপ প্রশাসনের অফিশিয়াল ই-পারমিট পোর্টালে গিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে ব্যক্তিগত তথ্য এবং ভ্রমণের তারিখ, জরুরি নথি আপলোড করে অনুমতি চাইতে হয়। অন্তত ১৫ দিন আগে সেই কাজটি করে ফেলা জরুরি।

১৭ ১৯

লক্ষদ্বীপ পর্যটন বিভাগের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ট্যুর প্যাকেজ বা রিসর্ট বুক করলে তাঁরাও অনুমতির ব্যবস্থা করে দেন।

১৮ ১৯

লক্ষদ্বীপ যাওয়া যায় দু’ভাবে— জলপথে এবং বিমানে। কোচি এবং গোয়া থেকে বিমানে লক্ষদ্বীপ যাওয়া যায়। নামতে হবে অগাত্তিতে। আবার ফোর্ট কোচি থেকে সরকারি ট্যুর প্যাকেজে কিংবা সরকারি জাহাজেও সেখানে পৌঁছনো যায়।

১৯ ১৯

ফোর্ট কোচি থেকে সরাসরি সরকারি প্যাকেজ বুক করেও ট্যুর করা যায় জাহাজে। ডায়মন্ড এবং গোল্ড ক্লাস থাকে। কোন পরিষেবা নেওয়া হচ্ছে, তার উপর খরচ নির্ভর করে।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on:
আরও গ্যালারি
Advertisement