Google’s mosquito control project

মশককুলের বিরুদ্ধে লড়বে মশাই! ডেঙ্গি, চিকনগুনিয়া, জিকা রুখতে আমেরিকা জুড়ে কোটি কোটি মশা ছাড়বে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা

মার্কিন বহুজাতিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা গুগ্‌লের ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘ডিবাগ’ পরিকল্পনাটির মূল লক্ষ্য হল মশাবাহিত রোগের প্রভাব কমানোর উন্নততর উপায় উদ্ভাবন করা। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মারণ রোগবাহী মশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে আসছে এই প্রকল্পটি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০২ জুন ২০২৬ ১৩:৩৯
Share:
০১ ১৫

একেই বলে কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা। মশার উপদ্রব কমাতে মশাকেই ব্যবহার করবে সরকার! মশার ভনভনানি ও হুলের কামড় বিরক্তির উদ্রেক করলেও মশার প্রকোপ বৃদ্ধি করতে চাইছে প্রশাসনই। বিষয়টি শুনতে কিছুটা খাপছা়ড়া বা ভীতিপ্রদ শোনালেও বাস্তবে এমনই প্রযুক্তি ব্যবহার করবে বিশ্বের অন্যতম তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা গুগ্‌ল।

০২ ১৫

গুগ্‌লের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের জীববিজ্ঞান গবেষণা শাখা ‘ভ্যারিলি’র পক্ষ থেকে ক্যালিফর্নিয়ার ফ্রেসনো কাউন্টিতে পরীক্ষামূলক ভাবে কোটি কোটি মশা ছাড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রোগবাহী এই পতঙ্গের সংখ্যা কমাতে রাজ্যটিতে প্রায় ৩ কোটি ২০ লক্ষ মশা ছাড়ার জন্য ফেডারেল সরকারের নিয়ন্ত্রকদের কাছে অনুমতি চেয়েছে গুগ্‌ল।

Advertisement
০৩ ১৫

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, অনুমতি পেলে একসঙ্গে এই বিপুল পরিমাণ মশাকে ছেড়ে দেওয়া হবে না। ধাপে ধাপে দু’বছর ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মশাদের প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া হবে। রক্তচোষা পতঙ্গগুলিকে কেবল সেই কয়েকটি অঞ্চলে ছাড়া হবে যেখানে রোগের সংক্রমণের হার বেশি দেখা গিয়েছে। বিশেষ করে ফ্লরিডা ও ক্যালিফর্নিয়ার একাধিক অঞ্চলে মশার প্রাদুর্ভাব যথেষ্ট বেশি।

০৪ ১৫

এই পরিকল্পনাটির পোশাকি নাম ‘ডিবাগ ফ্রেনসো’। ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘ডিবাগ’-এর মূল লক্ষ্য হল মশাবাহিত রোগের প্রভাব কমানোর উন্নততর উপায় উদ্ভাবন করা। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মারণ রোগবাহী মশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে আসছে এই প্রকল্পটি।

০৫ ১৫

গবেষণাগারে প্রজনন করানো যে কোটি কোটি মশা প্রকৃতিতে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে, সেগুলি সবই পুরুষ এডিস ইজিপ্টাই মশা। পুরুষ মশা মানুষকে কামড়ায় না। তারা কেবল গাছের রস খেয়ে বাঁচে। তাই এই মশাগুলি ছাড়ার কারণে মানুষের কামড় খাওয়ার বা অতিষ্ঠ হওয়ার কোনও আশঙ্কা নেই বলে দাবি।

০৬ ১৫

গবেষণাগারে পুরুষ মশাগুলিকে এমন ভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে তারা রোগ বহনে অক্ষম হয়। এর ফলে সংক্রমণ ও প্রজননের হার কমবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা। এডিস মশার বংশবৃদ্ধি প্রায় বন্ধ করে দেওয়ার জন্য প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্ট একটি ব্যাক্টেরিয়ার সাহায্য নেওয়া হয়েছে।

০৭ ১৫

প্রকল্পটি সফল করার জন্য, গুগ্‌লের বিজ্ঞান শাখা পুরুষ মশাগুলিকে ‘ওলবাচিয়া পিপিয়েন্টিস’ নামের ব্যাক্টেরিয়ার একটি নির্দিষ্ট স্ট্রেন দ্বারা সংক্রমিত করার পরিকল্পনা করেছে। এই ব্যাক্টেরিয়া আক্রান্ত পুরুষ মশাগুলি যখন প্রকৃতিতে মিশে গিয়ে সাধারণ স্ত্রী এডিস ইজিপ্টাই মশার সঙ্গে মিলিত হয়, তখন সেই স্ত্রী মশার ডিমগুলি থেকে আর কোনও মশার বাচ্চার জন্ম হয় না।

০৮ ১৫

চিরাচরিত কীটনাশক বা রাসায়নিক ব্যবহারের বড় সমস্যা হল সেগুলি ক্ষতিকর পোকামাকড়ের পাশাপাশি মৌমাছি বা অন্যান্য উপকারী পোকাকেও মেরে ফেলে। তাতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। তা ছাড়া দীর্ঘ দিন ব্যবহারে পোকারা কীটনাশক প্রতিরোধী হয়ে ওঠে।

০৯ ১৫

এডিস ইজিপ্টাই মশা মূলত ডেঙ্গি, জিকা এবং চিকনগুনিয়ার মতো মারাত্মক ভাইরাস ছড়ায়। ক্যালিফর্নিয়ার ওই অঞ্চলে এই মশার উপদ্রব খুব বেড়ে যাওয়ার বাধ্য হয়ে এই পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ প্রযুক্তির শরণাপন্ন হয়েছে প্রশাসন। এর মাধ্যমে কোনও ক্ষতিকর রাসায়নিক বা কীটনাশক ব্যবহার না করেই মশার সংখ্যা প্রায় ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব বলে দাবি পরিবেশ বিজ্ঞানীদের একাংশের।

১০ ১৫

যে কোনও জৈবপ্রযুক্তি বা জেনেটিক্যালি মডিফাইড অর্গানিজ়ম যখন প্রকৃতিতে উন্মুক্ত করা হয়, তখন তা কঠোর আইনি ও পরিবেশগত নজরদারির আতশকাচের নীচে ফেলা হয়ে থাকে। গুগ্‌ল বা তার সহযোগী প্রতিষ্ঠান ভ্যারিলির ক্ষেত্রেও এর কোনও ব্যতিক্রম হয়নি।

১১ ১৫

মশা বা পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণের এই জৈবিক পদ্ধতিগুলিকে এক ধরনের জৈব-কীটনাশক হিসাবে গণ্য করা হয়, যার চূড়ান্ত অনুমোদনের ছাড়পত্র মেলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার কাছ থেকে।

১২ ১৫

গবেষণাগারে তৈরি এই পুরুষ মশাগুলি কামড়ায় না ঠিকই, কিন্তু কামড়ালে মানুষের কোনও অ্যালার্জি বা নতুন রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি আছে কি না, তা একশো শতাংশ নিশ্চিত করার পরই প্রকৃতিতে ছাড়ার অনুমোদন মিলবে।

১৩ ১৫

কোনও এলাকা থেকে একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির মশা হঠাৎ কমে গেলে সেখানকার খাদ্যশৃঙ্খলে কোনও প্রভাব পড়বে কি না (যেমন ব্যাঙ, টিকটিকি বা মাকড়সা, যারা মশা খেয়ে বাঁচে) কিংবা তাদের খাদ্যের সঙ্কট দেখা দেবে কি না— তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাধারণত এডিস ইজিপ্টাই মশা বহিরাগত প্রজাতি হওয়ায় এটি নির্মূলে বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতির ঝুঁকি প্রায় থাকে না বললেই চলে।

১৪ ১৫

ফেডারেল রেজিস্টারে গুগ্‌লের দাখিল করা নথিতে একটি দুই পর্যায়ের পরিকল্পনার রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। প্রথম বছরে, ফ্লোরিডা এবং ক্যালিফর্নিয়া জুড়ে পরীক্ষাগারে জন্মানো ও বন্ধ্যা করা ১ কোটি ৬০ লক্ষ পুরুষ মশা ছাড়া হবে। দ্বিতীয় বছরে আরও ১ কোটি ৬০ লক্ষ মশা ছাড়া হবে।

১৫ ১৫

মার্কিন ফেডারেলের কাছে জমা দেওয়া নথিতে মশা ছাড়ার পরীক্ষাটি ঠিক কোন স্থানে অনুষ্ঠিত হবে তা উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি প্রকল্পটি শুরুর তারিখও জানানো হয়নি। প্রস্তাবটি বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার কাছে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

সব ছবি: সংগৃহীত।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on:
আরও গ্যালারি
Advertisement