Jared Kushner

আমেরিকা-ইরানের যুদ্ধ হতই না! ঝামেলা পাকানোর নেপথ্যে ‘ধুরন্ধর’ ট্রাম্প-জামাতা? নেপথ্যে ছিল ভয়ঙ্কর চাল!

জ্যারেড কুশনারের বাবা চার্লস কুশনার ছিলেন বিত্তশালী ব্যবসায়ী। ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। একসময় নেতানিয়াহু আমেরিকা এলে হোটেলে না থেকে তাঁদের বাড়িতেই থাকতেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০২ জুন ২০২৬ ১০:৩০
Share:
০১ ১৯

আমেরিকা এবং ইরানের সংঘর্ষের আবহে এমন এক জন যাঁকে নিয়ে কোনও কথা হচ্ছে না, কিন্তু হওয়া উচিত ছিল। তাঁর কোনও কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা নেই। কিন্তু তিনিই বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ভয়ঙ্কর সংঘর্ষ রোধের জন্য আলোচনা চালাচ্ছেন। এমন এক জন যাঁর পারিবারিক বন্ধু ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী। বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। তাঁর ছত্রছায়ায় বড় হয়েছেন। বহু বছর পর তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কন্যাকে বিয়ে করেন। তিনি জ্যারেড কুশনার। ট্রাম্প-কন্যা ইভাঙ্কার স্বামী।

০২ ১৯

পশ্চিম এশিয়ার কূটনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠার কথা কখনওই ছিল না কুশনারের। তবুও কোনও ভাবে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের জামাতা রয়েছেন শত কোটি ডলারের উপসাগরীয় চুক্তি, ইজ়রায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা সম্পর্কিত আলোচনার কেন্দ্রে। ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শৈশবের সম্পর্ক থেকে শুরু করে আব্রাহাম চুক্তি এবং ইজ়রায়েলি বাজারে সৌদি বিনিয়োগের অর্থের প্রবাহ আনা— জ্যারেডের কাহিনি রাজনীতির চেয়েও অনেক গভীর।

Advertisement
০৩ ১৯

কুশনারের বাবা চার্লস কুশনার ছিলেন বিত্তশালী ব্যবসায়ী। ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। একসময় নেতানিয়াহু আমেরিকা এলে হোটেলে না থেকে তাঁদের বাড়িতেই থাকতেন। খুব ছোটবেলা থেকেই ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রীর ছত্রছায়ায় থেকেছেন জ্যারেড। কাছ থেকে দেখেছেন নেতানিয়াহুকে। দুর্জনে বলে, ধনী বাবার দৌলতে হার্ভার্ডে পড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন কুশনার। সেই সূত্রে মার্কিন দেশের ক্ষমতাবানদের সঙ্গেও কুশনারের সখ্য রয়েছে আগে থেকেই। কুশনারের পরিবার বরাবর ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট নির্বাচন তহবিলে বড় অঙ্কের চাঁদা দিতেন। ফলে রিপাবলিকানের পাশাপাশি ডেমোক্র্যাট মহলেও কুশনারের যাতায়াত ছিল অবাধ।

০৪ ১৯

পড়াশোনা শেষ করে জ্যারেডও ব্যবসায় পা দেন। ট্রাম্পের মতো রিয়্যাল এস্টেট ব্যবসা রয়েছে তাঁরও। আড়ে-বহরে ট্রাম্পের সমান না হলেও সেই ব্যবসায় থেমে থাকেননি কুশনার। ২০০৬-এ ‘নিউ ইয়র্ক অবজ়ারভার’ পত্রিকা কিনে নেন কুশনার। এ ছাড়াও ডিজিটাল ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন। বিস্তৃত করেন ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য। ২০০৯ সালে ট্রাম্প-কন্যা ইভাঙ্কাকে বিয়ে করেন কুশনার। ট্রাম্প পরিবারের প্রিয় পাত্র হয়ে ওঠেন। ২০১৬ সালের আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে শ্বশুরের হয়ে ঝোড়ো প্রচার চালিয়েছিলেন কুশনার। সে বারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় বিস্ময় ছিলেন তিনি। প্রায় কপর্দকশূন্য অবস্থায় নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে জয় নিয়ে আসেন। আর এ কাজে নিবিড় ভাবে ব্যবহার করেন সমাজমাধ্যমকে।

০৫ ১৯

শ্বশুরের লড়াইয়ে কিন্তু প্রথম থেকে জড়িয়ে ছিলেন না কুশনার। খানিকটা বাইরে থেকেই লক্ষ রাখছিলেন। করব্যবস্থা এবং ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ে শ্বশুরকে পরামর্শ দিচ্ছিলেন। কিছুটা গবেষণার কাজে সাহায্য করছিলেন। কিন্তু ক্রমেই কুশনার শ্বশুরের প্রতি আগ্রহীদের যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে উঠছিলেন। কুশনার বুঝেছিলেন ট্রাম্প নির্মাণশিল্পের মহারাজ হলেও ট্যাকের জোরে হিলারির সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা নেই। তবে একটা বিষয়ে ট্রাম্প প্রথম থেকে জোর দিয়েছিলেন। নির্বাচনী তহবিলে যা চাঁদা উঠছে তার প্রত্যেকটি ডলারের যেন উপযুক্ত ব্যবহার হয়। কিন্তু কোন পথে? নির্বাচনী প্রচারে সমাজমাধ্যমকে কম ব্যবহার করা হচ্ছে বলে শ্বশুরের কাছে অনুযোগ করছিলেন কুশনার। বদলে ট্রাম্প কুশনারকেই ফেসবুকে তাঁর হয়ে প্রচারের দায়িত্ব নিতে বলেন।

০৬ ১৯

ট্রাম্পের প্রথাগত নির্বাচনী প্রচারের ভোল বদলে দেন কুশনার। তথ্যপ্রযুক্তি জগতের বিশেষজ্ঞদের ব্যবহার করতে থাকেন। ধীরে ধীরে ট্রাম্পের প্রচারের সিইও হয়ে ওঠেন তিনি। অন্য দিকে, হিলারি তাঁর বিপুল তহবিল এবং রাজনৈতিক যোগাযোগ নিয়ে অনেকটা ২০০৮-এ ওবামার ধাঁচে প্রচার চালাতে থাকেন। কিন্তু গত আট বছরে অনেক কিছু বদলে গিয়েছিল। বিশেষ করে সমাজমাধ্যমে যে বিপুল উত্থান হয়েছে সে দিকে বিশেষ নজর দেননি। সেই খামতির পূর্ণ সুযোগ নিয়েছিলেন কু‌শনার। ট্রাম্পের প্রতিটি মন্তব্য মার্কিন জনতার ঠিক অংশের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল কুশনারের কৌশলে।

০৭ ১৯

ট্রাম্প রিপাবলিকান দলের প্রার্থীপদ পাওয়ার পর থেকে পুরোদস্তুর তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের মতো ডে়টা হাব বানিয়ে ফেলেছিলেন কুশনার। সেই হাবে প্রায় ১০০ জন কর্মী ছিলেন। অর্থ সংগ্রহ, প্রচারের জায়গা স্থির করা, কোন অংশের কাছে কোন বার্তা পাঠানো হবে— সবই হাবে স্থির হত। প্রতিটি পয়সা যাতে ঠিকঠাক ব্যয় হয় তার দিকে কুশনারের কড়া নজর ছিল। কী ভাবে সবচেয়ে কম খরচে ভোটারদের কাছে পৌঁছোনো যায় সে দিকেও নজর রাখা হত। প্রতিটি বিজ্ঞাপনের দিকে নজর দেওয়া হত। যে বিজ্ঞাপন সাড়া ফেলতে পারত না তৎক্ষণাৎ তা সরিয়ে দেওয়া হত। জনতার কোন অংশে ট্রাম্পের বার্তা কী ভাবে পৌঁছে দেওয়া যায় তা নিয়েও নানা সমীক্ষার সাহায্য নেওয়া হত। মনে করা হয় ট্রাম্পকে ২০১৬-এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন জিততে সাহায্য করেছিল কুশনারের সেই কৌশলই।

০৮ ১৯

ট্রাম্প প্রথম বারের জন্য আমেরিকার প্রেসিডেন্টের গদিতে বসার পর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে বসেন তাঁর জামাই কুশনারও। প্রেসিডেন্টের অন্যতম মুখ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব পান তিনি। পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার প্রতিনিধির ভূমিকাও পালন করতে দেখা যায় তাঁকে। কুশনারকে ইজ়রায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘাতে শান্তি মধ্যস্থতার দায়িত্ব দেন ট্রাম্প। যদিও কুশনারের কোনও বৈদেশিক কূটনীতির অভিজ্ঞতা বা পশ্চিম এশিয়ার অভিজ্ঞতা ছিল না। ২০১৭ সালের ২৪ অগস্ট প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলতে ইজ়রায়েল যান কুশনার। এর পর তিনি পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করার প্রচেষ্টায় প্যালেস্টাইনের প্রেসিডেন্ট মেহমুদ আব্বাসের সঙ্গে দেখা করতে যান।

০৯ ১৯

কুশনারের মধ্যস্থতাতেই ২০২০ সালের অগস্ট মাসে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ইজ়রায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়, যা দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ দিনের সম্পর্ককে স্বাভাবিক করে তোলে এবং অবশেষে প্রথম আব্রাহাম চুক্তি সাক্ষরিত হয়। ১৯৯৪ সালে জর্ডনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পর ইজ়রায়েল এবং অন্য কোনও আরব দেশের মধ্যে প্রথম সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তি ছিল আব্রাহাম চুক্তি। এই চুক্তির অংশ হিসাবে, নেতানিয়াহু ওয়েস্ট ব্যাঙ্কে বসতি সংযুক্তিকরণ স্থগিত করেন, যা কুশনার শান্তি পরিকল্পনার কয়েক মাস আগেই অনুমোদন করেছিল।

১০ ১৯

এর পর ২০২০ সালে আমেরিকায় পালাবদলের পরে হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টার পদ ছাড়তে হয় কুশনারকে। এর কিছু দিন পরেই কুশনার জানিয়ে দেন, তিনি তাঁর চাকরি ভালবাসলেও আমেরিকার একজন শীর্ষ কর্মকর্তা হিসাবে যে কড়া নজরদারির মধ্যে তাঁকে থাকতে হত, তা তিনি অপছন্দ করতেন। এর পর একটি প্রাইভেট-ইকুইটি ফার্ম তৈরি করেন কুশনার।

১১ ১৯

প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করা বন্ধ করার মাত্র ছ’মাস পরেই কুশনারের সংস্থা ভারত, আফ্রিকা, পশ্চিম এশিয়া এবং এশিয়ার অন্যান্য অংশে থাকা আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলি সংস্থাগুলিতে বিনিয়োগের জন্য ২০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে সৌদির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সলমনের নেতৃত্বাধীন একটি তহবিল থেকে ২০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ গ্রহণ করেন তিনি। কুশনার সে সময় বলেছিলেন যে তিনি সৌদি আরব এবং ইজ়রায়েলের মধ্যে একটি বিনিয়োগ করিডর তৈরির চেষ্টা করছেন, যা আন্তর্জাতিক ভাবে ‘দুই ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে উষ্ণ সম্পর্কের লক্ষণ’ হিসাবে বিবেচিত হবে।

১২ ১৯

২০২১ সালে ‘অ্যাফিনিটি পার্টনার্স’ নামে একটি বিনিয়োগ সংস্থা শুরু করেন কুশনার। উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে তহবিল সংগ্রহ করে নতুন শুরু হওয়া একাধিক সংস্থার হাতে তা তুলে দিত কুশনারের সংস্থা। সৌদি সরকারের সার্বভৌম সম্পদ তহবিল, পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (পিআইএফ) উপদেষ্টারা এই লেনদেন সম্পর্কে বেশ কিছু উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন— যার মধ্যে ছিল অ্যাফিনিটি ব্যবস্থাপনার অনভিজ্ঞতা, সৌদির উপর ঝুঁকির মাত্রা এবং অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ফি। অ্যাফিনিটির কার্যক্রম ‘সব দিক থেকে অসন্তোষজনক’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন অনেকে।

১৩ ১৯

যাই হোক, সে সব অগ্রাহ্য করে সংস্থা চালাতে থাকেন কুশনার। বিনিয়োগ তুলতে শুরু করেন পশ্চিম এশিয়া থেকে। সংস্থাটি মূলত সৌদির অর্থের উপর নির্ভরশীল ছিল। সেই টাকা ইজ়রায়েলেও বিনিয়োগ করত অ্যাফিনিটি। কুশনারের হাত ধরেই সৌদির অর্থে চাঙ্গা হচ্ছিল ইজ়রায়েলের অর্থনীতি। অর্থাৎ, দু’টি দেশ, যারা দশকের পর দশক ধরে একে অপরের প্রতিপক্ষ ছিল, তারা অর্থনৈতিক ভাবে সংযুক্ত হয়ে পড়ে কুশনারের সংস্থার মাধ্যমে। তবে পশ্চিম এশিয়ার এই পুরো অর্থপ্রবাহ থেকে ইচ্ছাকৃত ভাবেই ইরানকে বাদ রেখেছিলেন কুশনার। ইরান ব্যতীত বাকি পশ্চিম এশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করার কাজ করছিলেন তিনি।

১৪ ১৯

এর পর ২০২৪ সালে আবার পালাবদল হয় আমেরিকায়। নির্বাচনে জিতে দ্বিতীয় বারের জন্য প্রেসিডেন্টের আসনে বসেন ট্রাম্প। যদিও ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পরেও দীর্ঘ দিন চর্চার আড়ালেই ছিলেন কুশনার। মেতে ছিলেন ব্যবসা নিয়েই। এর পর আমেরিকার রাজনীতিতে কুশনারের আবার প্রত্যাবর্তন হয় ২০২৫ সালে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজ়া শান্তি চুক্তি বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে মিশরে বৈঠকে বসেছিলেন ইজ়রায়েল এবং হামাসের প্রতিনিধিরা। ট্রাম্পের জামাই কুশনার ও আমেরিকান প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ হুইটকফও ছিলেন সেই বৈঠকে।

১৫ ১৯

আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরুর কয়েক দিন আগে আবার আমেরিকার রাজনীতিতে প্রবেশ ঘটে কুশনারের। ওমানের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ ভাবে কথা চলছিল দু’পক্ষের। আমেরিকার তরফে কথাবার্তা চালাচ্ছিলেন কুশনার এবং হুইটকফই। আমেরিকার মূল্যায়ন ছিল, আমেরিকার সঙ্গে সংঘাতে জড়াবে না ইরান। কথাবার্তার মাধ্যমেই পুরোটা মিটে যাবে।

১৬ ১৯

বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি, আলোচনা নিয়ে ক্রমাগত বিরক্ত হচ্ছিল ইরান। সাবেক পারস্য দেশের প্রতিনিধিরা আমেরিকান প্রেসিডেন্টের জামাই এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূতের সঙ্গে কোনও রকম ভাবেই আলোচনা করতে রাজি হচ্ছিলেন না। আলোচনার জন্য আমেরিকার তরফে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সকে চাইছিলেন তাঁরা। কিন্তু তেমনটা হয়নি। ফলে দু’পক্ষের আলোচনাও ফলপ্রসূ হয়নি।

১৭ ১৯

এক জন পশ্চিম এশিয়া বিশারদ কূটনীতিবিদকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল, আলোচনা চলাকালীন বার বার ইজ়রায়েলি স্বার্থের পক্ষে কথা বলছিলেন কুশনার এবং উইটকফ। ট্রাম্পের জামাইয়ের বিরুদ্ধে এ-ও অভিযোগ ওঠে, বাকি পশ্চিম এশিয়ার সঙ্গে নিজের ব্যবসায়িক স্বার্থকেও প্রাধান্য দিয়েছিলেন কুশনার। তাই তিনি আদতে কোনও মধ্যস্থতা চাইছিলেনই না। অভিযোগ ওঠে, কুশনার এবং উইটকফ— দু’জনের প্ররোচনাতেই আলাপ-আলোচনার বদলে ইরানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে আমেরিকা। ইরানে আকাশপথে আমেরিকার হামলা চালানোর সিদ্ধান্তও ছিল কুশনার এবং উইটকফের।

১৮ ১৯

এর পর আবার ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ-পরবর্তী শান্তিচুক্তির জন্যও সেই কুশনার এবং উইটকফকেই পাঠিয়েছিলেন ট্রাম্প। ভাইস প্রেসিডেন্ট ভান্সের পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে ব্যর্থ শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে ইসলামাবাদে গিয়েছিলেন কুশনারও। কোনও পদ, দায়িত্ব বা কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাফল্য না থাকা সত্ত্বেও— কেবল ‘প্রেসি়ডেন্টের জামাতা’ হিসাবে দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম ১৪ মাসে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ভলোদিমির জেলেনস্কি-সহ বিশ্বনেতাদের পাশাপাশি সৌদি এবং পশ্চিম এশিয়ার অনেক নেতার সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন কুশনার।

১৯ ১৯

কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতে, ইজ়রায়েল এবং ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষার জন্য আমেরিকাকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন কুশনারই। পাশাপাশি, কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও কেবলমাত্র ট্রাম্পের জামাই বলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনায় কুশনারের যোগদান নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনকে।

সব ছবি: সংগৃহীত।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on:
আরও গ্যালারি
Advertisement